www.durbinnews.com::জানি এবং জানাই

তুমি আজ সাধু হলে আমি হলাম চোর



 সম্পাদকীয় নোটি    ২৫ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ১২:০৬   সম্পাদকীয় বিভাগ


শমী কায়সার। এক সময়কার অভিনেত্রী। ব্যবসায়ী। রাজনীতিবিদ। অনেক পরিচয় তার। বুধবার কী হলো কে জানে? দুটি মোবাইল হারিয়ে কি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। তার নিরাপত্তা কর্মীরা অর্ধ শতাধিক সাংবাদিককে আটকে রাখলেন আধ ঘন্টা ধরে। এমনকি এক কর্মীতো সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে চোর শব্দও উচ্চারণ করলেন। পরে অবশ্য শমী দু:খ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু দু:খ প্রকাশেই সবকিছু শেষ হয়ে যায় না। শমী কায়সার নিশ্চয়ই সেটা জানেন।
প্রয়াত কিংবদন্তি সাংবাদিক এবিএম মূসা বেঁচে থাকলে শমী কায়সারকে কী বলতেন জানি না। মহান পেশা সাংবাদিকতা। একটা সময় সাংবাদিক ছাড়া জীবনে কিছুই হতে চাই নি। কিন্তু বাংলাদেশে, বিশেষত এই ঢাকায় সাংবাদিকতা আজ অন্যতম কুলষিত পেশা। এই পেশা বেঁচে থাকবে কি-না তা নিয়েই সংশয় দেখা দিয়েছে। মালিক আর দলের দাসত্ব করতে গিয়ে এই পেশা তার মর্যাদা হারিয়েছে। হাত পাতাই যেন সাংবাদিকদের নিয়তি। রাজনীতিবিদেরা মনে করেন আমরা তাদের পোষ্য। সাংবাদিকরা তোষামদ করবেন এটাই প্রত্যাশা করেন টেবিলে বসে থাকা ব্যক্তিরা। যে কারণেই সাংবাদিকদের চোরও ঠাওর করতে পারেন শমী কায়সারের মতো ব্যক্তিরা। অপমান করতে পারেন মইনুল হোসেনরা।
শমী কায়সারের বিরুদ্ধে ফেসবুকে সরব হয়েছেন সাংবাদিকরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কার্যকর কোন প্রতিবাদ যে হবে না এটা এখনই লিখে দিতে পারি। দলীয় সাংবাদিকরা এতে মন খারাপ করতে পারেন, কিন্তু অপমান বোধ করবেন না। তারা ভাববেন আমাদের আপুইতো। দলীয় দাসত্ব থেকে মুক্তিই মর্যাদায় ফেরার একমাত্র পথ-সাংবাদিকদের সে বোধ কবে ফিরবে, আদৗ কোনদিন ফিরবে কি-না কে জানে।






All rights reserved www.durbinnews.com