www.durbinnews.com::জানি এবং জানাই

আরব শাসকদের কাছে কাশ্মীর নয়, মোদির গুরুত্ব বেশি



 দূরবীন ডেস্ক    ২৭ আগস্ট ২০১৯, মঙ্গলবার, ২:৩৪   আন্তর্জাতিক বিভাগ


কাশ্মীর নিয়ে এখন আলোচনা সারা দুনিয়াতেই। কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলে ক্ষুদ্ধ পাকিস্তান। তারা আশা করেছিল মুসলিম বিশ্ব এই ইস্যুতে সোচ্চার হোক, আওয়াজ তুলুক কাশ্মীরিদের অধিকারের পক্ষে। কিন্ত তা হয়িনি। কেন হয়নি সে প্রশ্নের জবাব খুঁজেছে বিবিসি। বৃটিশ এই সংবাদ মাধ্যমের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, কাশ্মীরকে বিবেচনা করা হতো ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিষয় হিসেবে। তবে বিষয়টি নিয়ে যখন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনা হলো, তখন কাশ্মীরিদের অনেকেই আশা করেছিল কাশ্মীর নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থায় এর সমাধান হবে। ভারতেও প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধীসহ আরো কয়েকটি দলের নেতারা সম্প্রতি কাশ্মীরে গিয়েছিলেন পরিস্থিতি দেখতে কিন্তু তাদেরকে রাজধানী শ্রীনগরের বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।ফিরে এসে রাহুল গান্ধী বলেছেন, "কাশ্মীরের পরিস্থিতি ভাল নয়।"

এর মধ্যে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংযুক্ত আরব আমিরাতে গেলে সেখানে তাকে উষ্ণ সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, সেদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা 'জায়েদ মেডাল'ও দেওয়া হয়েছে তাকে। এছাড়াও আবুধাবিকে নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় বাসস্থান হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছে। অনেকেই বলছেন, এর মধ্য দিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্য কিম্বা আরব বিশ্বের কাছে কাশ্মীরের চেয়ে ভারতের গুরুত্বই বেশি।  সৌদি আরবে ভারতের সাবেক কূটনীতিক তালমিজ আহমেদ বিবিসিকে বলেছেন, পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো মূলত কাশ্মীরকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিষয় বলেই মনে করে। এটাই তাদের সামগ্রিক ধারণা। তারা মনে করেন এই দুটো দেশেরই উচিত এর নিষ্পত্তি করা। তারা মনে করে কাশ্মীর কোন আন্তর্জাতিক ইস্যু নয়। সংবিধান থেকে যে ৩৭০ ধারাটি বাতিল করা হয়েছে সেটি ভারতের অভ্যন্তরীণ ও সাংবিধানিক বিষয় বলেও তারা মনে করে, বলেন তিনি। একই ব্যাখ্যা দিয়েছেন ভারতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল ফর ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্সের গবেষক ফজলুর রহমানও। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এখন বাস্তবতাবাদের যুগে প্রবেশ করেছে। নীতি নৈতিকতার যুগ এখন আর নেই। আপনি যদি আমেরিকা কিম্বা ইউরোপের দিকে তাকান তাহলেও একই জিনিস দেখতে পাবেন। সেখানেও আঞ্চলিক রাজনীতি ও তাদের নিজস্ব বিষয়গুলোই প্রাধান্য পাচ্ছে, বলেন মি. রহমান। তিনি আরো বলেন, ভারতের বিষয়ে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি গত আট দশ বছরে আমূল বদলে গেছে। তালমিজ আহমেদ বলেন, ভারতের সাথে আরব বিশ্বের সম্পর্কে বড়ো ধরনের পরিবর্তন আসে ২০০১ সালে যখন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী যশবন্ত সিং সৌদি আরব সফরে গিয়েছিলেন। মি. আহমেদ সেসময় সৌদি আরবে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি বলেন, আরব বিশ্বের সাথে ভারতের রাজনৈতিক সংলাপ শুরু হয় ২০০১ সালে। সৌদ আল-ফয়সালের সাথে তখন যশবন্ত সিং-এর দীর্ঘ এক বৈঠক হয়েছিল। সেসময় কাশ্মীর ইস্যুতে সৌদি নেতা তাদের বক্তব্য পড়ে শোনালে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে তিনি এর কোনটার সাথেই দ্বিমত পোষণ করেন না। তার মতে, এটা ছিল কাশ্মীরের প্রতি সৌদি আরবের বার্তা। তালমিজ আহমেদ বলেন, এর পর থেকে সৌদি আরব ও ভারতের মধ্যে নতুন করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সূচনা হয় যাতে বলা হয় যে অন্য কোন দেশের সাথে সম্পর্ক তাদের সম্পর্কে কোন প্রভাব ফেলবে না।

২০০৬ সালে এই সম্পর্ক আরো উষ্ণ হয় যখন ভারত তার প্রজাতন্ত্র দিবসে সুলতান আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানায়।  গত বছর যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও ভারত সফর করেছেন। তালমিজ আহমেদ বলেন, ভারত ও আরব বিশ্বের মধ্যে সম্পর্কে প্রথমদিকে জ্বালানী ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ২০১০ সালের পর এটি বদলে যায় এবং রিয়াদ ভারতের সাথে 'কৌশলগত অংশীদারিত্বের' কথা ঘোষণা করে। এর পর থেকে পাকিস্তানের সাথে আরব বিশ্বের সম্পর্ক দুর্বল হতে শুরু করে কীনা এই প্রশ্নের জবাবে মি. আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আসলে এভাবে কাজ করে না যে একটি দেশের সাথে সম্পর্ক তৈরি হলে আরেকটি দেশের সাথে সম্পর্ক ভেঙে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। তবে তার ভিত্তি আলাদা, বলেন তিনি। পাকিস্তানের সাথে সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে চায় তারা। কিন্তু এর সাথে ভারতের কোন সম্পর্ক নেই। ভারতের সাথে তারা যে সম্পর্ক তৈরি করেছে তার মধ্যে রয়েছে জ্বালানী, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা এবং সন্ত্রাস দমন। অন্যদিকে ফজলুর রহমান বলেন, গত ১০ বছরে ভারতের অর্থনীতি অনেক বেশি স্থিতিশীল হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থানের কথাও এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু অন্যদিকে এদুটো বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থান আগের তুলনায় বেশ খারাপ হয়েছে। তিনি বলেন, আরব বিশ্বের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই দুটো বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরো বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে পাকিস্তান সম্পর্কে একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে অতীতে এই দেশটি তাদেরকে বিভিন্ন বিষয়ে সমর্থন দিয়েছে কিন্তু ইয়েমেন, সিরিয়া কিম্বা লেবানন ইস্যুতে সেভাবে সমর্থন দেয়নি। এমনকি ইয়েমেনে সৈন্য পাঠাতেও তারা অস্বীকার করেছে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই-এ ভারত, ইসরায়েল, ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে নতুন যে রাজনীতি তৈরি হয়েছে তা থেকে পাকিস্তান যেন ক্রমশই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

 




 এ বিভাগের অন্যান্য


বাংলাদেশকে না দিলেও মালদ্বীপকে পেঁয়াজ দিচ্ছে ভারত


রেলস্টেশনে চা বিক্রি করে আজ এখানে পৌঁছেছি বললেন মোদী নিজেই


সরকার পতনের হাওয়া জোরদার হচ্ছে যেখানে


সিসির সাথে মধ্যাহ্নভোজে এরদোগানের অস্বীকৃতি


মাটির নীচে আমেরিকার ৬৩ কোটি ব্যারেল তেল ভান্ডার


পার্লামেন্টের প্রস্তাব না মানলে কারাগারে যেতে হতে পারে বরিস জনসনকে


গণতন্ত্রের কাছে এক প্রধানমন্ত্রীর হার


আসামে বাদ পড়াদের জন্য নির্মিত হচ্ছে বন্দিশিবির


নিরাপত্তা বাহিনীর কাঁদানে গ্যাসে মৃত্যু, কাশ্মীরে বিক্ষোভ


আরব শাসকদের কাছে কাশ্মীর নয়, মোদির গুরুত্ব বেশি


মোদিকে সর্বোচ্চ সম্মান দিল আরব আমিরাত


মালয়েশিয়ায় চাপের মুখে জাকির নায়েক


কাশ্মীর: সন্তান জন্মদানের খবরও পাঠানো যাচ্ছে না


কাশ্মীর নামের কারাগারে বন্দি ৭০ লাখ মানুষ


মোদীর সমালোচনার পর গ্রেপ্তার কাশ্মীরি নেতা





All rights reserved www.durbinnews.com