www.durbinnews.com::জানি এবং জানাই

জাপা কি দুই ভাগ হয়ে যাবে?



 রাজনৈতিক ভাষ্যকার    ১৫ জুলাই ২০১৯, সোমবার, ৪:২১   রাজনীতি বিভাগ


হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ইন্তেকাল করেছেন। তার দাফন এখনও হয়নি। কিন্তু এ প্রশ্ন এরই মধ্যে উঠছে যে, তার হাতে গড়া দল জাতীয় পার্টি কি ভেঙে যাবে। যদিও জাপায় ভাঙন নতুন কিছু নয়। কিন্তু এরশাদ জীবিত থাকাবস্থায় ওইসব ভাঙনে জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে বড় কোন প্রভাব পড়েনি। যদিও গত এক দশকে রাজনৈতিক দল হিসেবেই জাতীয় পার্টি তেমন কোন গুরুত্ব বহন করেনি। আবার কেউ কেউ এটাও বলতে পারেন, ক্ষমতাসীন দল ছাড়া অন্য কোন দলইতো এখন তেমন কোন গুরুত্ব বহন করে না। সে যাই হোক, এখন প্রশ্ন হচ্ছে, জাতীয় পার্টি কি সহসাই দুই বা তার চেয়ে বেশি বিভক্ত হয়ে যাবে।

এরশাদের জীবদ্দশায়ও জাতীয় পার্টিতে বারবার কোন্দল মাথাছাড়া দিয়ে ওঠেছে। তিনি এর মোকাবেলায় ছিলেন অত্যন্ত কৌশলী। বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন। বিশেষ করে ভাই এবং স্ত্রীকে নিয়ে তিনি সবসময় বিপাকে ছিলেন। কখনও তিনি স্ত্রী রওশন এরশাদকে দলে গুরুত্ব দিয়েছেন। কখনও গুরুত্ব দিয়েছেন ভাই জিএম কাদেরকে। জিএম কাদের অবশ্য সবসময়ই এরশাদের অনুগত থেকেছেন। কখনও ভাইয়ের সমালোচনাও করেননি। কাদের এখন জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এমনিতে এরশাদ ওসিয়ত করে গেছেন, তার অবর্তমানে জিএম কাদেরই জাপার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে, রওশন এরশাদ সংসদে বিরোধী দলের উপনেতা। এরশাদের মৃত্যুতে এখন সংসদে বিরোধী দলের নেতার পদটি শূন্য হয়েছে। জাতীয় পার্টিতে এখন প্রথম প্রশ্নটি ওঠতে পারে কে হবেন সংসদের বিরোধী দলের নেতা। দলটির সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ক্ষমতাসীন দলের প্রতি অনুগত। একইসঙ্গে তারা রওশন এরশাদের প্রতিও অনুগত। জিএম কাদের দলের তৃণমূল নেতাদের কাছে জনপ্রিয়। বিশেষকরে জাতীয় পার্টির একসময়কার ঘাটি হিসেবে পরিচিত রংপুর অঞ্চলের জাপার নেতারা তার প্রতি অনুগত। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তিনি কি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন না তাকে হটিয়ে রওশন এরশাদ চেয়ারপারসন হবেন। জাতীয় পার্টিতে ভাঙবে কি-না সে প্রশ্ন যেমন ওঠছে তেমনি অনেক বিশ্লেষক মনে করেন এরশাদের অনুপস্থিতিতে জাতীয় পার্টি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। তাদের মত হচ্ছে জাতীয় পার্টি স্বাভাবিক রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে ওঠেনি। সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, এই জাতীয় পার্টির কোন জনভিত্তি নেই, আদর্শিক ভিত্তি নেই, কোন ভবিষ্যৎ কমিটমেন্ট নেই। একারণে মওলানা ভাসানী ও শেরে বাংলার দলের মতো জাতীয় পার্টিও বিলুপ্ত হতে পারে বলে আমার ধারণা।   ওদিকে, এরশাদের মৃত্যুর পর তার রাজনৈতিক ইতিহাসেরও ব্যবচ্ছেদ করছেন বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এরশাদের আগমন আকস্মিক। কিন্তু সম্ভবত তিনি অনেকদিন ধরেই প্রস্তুত হচ্ছিলেন। সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা এরশাদ ছিলেন অত্যন্ত চতুর। সেসময়কার অনেক সেনা কর্মকর্তার বয়ানে এটা পরিষ্কার ক্ষমতা দখলের জন্য তিনি নিজেকে প্রস্তুত করছিলেন। অপেক্ষায় ছিলেন। মোক্ষম সুযোগ কাজে লাগান। তার ক্ষমতা দখল ছিল অবৈধ। রাজনীতিকে নানাভাবে কূলষিত করেছেন তিনি। কিন্তু বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের একটি বড় কৃতিত্ব দিতে হয় এরশাদকে। তার সময়ে প্রচুর উন্নয়নযজ্ঞ সাধিত হয়েছে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে কাজ করেছেন তিনি। উন্নয়নের সুফল গ্রামেগঞ্জে পৌঁছে দিতে সক্রিয় ছিলেন।

এরশাদ শুরুর সময়টা শান্তিপূর্ণভাবে কাটালেও একসময় গণআন্দোলনের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। যে আন্দোলনে ছাত্র সমাজ ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে। এরশাদের বাহিনীর গুলিতে প্রাণ যায় অনেক আন্দোলনকারীর। এ রক্তের দাগ তিনি অস্বীকার করতে পারেন না। যদিও এরশাদ প্রায়শ’ই দাবি করতেন এসব ঘটনায় তার দায় নেই। গণতান্ত্রিক জমানায় আরও বেশি এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলেও দাবি তার। স্বৈরশাসক হলেও সম্ভবত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা ছিল এরশাদের। যে কারণে তাকে বিশ্ববেহায়া বলা গেছে। গণতান্ত্রিক বলে দাবি করা অনেক দেশে/আমলে এর শতভাগের এক ভাগ স্বাধীনতাও নেই সাংবাদিকদের। কবি আর প্রেমিক এরশাদও নিশ্চয়ই ইতিহাসে আলোচিত হবেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৩০ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি কুড়িগ্রামে নানা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক নিবাস পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলার দিনহাটা গ্রামে। তার পিতা মকবুল হোসেন ও মাতা মজিদা খাতুন। পিতা ছিলেন আইনজীবী। এরশাদ প্রথমে কুচবিহার ও পরে রংপুরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করেন। এরপরে ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫২ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে অফিসার পদে যোগদান করেন। ১৯৬০-৬২ সালে তিনি চট্টগ্রামে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারে অ্যাডজুট্যান্ট ছিলেন। এরশাদ ১৯৬৬ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের কোয়েটায় অবস্থিত স্টাফ কলেজে স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন। ১৯৬৮ সালে শিয়ালকোটে ৫৪তম ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি লাভের পর ১৯৬৯-৭০ সালে তৃতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে এবং ১৯৭১-৭২ সালে সপ্তম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।

মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি এরশাদ। এসময় তিনি পাকিস্তানে ছিলেন। পাকিস্তান থেকে প্রত্যাবর্তনের পর ১৯৭৩ সালে এরশাদকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল হিসেবে নিয়োগ করা হয়। ১৯৭৩ সালের ১২ই ডিসেম্বর কর্নেল পদে এবং ১৯৭৫ সালের জুন মাসে ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতি লাভ করেন এরশাদ। একই বছর তিনি ভারতের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে প্রতিরক্ষা কোর্সে অংশগ্রহণ করেন। ওই বছরই আগস্ট মাসে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে তাকে সেনাবাহিনীর উপপ্রধান নিয়োগ করা হয়। ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বর মাসে এরশাদকে সেনাবাহিনী প্রধান পদে নিয়োগ দেয়া হয় এবং ১৯৭৯ সালে তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ১৯৮১ সালের ৩০শে মে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের  পর থেকেই সংবাদপত্রে বিবৃতি দিয়ে ও নানাভাবে রাজনীতিতে আসার আকাঙ্খা ব্যক্ত করেন এরশাদ। ১৯৮২ সালের ২৪শে মার্চ প্রেসিডেন্ট আবদুস সাত্তারের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে এরশাদ রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেন। তিনি দেশের সংবিধানকে স্থগিত করেন। এরশাদ নিজেকে দেশের সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক ঘোষণা করেন। ১৯৮৬ সালে এরশাদ জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। আন্দোলনের মুখে এরশাদ ৬ই ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। ক্ষমতা হারানোর পর এরশাদ গ্রেপ্তার হন। নয় বছর কারাভোগ করতে হয় তাকে। পরে মুক্তজীবন পেলেও এরশাদ আর স্বাধীনভাবে রাজনীতি করতে পারেননি।




 এ বিভাগের অন্যান্য


নেত্রী বলেছেন আসেন, আবার এসে গেলাম


জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে খোকা


এবার ইবি ছাত্রলীগ নেতার চাঞ্চল্যকর অডিও ফাঁস


রাজনৈতিক দলের কোনো ধর্ম থাকতে পারেনা: মঞ্জু


যে গোয়েন্দা রিপোর্টে শোভন-রাব্বানীর ভাগ্য বিপর্যয়


কাদের না রওশন: জাপার চেয়ারম্যান আসলে কে?


নতুন জামায়াতের আমির হতে পারেন মিয়া গোলাম পরওয়ার


জামায়াতের সংস্কাপন্থীদের উদ্যোগে সাড়া নেই


কামাল-ফখরুল কি আতাত করে বিএনপিকে ভোটে রেখেছিলেন?


নিউজার্সি স্টেট বিএনপির কমিটি গঠিত


স্বৈরশাসক থেকে কিংমেকার


নতুন দলে যোগ দিতে রাজি হননি রাজ্জাক ও মাহমুদুর রহমান


জাপা কি দুই ভাগ হয়ে যাবে?


যে কারণে সংস্কার বা নতুন দল নিয়ে আগ্রহ নেই জামায়াতে


এরিক কি তার বাবাকে দেখতেও পাবে না?





All rights reserved www.durbinnews.com