www.durbinnews.com::জানি এবং জানাই

ঢাকা, ৩০ নভেম্বর ২০২১, মঙ্গলবার

বিবাহ ও গণতন্ত্র



 ওমর শরীফ    ২ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ১০:১৬   সম্পাদকীয় বিভাগ


গণতন্ত্র কি মারা যাচ্ছে? পশ্চিমেও এ প্রশ্ন ওঠছে। পন্ডিতরা বলছেন, মারা না গেলেও গণতন্ত্র এখন মধ্য বয়সের সংকটে পড়েছে। ব্যালট ক্রমশ হয়ে ওঠছে কট্টরপন্থীদের হাতিয়ারে। ডনাল্ড ট্রাম্প, নরেন্দ্র মোদিরাই এখন গণতন্ত্রের মুখ! এথেন্সের মানুষ তাদের আবিষ্কারের এই ফল দেখে নিশ্চয়ই লজ্জিত হতেন।
বার্ট্রান্ড রাসেলের বিখ্যাত গ্রন্থ- ম্যারিজ অ্যান্ড মরালিটি। বিবাহ এবং নৈতিকতা। গণতন্ত্র আর বিয়ের কথা একসঙ্গে বলতে কেন বসলাম সে গল্পে পরে আসছি। কার্ল মার্ক্সকে যেমন অনেক ব্যক্তি এবং দেশ নিজের স্বার্থ অনুযায়ী নিজস্ব তাফসির করেছেন গণতন্ত্রকেও তাই। দেশে দেশে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা বদলে যাচ্ছে। উদার গণতন্ত্র এখন হারিয়ে যাওয়ার পথে। যে সাম্য আর মানবিকতাবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য লাখ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছেন তা আজ কোথায়। ইতিহাসের পাতাগুলো লজ্জায়, শরমে কুকড়ে গেছে। দেশে দেশে যুদ্ধবাজ শাসকের জয়ধব্বনি। নানা নামে কত কোটি মানুষ যে হত্যা করা হয়েছে এবং হচ্ছে। যুদ্ধবাজ শাসকেরা বোমায় ঝলসে দিয়েছে কত লাখ শিশুর মুখ তার কি কোন হিসাব আছে। আজকের দুনিয়ায় ইয়েমেন, ফিলিস্তিন, কাশ্মিরে কী হচ্ছে? সৌদি শাসকেরা ইয়েমেনকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিচ্ছেন। পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুধার্ত এখন ইয়েমেনি শিশুরা। কথিত ইসলামি শাসক সৌদি রাজপরিবারের পেছনে কে আছেন তা সবারই জানা?
পুরো ইউরোপ জুড়ে এখন ঘৃণার চাষাবাদ। মসজিদে, গির্জায় হামলা হচ্ছে। মানুষে মানুষে  বিভক্তি পুরো সভ্যতাকেই হুমকির মুখে ফেলছে। ধর্মের নামে, জাতিয়তাবাদের নামে ভাগ করা হচ্ছে মানুষকে। চলছে অনাচার। ক্রিকেট দলের জার্সিতে মানুষ খুঁজছে দেশপ্রেম।  
ছদ্ধবেশি গণতান্ত্রিক দেশের অবস্থা আরও ভয়াবহ। এখানে ব্যালট এখন রীতিমতো হাস্যকর উপাদানে পরিণত হয়েছে। শাসকের পছন্দই গণতন্ত্র। ব্যক্তির পছন্দের কোন বালাই নেই। গণতন্ত্রের উত্তর কোরীয় মডেলতো রীতিমতো ইতিহাস হতে চলেছে। শাসকের ঠিক করে দেয়া প্রতীকেই আপনাকে ভোট দিতে হবে। ভোট দেয়া আবার বাধ্যতামূলক। না দিলে দ-ের মুখোমুখি হতে হবে। ভোট দিলেই অবশ্য চলবে না। ভোট দিয়ে শামিল হতে হবে আনন্দে। বুঝাতে হবে ভোট দিতে পেরে আপনি কতটা খুশি। ভোট দেয়াতো আসলেই খুশির ব্যাপার। কারণ কোন কোন গণতান্ত্রিক দেশে এখন জনগনের আর ভোট দেয়ার প্রয়োজন হয় না।
এতো গেলো ব্যালটীয় গণতন্ত্রের কথা। ইনসাফ, আইনের শাসন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এখন কোথায়। মার্কিন আর চীনের গোপন আদালতে বন্দি আছে কত লাখ মানুষ। কাশ্মিরে ভারতীয় বাহিনীর গুলিতে অন্ধ হয়ে গেছেন কত হাজার তরুণ। ছেলেরা খুনের শিকার হওয়ায় বিয়ে হচ্ছে না কত তরুণীর। আরও বহু কথা আছে। সব লেখা যাচ্ছে না।
গণতন্ত্রের মতো বিবাহ নামক ব্যবস্থাও বিলুপ্তির পথে। যদিও বিয়ের বিলুপ্তির শুরু আরও আগে। পরিবার থেকে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে মানুষ। মা-বাবার ঠাঁই হচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে। আজকের তরুণ বা তরুণী সেও ক্রমশ বৃদ্ধ হচ্ছে। তার নিজের পথও সে বুঝতে পারছে না। আমাদের এখানেও যৌথ পরিবার ব্যবস্থা ভেঙে গেছে। বিয়েতেও এখন নানা সংকট। আরও চাই রোগে আক্রান্ত মানুষ। কাজ আর কাজ। সম্পদের নেশা। পরিবার যেন এখন এক উপেক্ষিত বিষয়। নারী-পুরুষ কারওই যেন সংসারে টান নেই। মা। মা ডাকটাও কি হারিয়ে যাওয়ার পথে।
শীর্ষেন্দু তার বিখ্যাত উপন্যাস পার্থিব এ কৃষ্ণজীবনের মুখ দিয়ে বলিয়েছেন, আমার এই দু:খী ও দরিদ্র মা আমাকে কিছুই আর দিতে পারে না। তবু এই যে তার ছায়ায় এসে কিছুক্ষণ বসে থাকি শুধু একটা কারণেই। পৃথিবীতে বোধ হয় একদিন মা ডাকটিরও অবসান ঘটবে।....আমি এক দারিদ্রপীড়িত সংসারে জন্মেছি বলেই জানি, মায়েরা সন্তানের জন্য কত অনন্ত ত্যাগ স্বীকার করতে পারে। আমার এই মা সর্বদাই তার ভাগের খাবার থেকে এক মুঠোভাত সরিয়ে রাখতো আমার জন্য। আমার খিদে বেশি, অনেকটা পথ হেঁটে স্কুলে যাতায়াত করতে হয়, লাঙল চালিয়ে করতে হয় চাষাবাদ। মা আমার খিদে বুঝত। একমাত্র মায়েরাই যা বোঝে। মা জাতিই পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাবে কি?
গণতন্ত্র। ব্যালট। বিবাহ। পরিবার। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই আজ হুমকির মুখে। নানা আলোচনা-সমালোচনা। তবুও এক ফেসবুক বন্ধুর কাছ থেকে ধার নিয়ে বলি, অনেক সমালোচনা এবং ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও গণতন্ত্র এবং বিবাহের উত্তম কোন বিকল্প এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। তবে ইনসাফ, মানবিকতাবোধ, ধর্মবোধের সমন্বয়ে একটি উত্তম বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।




ডি ৫, ৫৩১/বি/১ পশ্চিম শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা
মোবাইল- 01712105339
durbinnews19@gmail.com durbinnews19@durinnews.com © 2021 durbinnews

All rights reserved www.durbinnews.com