www.durbinnews.com::জানি এবং জানাই

স্রোতের বিপরীতের যাত্রী



 ওমর শরীফ    ১০ জুলাই ২০১৯, বুধবার, ৩:৫৪   লাইফ বিভাগ


ওয়ান ইলাভেন সবেমাত্র এলো। চার দলীয় জোট ছাড়া প্রায় সবাই এতে খুশি। জোট নেতারাও ভয়ে কিছু বলেন না। সাংবাদিকতায় তখন একমুখি যাত্রা। টিভি টকশোগুলো জমজমাট। অনেক চেহারা। কিন্তু ভয়েস একই। সবাই সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এমন সময় ভিন্নমত নিয়ে টিভি পর্দায় হাজির হলেন তিনি। সাংবাদিক হিসেবে অবশ্য এর আগে থেকেই তিনি আলোচিত। ইংরেজি দৈনিক নিউএজ সম্পাদক নুরুল কবীরের কথা বলছি।

জন্ম ১৯৬০ সালের নভেম্বরে মুন্সিগঞ্জে। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে মুন্সিগঞ্জ ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকায়। লেখালেখির শুরু একেবারে ছোট বেলায়। সংগঠক হিসেবে তার যাত্রা শুরুও তখনই। সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিজ্ঞান ক্লাবের সঙ্গে সে অল্প বয়সেই নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছিলেন। জড়িত হন পাঠাগার আন্দোলনের সঙ্গে। মার্কসবাদের প্রতি তার যে টান তার সূচনা সম্ভবত তখনই হয়। ধীরে ধীরে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ১৯৭৯ সালে। বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে তোলেন প্রতিপক্ষ ও লোককৃষ্টি নামের দুটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। প্রতিপক্ষ নামে একটি কবিতাপত্রও সম্পাদনা করেন। সামরিক শাসনের প্রতি তার ছিল ক্ষোভ ও ঘৃণা। মূলত এরশাদ পতনের আন্দোলনে সরব হতেই যোগ দেন ছাত্র ঐক্য ফোরামে। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নীতি নির্ধারণী ফোরামের সদস্য ছিলেন। ছাত্র ঐক্য ফোরামের সাধারণ সম্পাদক হন এক পর্যায়ে। ফোরামের মাসিক প্রকাশনায় তার বেশ কিছু রাজনৈতিক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। রাাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে তখনই দৃষ্টি কাড়েন। প্রগতিশীল তাত্ত্বিক হিসেবে তার পরিচিতি  ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে পড়ার পাশাপাশি পড়েছেন আইন বিষয়ে। এটা অবশ্য তাকে সহায়তা করেছে ক্ষুরধার যুক্তি দিতে। বিতর্ক করতে ভালোবাসেন নুরুল কবীর। আড্ডায় অথবা অফিসে কিংবা টিভি পর্দায় তিনি বিতর্কে মজেন। শক্তভাষায় উপস্থাপন করেন নিজের বক্তব্য। তর্কে তিনি হারতে চান না। এ নিয়ে কেউ কেউ নুরুল কবীরের সমালোচনাও করে থাকেন। তার বলেন, নুরুল কবীর নিজে যা বিশ্বাস করেন সবসময় সেখানে পড়ে থাকেন। নতুন কোন যুক্তি গ্রহণ করতে চান না। অনেকসময় বাস্তবতারও ধার ধারেন না।
১৯৯০ সালের শেষ দিকে সাংবাদিকতার উজ্জ্বল ক্যারিয়ার শুরু করেন নুরুল কবীর। ইংরেজি সাংবাদিকতায় জড়িত থাকলেও তার বাংলা লেখাও সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে তিনি নিউএজের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এরই মধ্যে একাধিক বইও লিখেছেন নুরুল কবীর। সবসময়ই সমকালীন রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থার সমালোচক জনাব কবীর। তিনি সেই ধরণের বুদ্ধিজীবী প্রচলিত সমাজ যাদের খুশি করতে পারে না। চীর অতীপ্ত মন নিয়ে তারা ছুটে চলেন। বৈষয়িক বিষয়ে তাদের তেমন কোন চাওয়া থাকে না। তাদের দৃষ্টি থাকে দূরে। তারা চান মুক্ত এক পৃথিবী। তোমার মতের সঙ্গে আমি একমত না হতে পারি কিন্তু তোমার মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষায় আমি নিজের জীবন দিতেও প্রস্তুতি আছি-তারা যেন সেই দার্শনিক বিশ্বাস নিয়ে হেটে চলেন। আগেই যেটা বলেছি, নিজের বক্তব্যে অনঢ় থাকাই নুরুল কবীরদের শক্তি। আবার কখনও কখনও তা বাস্তবতা বিবর্জিতও মনে হয়।




 এ বিভাগের অন্যান্য


মানুষ কেন মিথ্যা না বলে থাকতে পারে না?


ডাবল স্ট্যান্ড করা রুবানা পড়ালেখার খরচ চালাতেন টিউশনি করে


ড্যানিয়েল যেভাবে আবদুল্লাহ হলেন


গাভীর দুধ নিয়ে বাজারে যেতাম বিক্রি করতে


মোটা বেতনের চাকরি ছেড়ে ১২০০ শিশুকে খাইয়ে চলেছেন মইনুদ্দিন


কে এই রুবাবা দৌলা?


ডেঙ্গু নিরাময়ে পেঁপে পাতার রস কি আসলেই কার্যকর?


ট্রাম্পকে বাংলাদেশ চেনানো হবে, তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে ৬৪ জেলায়


উচ্চ রক্তচাপ?


অধ্যাপক আ ব ম ফারুক, আপনাকে সালাম জানাই


২৪ জনের মধ্যে ২৩ জনের চাকরি হলো, কেবল জ্যাক মারই হলো না


স্রোতের বিপরীতের যাত্রী


হাজারো শিশুর প্রাণ বাঁচাচ্ছে বাংলাদেশি ডাক্তারের যুগান্তকারী উদ্ভাবন


সাইফ পাওয়ারটেকের তরফদার রুহুল আমিনের হাত ধরে অনন্য উচ্চতায় চট্রগ্রাম বন্দর


দুবাইয়ের শাসকের স্ত্রী প্রিন্সেস হায়া এখন কোথায়?





All rights reserved www.durbinnews.com