www.durbinnews.com::জানি এবং জানাই

সাইফ পাওয়ারটেকের তরফদার রুহুল আমিনের হাত ধরে অনন্য উচ্চতায় চট্রগ্রাম বন্দর



 নিজস্ব প্রতিনিধি    ৫ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার, ২:২৭   লাইফ বিভাগ


শুরুটা ২০০৪ সাল থেকে। হাঁটি হাঁটি পা পা করে তখন এগোচ্ছে বাংলাদেশের ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র চট্রগ্রাম বন্দর। কারিগরী নানা সীমাবদ্ধতায় মাঝে মধ্যেই হোঁচট খেতে হচ্ছিলো বন্দরটিকে। এতে কিছুটা ঝুঁকির মধ্যে পড়েন ব্যবসায়ীরা। তখন বছরে  ২ লাখ ১০ হাজার  টিইউএস কন্টেইনার  উঠানামা হত। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কয়েক গুন। এ সময়ের মধ্যে আমূল পরিবর্তন হয়েছে চট্রগ্রাম বন্দরের। সরকারের পাশাপাশি বন্দরটিকে ব্যবসা সফল করে তুলতে এককভাবে অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন সাইফ পাওয়ারটেকের কর্ণধার তরফদার রুহুল আমিন। বাংলাদেশে একমাত্র প্রাইভেট কন্টেইনার টার্মিনাল অপারেটর হিসেবে সাইফ পাওয়ারটেক দশ বছর টার্মিনাল অপারেশনের সঙ্গে জড়িত রয়েছে । আর এ সময়ের মধ্যে চট্রগ্রাম বন্দকে কতটুকু বদলে দিয়েছেন পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ। সাইফ পাওয়ারটেক অপারেশন শুরু করার পর চট্টগ্রাম বন্দর ২০১৭ সালে ২৫ লাখ টিইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করে । এর মধ্যে সাইফ পাওারটেকের ১৪ লাখ টিইইউএস কন্টেইনার। ২০১৮ সালে প্রায় ১৫ লাখ টিইউএস অতিক্রম করে প্রতিষ্ঠানটি। সবমিলিয়ে সাইফ পাওয়ারটেক চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কন্টেইনার উঠানামার ষাট ভাগ কন্টেইনারই হ্যান্ডলিং করছে সফলতার সঙ্গে। সংশ্লিষ্টরা জানান, কন্টেইনার হ্যান্ডলিং বৃদ্ধি পাওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব বহুলাংশে বেড়ে গেছে যা বাংলাদেশের জাতীয় প্রবৃদ্ধির হারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ন অবদান রেখে চলেছে। তবে এ পথ পাড়ি দিতে তাকে মুখোমুখি হতে হয়েছে নানা প্রতিকুলতার। অনেক সময় স্রোতের বিপরীতে থেকেও পদক্ষেপ নিয়েছেন ইতিবাচক।

তরফদার রুহুল আমিন চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক। দেশের একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব । চট্টগ্রাম বন্দর কেন্দ্রিক ব্যবসা কর্মকান্ডের সাথে জড়িত তিনি। বন্দরের বেসরকারি টার্মিনাল অপারেটর ও নিউমুরিং টার্মিনালের স্বত্বাধিকারী শিল্পপতি তরফদার রুহুল আমিন ইতিমধ্যে বাংলাদেশের ফুটবল অঙ্গনে জনপ্রিয় ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তিনি বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার ফুটবল সভাপতি। চট্রগ্রাম বন্দরের সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা তুলে ধরে দূরবীন নিউজ ডটকমকে তরফদার রুহুল আমিন বলেন, ২০০৪ সালো চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তখন জাপান থেকে গ্যান্ট্রি ক্রেন ক্রয় করে জাপানের মিৎসুবিশি ও সুমোটোমো কোম্পানীর এ প্রকল্পের সাথে জড়িত ছিল এবং আমাদের প্রতিষ্ঠান এ কোম্পানীর স্থানীয় কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করছিলো। চুক্তি ছিল  বন্দর কর্তৃপক্ষ গ্যান্ট্রি ক্রেন চালু করলে এ কাজের মেনটেইনেন্স করব আমরা। অপারেশন করবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।  ওই অপারেশনও  বিদেশি বিশেষজ্ঞ দিয়ে সুপারভাইজ করবে আমাদের প্রতিষ্ঠান। এসময় বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেদের  অপারেটর দিয়ে গ্যান্ট্রি ক্রেন চালানোর চেষ্টা চালায়। কিন্তু আধুনিক এসব গ্যান্ট্রি ক্রেন চালানোর মত অভিজ্ঞতা না থাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষ এক্ষেত্রে হোঁচট খায়। পরবর্তীতে এ কাজের জন্য ওপেন টেন্ডার আহ্বান করে প্রাইভেট অপারেশনে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সরকারের  সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমাদের প্রতিষ্ঠান ’মেসার্স সাইফ পাওয়ারটেক’ দুবাই  পোর্টসহ বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অপারেটর এনে গ্যান্ট্রি ক্রেন অপারেশন চালু করেছিলাম। এবং সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা পরে টার্মিনাল অপারেটর হিসেবে কাজ শুরু করি। তিনি বলেন,২০০৭ সালের মার্চ মাসে আমরা অপারেটর হিসেবে অপারেশন শুরু করি। এর আগে  চট্টগ্রাম বন্দরের চিটাগাং কন্টেইনার টার্মিনালে বছরে  ২ লাখ ১০ হাজার  টিইউএস কন্টেইনার  উঠানামা হত । আমরা দায়িত্ব নেয়ার এক বছরের মাথায় এ সংখ্যা বৃদ্ধি করে প্রথম দিকে সাড়ে তিন লক্ষ থেকে পৌণে চার লাখ এবং পরে এ সংখ্যা বৃদ্ধি করে  দ্বিগুনেরও বেশি  পাঁচ লক্ষ টিইউএস-এ উন্নীত করতে সক্ষম হই। এ সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার কারণে আমদানী রফতানীকারকগণ তাদের পণ্য দ্রুত রফতানী ও খালাস করতে পারছে। চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব আয়ও এর ফলে বেড়েছে। আমি বলব চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার  হ্যান্ডলিং এর ক্ষেত্রে এটা একটা বড় পরিবর্তন। চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে বিদেশের অন্যান্য বন্দরের পার্থক্য তুলে ধরে এই ব্যবসায়ি জানান, আসলে চট্টগ্রাম বন্দর হচ্ছে কলকাতা কিংবা শ্রীলংকার বন্দরের মত এন্ডিং বন্ধর । এটা সিঙ্গাপুর বন্দরের মত কোন ট্রানজিট বন্দর নয়। অবকাঠামোগত কারণে  এখানে কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন-চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের একটি  প্রধান সমুদ্র বন্দর। দেশের নব্বই শতাংশ আমদানী রফতানী পণ্যই এ বন্দর দিয়ে উঠানামা করে থাকে। এখানে যেসকল পণ্য আসে সেগুলি আর অন্য কোন দেশে ট্রান্সশিপমেন্ট হয় না। সিঙ্গাপুর বন্দর বিশ্বের একটি ট্রান্সশিপমেন্ট হাব এবং চট্টগ্রাম বন্দরকে এর সাথে তুলনা করলে চলবে না। তবে বর্তমান সরকার জাতীয় প্রবৃদ্ধির সাথে মিল রেখে চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নে বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তাছাড়া এখন বন্দরের অবস্থা আগের চাইতে অনেক ভাল।

একজন ফুটবলপ্রেমী হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেছেন তরফদার রুহুল আমিন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সর্বত্র ফুটবল চেনে না এমন লোক খুব কমই খুঁজে পাওয়া যাবে। সেই ছোট্ট বেলা থেকেই আমরা ফুটবলের সাথে পরিচিত হয়ে আসছি। দেশের  গ্রামে-গঞ্জে এবং সর্বত্র খোঁজ নিলে দেখা যাবে আমরা ভূমিষ্ট হওয়ার পর থেকে দু’এক মাসের মধ্যে বাচ্চাদের ফুটবল কিনে দেই । বল নিয়ে তারা নাড়াচাড়া করে লাথি দেয়। এভাবে ফুটবলের সাথে তাদের পরিচিত করাই। আমি মনে করি, এ ফুটবল বাঙালী জাতির রক্তের সাথে মিশে আছে। তিনি বলেন, অর্থনীতিতে সর্বক্ষেত্রে যেখানে দেশ উন্নতি করছে এগিয়ে যাচ্ছে। খেলাধুলায় ক্রিকেটে আমরা লাল সবুজ পতাকাকে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড় করাতে পেরেছি। অথচ ফুটবলে আমরা যেখানে আরও আগে এগিয়ে যেতে পারতাম কিন্তু পারিনি। বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে আমাদের অবস্থান আজ সবার নীচে অর্থ্যাৎ আমরা দিন দিন পিছিয়ে যাচ্ছি। এই পিছিয়ে যাওয়া থেকে ফুটবলকে একটি ভাল অবস্থানে দাঁড় করাতে দেশব্যাপী কাজ করে যাচ্ছি। তরফদার রুহুল আমিন বলেন, আমাদের মাঠ পর্যায়ে  খেলোয়াড় তৈরী করার যে পাইপ লাইন যথাযথ রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে সেটা ধ্বংস হয়ে গেছে বলা যায়। এ হাল থেকে ফুটবলকে রক্ষা করতে নতুন নতুন খেলোয়াড় তৈরী করার লক্ষ্যে জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে স্বল্প মেয়াদে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। তিনি বলেন,দেশের ৬৪টি জেলায় বর্তমানে যে ফুটবল লীগ অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেখানে স্পন্সর প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের গ্রুপ সাইফ পাওয়ারটেক কাজ করে যাচ্ছে  এবং ঢাকা মহানগর  লীগে যে ৪৮ ক্লাব রয়েছে সেগুলিকেও আমরা সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি যাতে দেশের সর্বত্র ফুটবলকে সচল রাখা যায়।




 এ বিভাগের অন্যান্য


মানুষ কেন মিথ্যা না বলে থাকতে পারে না?


ডাবল স্ট্যান্ড করা রুবানা পড়ালেখার খরচ চালাতেন টিউশনি করে


ড্যানিয়েল যেভাবে আবদুল্লাহ হলেন


গাভীর দুধ নিয়ে বাজারে যেতাম বিক্রি করতে


মোটা বেতনের চাকরি ছেড়ে ১২০০ শিশুকে খাইয়ে চলেছেন মইনুদ্দিন


কে এই রুবাবা দৌলা?


ডেঙ্গু নিরাময়ে পেঁপে পাতার রস কি আসলেই কার্যকর?


ট্রাম্পকে বাংলাদেশ চেনানো হবে, তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে ৬৪ জেলায়


উচ্চ রক্তচাপ?


অধ্যাপক আ ব ম ফারুক, আপনাকে সালাম জানাই


২৪ জনের মধ্যে ২৩ জনের চাকরি হলো, কেবল জ্যাক মারই হলো না


স্রোতের বিপরীতের যাত্রী


হাজারো শিশুর প্রাণ বাঁচাচ্ছে বাংলাদেশি ডাক্তারের যুগান্তকারী উদ্ভাবন


সাইফ পাওয়ারটেকের তরফদার রুহুল আমিনের হাত ধরে অনন্য উচ্চতায় চট্রগ্রাম বন্দর


দুবাইয়ের শাসকের স্ত্রী প্রিন্সেস হায়া এখন কোথায়?





All rights reserved www.durbinnews.com