www.durbinnews.com::জানি এবং জানাই

২৪ জনের মধ্যে ২৩ জনের চাকরি হলো, কেবল জ্যাক মারই হলো না



 দূরবীন ডেস্ক    ১৩ জুলাই ২০১৯, শনিবার, ১২:২২   লাইফ বিভাগ


জ্যাক মা। আলিবাবার জনক। অনলাইনে ব্যবসার ইতিহাস বদলে দেয়া এক আইকন। জীবনটা অবশ্য তার সুখকর ছিল না। জ্যাক মার নিজের কথায়, একবার পুলিশের এক পদে আবেদন করি। তারা বললো, তুমি এর উপযুক্ত নও। যখন আমার শহরে কেএফসি এলো, আমি সেখানে চাকরির জন্য আবেদন করলাম। চব্বিশজন প্রার্থীর মধ্যে আমি ছাড়া বাকি সবাই নিয়োগ পায়। এক স্কুল শিক্ষকের পৃথিবীর শীর্ষ ধনী হওয়াটা এমন কঠিনই ছিল। শুরুর গল্পটা ছিল ব্যর্থতার। যেখানেই হাত দিয়েছেন ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু একটি আইডিয়া বদলে দিয়েছে তার জীবনকে। সম্ভবত, বিশ্ব বাণিজ্যের গতিটা পাল্টে যায় এতে। ‘আলিবাবা: দ্য হাউজ দ্যাট জ্যাক মা বিল্ট’ বইয়ে ডানকান ক্লার্ক বর্ণনা করেছেন জ্যাক মা’র জীবনের সব বিস্ময়কর কাহিনী। ১০ই সেপ্টেম্বর, ১৯৬৪। চীনের হাঙঝু শহরে জন্ম নেন জ্যাক মা। জ্যাকের মা কুয়েনসাই। কাজ করতেন একটি কারখানার উৎপাদন ক্ষেত্রে। বাবা মা লাইফা ছিলেন একজন ফটোগ্রাফার।  বাণিজ্যিক উদ্যোগের একজন আইকন এমন একসময়ে জন্ম নেন যখন চীনে ব্যক্তিগত  উদ্যোগ পুরোপুরি নির্বাসিত। নব্বই ভাগ শিল্প উৎপাদন সরকারের হাতে। বালক বয়সেই ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের প্রেমে পড়ে যান জ্যাক। বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে জ্যাক মা’র যোগাযোগের সূত্র হয়ে এলো বিদেশি পর্যটকরা। ১৯৭৮ সালের শেষ দিকে, জ্যাকের বয়স যখন ১৪ তখন চীন ওপেন ডোর পলিসি চালু করে। বিদেশি বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য আকৃষ্ট করার জন্যই এ পদক্ষেপ নেন দেং জিয়াংপিং। দেউলিয়াত্বের খপ্পরে পড়ে চীন তারল্যের জন্য বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ১৯৭৮ সালে হাঙঝু শহরে মাত্র ৭২৮ জন পর্যটক এলেও পরের বছরই সংখ্যাটি ৪০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। ইংরেজি চর্চার সুযোগ উপভোগ করতে থাকেন জ্যাক। ভোরের আলো ফোটার আগে ঘুম থেকে জেগে ওঠা এবং বিদেশি পর্যটকদের ইংরেজিতে অভিনন্দন জানাতে সাইকেল চালানোটাকে অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছিলেন জ্যাক মা। তার ভাষায়, প্রত্যোক দিন ভোর পাঁচটার সময় থেকে হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতাম। অনেক পর্যটক আসতেন আমেরিকা, ইউরোপ থেকে। ওয়েস্ট লেকের ধারে তাদের ঘুরিয়ে আনতাম আর বিনিময়ে তারা আমাকে ইংরেজি শেখাতেন। টানা নয় বছর! প্রত্যেকদিন সকালে ইংরেজি চর্চা করতাম।
বলে রাখা ভালো, জন্মের পর বাবা-মা জ্যাক মা’র নাম রেখেছিলেন ইউন। পরে এক মার্কিন পর্যটকই তার জ্যাক মা নামটি রাখেন। ইংরেজি যে সবসময় সহযোগিতা করেছে জ্যাক তা সব সময় স্বীকার করেন অকপটে। তার কথা-ইংরেজি আমাকে অসাধারণ সাহায্য করেছে। এটা দুনিয়াকে ভালো করে বুঝতে সাহায্য করেছে। জাদরেল নেতা ও সিইওদের বুঝতে সাহায্য করেছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো চীনের সঙ্গে অবশিষ্ট বিশ্বের গুরুত্ব বুঝতেও আমাকে প্রেরণা যুগিয়েছে। ইংরেজি চর্চার পাশাপাশি নানা বই পড়তে থাকেন জ্যাক মা। মনোনিবেশ করেন মার্শাল আর্ট চর্চায়। অস্ট্রেলিয়ার এক পর্যটক পরিবারের সঙ্গে সখ্যতাও তার চিন্তার জগতে পরিবর্তন আনতে সাহায্য করে।
সবকিছু ভালোই চলছিল। এক সহজ জীবন। কিন্তু অংকের সঙ্গে যেন কিছুতেই পেরে ওঠতে পারছিলেন না। চীনে উচ্চ শিক্ষায় আগ্রহীদের এন্ট্রেন্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। যা সাধারণভাবে গাওকাও পরীক্ষা নামে পরিচিত। চীনা ও বিদেশি ভাষার পাশাপাশি অংক সেখানে বাধ্যতামূলক। এটি পৃথিবীরই অন্যতম কঠিন পরীক্ষা। অনেকে এ পরীক্ষার সমালোচনাও করে থাকেন।
সে যাই হোক জ্যাক পরীক্ষা দিতে বসলেন। অংকে ১২০ নাম্বারের মধ্যে পেলেন  ১। তার জীবনের সব আশাই যেন তছনছ হয়ে গেল। এরপর সব কাজেই চেষ্টা করেছেন তিনি। ছাপাখানা থেকে সাইকেলে ম্যাগাজিনের ব্যান্ডেল বোঝাই করে স্টেশন ও বাস টার্মিনালে পৌঁছে দিতেন। এ কাজ পেতেও অবশ্য তার বাবার যোগাযোগকে কাজে লাগাতে হয়েছে। এরপর অনেকগুলো চাকরির চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। যার মধ্যে হোটেল ওয়েটারের চাকরিও ছিল। তাকে বলা হয়েছিল, তার  দৈহিক উচ্চতা এ চাকরির জন্য উপযোগী নয়। জ্যাক সিদ্ধান্ত নেন ফের গাওকাও পরীক্ষায় বসার। অংকে স্কোর এবার কিছুটা বাড়ে। তবে ১৯ এর বেশি নয়। অন্য বিষয়গুলোতে নাম্বার কমে যায় আগের তুলনায়।
আরও একবার চাকরির খোঁজে নামেন জ্যাক। ১১টি আবেদন করেন। প্রত্যোকটিই প্রত্যাখ্যান করা হয়। কেএফসিতে চাকরি না পাওয়ার ঘটনাটিতো রীতিমতো রেকর্ড। চব্বিশ জনের মধ্যে ২৩ জনেরই চাকরি হয়েছিল। একমাত্র জ্যাক মারই চাকরিটা হয়নি

 




 এ বিভাগের অন্যান্য


মানুষ কেন মিথ্যা না বলে থাকতে পারে না?


ডাবল স্ট্যান্ড করা রুবানা পড়ালেখার খরচ চালাতেন টিউশনি করে


ড্যানিয়েল যেভাবে আবদুল্লাহ হলেন


গাভীর দুধ নিয়ে বাজারে যেতাম বিক্রি করতে


মোটা বেতনের চাকরি ছেড়ে ১২০০ শিশুকে খাইয়ে চলেছেন মইনুদ্দিন


কে এই রুবাবা দৌলা?


ডেঙ্গু নিরাময়ে পেঁপে পাতার রস কি আসলেই কার্যকর?


ট্রাম্পকে বাংলাদেশ চেনানো হবে, তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে ৬৪ জেলায়


উচ্চ রক্তচাপ?


অধ্যাপক আ ব ম ফারুক, আপনাকে সালাম জানাই


২৪ জনের মধ্যে ২৩ জনের চাকরি হলো, কেবল জ্যাক মারই হলো না


স্রোতের বিপরীতের যাত্রী


হাজারো শিশুর প্রাণ বাঁচাচ্ছে বাংলাদেশি ডাক্তারের যুগান্তকারী উদ্ভাবন


সাইফ পাওয়ারটেকের তরফদার রুহুল আমিনের হাত ধরে অনন্য উচ্চতায় চট্রগ্রাম বন্দর


দুবাইয়ের শাসকের স্ত্রী প্রিন্সেস হায়া এখন কোথায়?





All rights reserved www.durbinnews.com