www.durbinnews.com::জানি এবং জানাই

ঢাকা, ৩০ জুলাই ২০২১, শুক্রবার

দুই বছর ধরে ঢামেকে শিশুটি, স্বজনদের খোঁজ নেই



 দূরবীন ডেস্ক    ৬ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার, ২:৪৮   খবরের বাইরে বিভাগ


প্রায় দু বছর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কাছে একটি শিশুকে পেয়ে জরুরি বিভাগে ভর্তি করান সেখানকার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বাচ্চু মিয়া। শিশুটির সাথে কেউ ছিলোনা এবং সে ঠিক মতো কথা বলতে কিংবা হাঁটতে পারছিলোনা। তারপর থেকে ওই হাসপাতালের শিশু বিভাগে ২০৭ নম্বর ওয়ার্ডে আছে শিশুটি, যে অস্ফুট উচ্চারণে তার নাম জানিয়েছিলো আয়েশা। শিশুটির বয়স নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি, তবে চিকিৎসকদের ধারণা তার বয়স এখন সাত। এরপর দু বছরে পরিবার বা স্বজন কেউ তার কোনো খোঁজ নিতে আসেনি। তবে এর মধ্যেই চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তাসহ পরিচিত অপরিচিত অনেকেই পরিণত হয়েছে তার স্বজনে। তার পুরো দায়িত্বই নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আইনি অভিভাবক না থাকায় এখন আটকে গেছে তার চিকিৎসার কিছু বিষয়। অন্যদিকে তার আইনি অভিভাবকত্ব পাওয়ার আশায় আদালতের দ্বারস্থ হতে যাচ্ছে নিবেদন নামের একটি অলাভজনক সংস্থা। সংস্থাটির সভাপতি মারজানা সাফাত বলছেন, তারা ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে আসা এমন অজ্ঞাত রোগীদের নিয়েই কাজ করেন। বাচ্চাটার একটা ইনটেনসিভ কেয়ার দরকার ছিলো। আমরা তার জন্য আয়া ঠিক করে দিয়েছি। তাকে কোনো শেল্টার হোমে রাখা দরকার। আবার তার চিকিৎসার জন্য আইনি অভিভাবক দরকার। সেজন্য আমরা আদালতে আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। কারণ অপারেশন করা হলে তার কথা বলার সমস্যা কাটবে, বলছেন মারজানা সাফাত।

শিশুটির দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ড: কামাল হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলছেন, শিশুটির পায়ে সমস্যা কাটানোর জন্য থেরাপি চলছে কিন্তু জিহ্বা তালুর সাথে লেগে আছে যার সমাধান করতে হবে অপারেশন করে। অপারেশনের জন্য কিছু আইনি নিয়ম কানুন আমাদের মেনে চলতে হয়। অপারেশনের আগে আইনি অভিভাবকের অনুমোদন দরকার হয়। তেমন কাউকে পাওয়া গেলে আমরা অপারেশন করাতে পারবো এবং আশা করি এতে করে তার কথা বলার সমস্যা কাটবে। মিস্টার হোসেন বলছেন, শিশুটি এখন স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারেনা, তবে মুখ হা করে কথা বলার চেষ্টা করে। সার্জারি করে এ সমস্যা থকে মুক্ত করা সম্ভব। মারজানা সাফাত বলছেন তারা গত কয়েকমাস ধরে এ শিশুটির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তার এখন সার্বক্ষণিক দেখভাল দরকার। প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনে জায়গার সংকুলান হচ্ছেনা। তিনি বলেন, মেয়েটি খুব ভালো রেসপন্স করে। খুবই কমিউনিকেটিভ ও বন্ধুত্বভাবাপন্ন। আমরা মেয়েটির দেখভালের দায়িত্ব নিতে চাই। তার মতে আয়েশা অন্যদিক থেকে ভাগ্যবানও। কারণ ডাক্তার নার্সরা তাকে খুবই ভালোবাসে। সবাই তাকে মন থেকে সহায়তা করে। চিকিৎসক কামাল হোসেন বলছেন, শিশুটিতে হয়তো কেউ ফেলে গেছে এবং তার পায়ের সমস্যা জন্মগত যে কারণে সে হাঁটতে পারেনা। তবে তার পায়ের থেরাপি চলছে এবং বিশেষ জুতো তৈরি হচ্ছে। এর মাধ্যমে তার হাটার সমস্যার সমাধান হবে। তিনি বলেন শিশুটি মানসিক দিক থেকে ঠিক আছে বলে মনে করছেন তারা। তবে জিহ্বা তালুর সাথে লাগানো। এটা অপারেশন করে ঠিক করতে হবে। সব অপারেশনের সাইড এফেক্ট আছে। তার লিগ্যাল অভিভাবক নেই। যদি কেউ বা কোনো প্রতিষ্ঠান তাকে অ্যাডপ্ট করে এবং তাদের আইনি অনুমতি পেলে আমরা অপারেশন করে দিতে পারবো। তিনি জানান হাসপাতালে তাকে যে বেড দেয়া হয়েছে সেখানেই আয়েশা থাকবে ও খাবার পাবে। চিকিৎসক ও সিস্টাররাও তাকে নানা উপহার দেয়। অন্যরাও তার প্রতি দারুণ সহানুভূতিশীল। যদিও হাসপাতালের ফাইলে আয়েশার রোগের বর্ণনা সেরিব্রাল পালসি বা সিপি'র কথা উল্লেখ করা হলেও ডা: কামাল হোসেন বলছেন সিপি নয় আয়েশার জিহ্বা তালুর সাথে অর্থাৎ টাং টাইতে আক্রান্ত। আর পায়ে জন্মগত ত্রুটি আছে কিন্তু মানসিক অবস্থা তার ভালো আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সূত্র: বিবিসি




 এ বিভাগের অন্যান্য


নগরের নটীরা কেন প্রার্থী?


তাহের-ইনুকে জিয়া জিজ্ঞেস করলেন


বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এরশাদ-জিনাত


দুই বছর ধরে ঢামেকে শিশুটি, স্বজনদের খোঁজ নেই


হঠাৎ স্ক্রিন শট শেয়ার করলেন সাংসদ, কিন্তু কেন?


ফেসবুকের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন গোলাম মোর্তুজা


অবিশ্বাস্য পতন


মেকআপের যুগে অন্যরকম এক মানুষ


১৬ টাকা থেকে যেভাবে আজকের আকিজ গ্রুপ


ইতালিতে বাংলাদেশির সততার দৃষ্টান্ত


বিনা খরচে যেভাবে জাপান যাওয়া যাবে


ভারতীয় মন্ত্রীরা যেভাবে বদলে দিচ্ছেন বিজ্ঞানের ইতিহাস


সব সময় ইতিবাচক থাকার কয়েকটি উপায়


শাড়ি ও নারী নিয়ে লিখে সমালোচনার মুখে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ


মন্ত্রিত্ব-পুরস্কার ফিরিয়ে দেয়া কুঁড়েঘরের মোজাফফর




ডি ৫, ৫৩১/বি/১ পশ্চিম শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা
মোবাইল- 01712105339
durbinnews19@gmail.com durbinnews19@durinnews.com © 2021 durbinnews

All rights reserved www.durbinnews.com