www.durbinnews.com::জানি এবং জানাই

অভিমান



 ইশরাত জাহান রোজী    ১৭ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার, ১:০৫   সাহিত্য বিভাগ


আজ বড় আলসেমি শরীর ও মন জুড়ে। কড়া লিকারের এলাচ ও আদা ফ্লেভারের চায়ের মগটা মৌমিতার হাতে। অন্যদিন চায়ের মগ হাতে পেলেই যেন সব অলসতা আর ক্লান্তি দূরে সরে যায় বৈরীতার সুর বাজিয়ে। কিন্তু আজ আর তা হয় না। চায়ের মগ হাতে নিয়েই আনমনে আলমারিটা খোলে মৌমিতা। শাড়ি কাপড়ে ঠাসা আলমারি। ভাঁজ করে ঝুলিয়ে রাখা কাপড়ের নিচে ছবির লাল এ্যালবামটায় নজর পড়ে তার। কতদিন পুরানো ছবিগুলো দেখা হয় না! এ্যালবামটা বের করে নিয়ে বিছানায় বসে আরাম করে। ডান হাতে ধরা চায়ের মগ থেকে ধীর গতিতে চুমুক দেয়, আর বাম হাতে উল্টায় এ্যালবামের ভারী পাতা। স্থির ছবিতে লুকানো কত্ত স্মৃতি, কত্ত কথা যেন এক নিমিষেই ধরা দেয়। মৌমিতার বিয়ের ছবি, ছোটবেলার ছবি, কলেজের ছবি, ভার্সিটির ছবি সবই আছে। পাতা উল্টিয়ে উল্টিয়ে একের পর এক দেখতে থাকে মৌমিতা... হঠাৎ একটা ছবিতে গিয়ে চোখ স্থির হয়ে যায়। অজান্তেই চোখ ছলছল করে উঠে অশ্রুতে। গড়িয়েও পড়ে কয়েক ফোঁটা। মৌমিতা অবাক হয়ে যায়! আগে বহুবার এই ছবি তো দেখেছে ও, কিন্তু কই এমন তো হয়নি কখনো। বরং তানহার ছবি দেখলে রাগে-অভিমানে এড়িয়ে গেছে। আজ তবে কি হলো ওর? তানহা, ছোটবেলা থেকে কলেজ পর্যন্ত ওর সবচেয়ে কাছের বান্ধবী ছিল। কিন্তু কলেজে খুব সামান্য একটা বিষয় নিয়ে ভুল বুঝাবুঝির কারণে আজ ষোল বছর হলো কোন যোগাযোগ রাখেনি মৌমিতা। অভিমানে দুজনেই সরে গেছে। কিন্তু কি যে হলো আজ মৌমিতার!

আজ সব রাগ-অভিমান যেন ভুলে গেল মুহুর্তেই। খুব জানতে ইচ্ছে করল, কেমন আছে তানহা? কোথায় আছে? সাথে অন্যান্য সব খবর। প্রাণ ভরে কথা বলার জন্য ছটফট করে উঠল মন। এতোদিনের লুকিয়ে রাখা রাগ-অভিমান সবই যেন আজ মায়া ও ভালবাসায় রুপান্তরিত হলো। অন্তরে অপ্রতিরোধ্য এক টান অনুভব করল তানহার জন্য। নিজেকে স্বান্তনা দেওয়ার জন্য দু'চারজনকে ফোন করল। কিন্তু তারা কেউই খোঁজ দিতে পারল না। হতাশ হয়ে গেলো মৌমিতা! কিন্তু হাল না ছেড়ে আবার আরেকজনকে ফোন দিল। সেখানেও হতাশ হতে হলো! পেলো না তানহার কোন খোঁজ কিংবা কোনো নাম্বার। কিন্তু মৌমিতা যেন মরিয়া হয়ে উঠল তানহার জন্য। আবার ফোন দিল অন্য জায়গায়। এবার খবর পেলো। কিন্তু তানহার সম্পর্কে যা শুনল, তা বিশ্বাস করতে কিছুক্ষণ সময় লেগে গেল তার... অবিশ্বাস্য কথাটাকে বিশ্বাস করতে পারছিল না মৌমিতা! কি করেই বা বিশ্বাস করবে যে, তানহা ব্রেন ক্যান্সারে আক্রান্ত! ছয় মাস আগে চিকিৎসায় সনাক্ত হয়েছে। এখন অবস্থা তেমন ভালো নয়। মৌমিতার চোখ বেয়ে অশ্রু ধারা গড়িয়ে পড়ে নদীর স্রোতের মতো। সিদ্ধান্ত নেয়, আগামীকালই তানহার কাছে যাবে ও। পাশে বসে ওর দু'হাত ধরে অন্তত একবার ক্ষমা চেয়ে আসবে। তানহাকে বুঝিয়ে দেবে,ও আর অভিমান করে নেই, সব অভিমান ভালবাসার তীব্র তোড়ে ভেসে গেছে। বুকে জড়িয়ে নিয়ে আরও বলবে, তোকে অনেক ভালবাসি রে তানহা!





All rights reserved www.durbinnews.com