www.durbinnews.com::জানি এবং জানাই

মিস্টার গণতন্ত্র!



 স্মৃতি আহসান    ২৪ এপ্রিল ২০১৯, বুধবার, ২:৪৫   সম্পাদকীয় বিভাগ


কয়দিন আগের ঘটনা। প্রখ্যাত সুরকার এ আর রহমানের কন্যার বোরকা পরা নিয়ে ভারতে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কেউ এর সমালোচনা করেছেন। কেউবা আবার বলেছেন, নিজের পছন্দের পোশাক পরার স্বাধীনতা তার রয়েছে। এবং এটাই গণতন্ত্র।
ছোট বেলা থেকেই আমরা এটা শুনে আসছি। বিশেষকরে ঢাকায় কাজ করা পশ্চিমা কূটনীতিকদের মুখে। সবচেয়ে বেশি যে শব্দটা তারা উচ্চারণ করতেন সেটা সম্ভবত ‘চয়েজ’। এটাই আসলেই গণতন্ত্রের মূলকথা। আপনার পছন্দসই কাজ আপনি করতে পারবেন। আমরা মুখে মুখে গণতন্ত্রের কথা বলি। তবে আদতে যে আমরা গণতান্ত্রিক নই তার সর্বশেষ প্রমাণ ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান।
টিআইবি। নানা সময়ে এ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা বিতর্কিত। এবার এ প্রতিষ্ঠানটি কাঠগড়ায় তুললো ওয়াসাকে। যে ওয়াসা বছরের পর বছর ধরে রাতে-দিনে আমাদের পানি সরবরাহ করছে। হ্যা কোথাও কোথাও হয়তো ওই পানি খাওয়ার অযোগ্য। গন্ধ থাকতে পারে। থাকতে পারে ময়লাও। তাই বলে সেটাতো আর ওয়াসার দোষ নয়। দোষ হলে পাইপের। না এটা আমার কথা নয়। এটা ওয়াসারই কর্তা ব্যক্তিদের কথা।
টিআইবির সমালোচনাতো কত লোকই করেন। বিএনপি, আওয়ামী লীগ সব আমলেই ষড়যন্ত্রের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছে তারা। তাকসিম এ খান যখন তাদের সমালোচনা করলেন তখনই আপনারা ক্ষেপে গেলেন। কেন রে বাপ! সবাই সমালোচনা করতে পারবে। ওয়াসার এমডি পারবেন না। এটা কোন আইনে লেখা আছে।
জুরাইনের মিজানুর সাহেবতো আরেক কাঠি সরস। তিনি জগ, গ্লাস, পানি নিয়ে হাজির হয়ে গেলেন ওয়াসা ভবনে। তার মনে বড় সাধ ওয়াসার এমডিকে শতভাগ বিশুদ্ধ পানির সরবত খাওয়াবেন। এমডির দেখা না পেলেও অন্য কর্মকর্তাদের দেখা পেয়েছেন তিনি। সমাধান না হোক! তার কথা শুনেছেন তারা।

আর সংবাদ মাধ্যমে এ নিয়ে কথাও বলেছেন তাকসিম খান। তার কথার শানে নুজুল দাঁড়ায়-যার তার সরবত তিনি খান না। নিজের পছন্দমত সরবত খাওয়ার অধিকার তার রয়েছে। এবং আপনি স্বীকার করুন আর নাই করুন এটাই আসলে গণতন্ত্র।
 





All rights reserved www.durbinnews.com