www.durbinnews.com::জানি এবং জানাই

ডাবল স্ট্যান্ড করা রুবানা পড়ালেখার খরচ চালাতেন টিউশনি করে



 দূরবীন ডেস্ক    ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার, ৩:৫৫   লাইফ বিভাগ


ডক্টর রুবানা হক। বিজিএমইএ’র ইতিহাসে প্রথম নারী সভাপতি। যদিও ঢাকার প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের স্ত্রী হিসেবেই প্রথম পরিচিত হয়ে ওঠেন। মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা রুবানার জীবনটা অবশ্য সংগ্রামুখর। ১৫ বছর বয়স থেকে টিউশনি করে নিজের পড়ালেখার খরচ চালাতেন। অনন্য মেধাবী মেয়েটি এসএসসি, এইচএসসি—দুবারই বোর্ডে স্ট্যান্ড করেছিলেন। পড়ালেখার দিকেই ছিল রুবানা হকের আগ্রহ, ব্যবসার প্রতি সেটা ছিল না একেবারেই। আনিসুল হকও শুরুতে চাইতেন না রুবানা ব্যবসায় আসুন। রুবানা হক তখন একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াতেন। পড়ানোটা উপভোগ করতেন। আনিসুল হকের ব্যবসাও ভালোই চলছিল। কিন্তু অতিরিক্ত কাজের চাপে আনিসুল হকের উচ্চ রক্তচাপ কমছিল না। এর মধ্যে একদিন চিকিৎসকের কাছে গেলেন তাঁরা। চিকিৎসক বললেন, ব্যবসার কিছু দায়িত্ব তো ভাবিকে দিলেই পারেন। কথাটি বেশ মনে ধরল আনিসুল হকের। বাড়িতে ফিরে আনিসুল হক ব্যবসার কাজে রুবানার সাহায্য চাইলেন। সে সময় আনিসুল হকের ব্যবসায়িক অংশীদারদের কারও স্ত্রী ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন না। তাঁরা কেউ অফিসে আসতেন না। রুবানা শুরুতে মতিঝিলের অফিসে গিয়ে বসে থাকতেন, টুকটাক কাজ করতেন। ধীরে ধীরে ব্যবসার কাজে যুক্ত হলেন। বর্তমানে ২১ টি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। রুবানা হক এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বলেন, আমি অনেক পড়ুয়া। আমি আনিসকে বলেছিলাম, যতই ব্যবসা দেখি না কেন, আমি কিন্তু পিএইচডি করবই। সে তো আমার বন্ধু ছিল, আবার ছিল ব্যবসায়িক পার্টনারও। ও বলত, যা-ই করো, ব্যবসা ঠিক রাখতে হবে। ব্যবসায়িক বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারি। এমনকি আনিসুল হকও অবাক হয়ে বলত, এত দ্রুত সিদ্ধান্ত নাও কী করে? আর আমাদের সব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কাছে আমি মায়ের মতো। কার কী প্রয়োজন, কার কোথায় সমস্যা—সেগুলো খেয়াল রাখি। এমনকি পোশাক কারখানাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে যাতে তাঁরা সময়মতো বেতন পান, সেটাও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করি। রুবানা হকের আরেকটি নিয়ম আছে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিজের মতো করে টিকতে হবে। একটি প্রতিষ্ঠান অপর প্রতিষ্ঠানকে কোনো আর্থিক ঋণ দেবে না। ২০ বছরের বেশি সময় ধরে এভাবেই চলছে। একের পর এক ব্যবসায়িক সফলতা আসতে থাকল, একসময় অংশীদারি ব্যবসা থেকে বেরিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠান গড়লেন। প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বত্বাধিকারী তখন তাঁরাই। ছেলে নাভিদও এখন মা রুবানা হকের সঙ্গে ব্যবসা দেখভাল করছেন। সন্তানেরা কত ভালো করছেন, এটা বলতে গিয়ে রুবানা হকের চোখে পানি চলে আসে। মনে হয় একজন সার্থক, সফল মা সামনে বসে আছেন। রুবানা হক মনে করেন, তাঁর সব কাজ শেখা আনিসুল হকের কাছ থেকে। এতগুলো বছর তিনি আনিসুল হকের ছায়াতেই ছিলেন। এক বছর আগে নির্ভরতার ছায়া সরে যাওয়ার পর নিজেকে মানসিক দিক থেকে আরও শক্ত করেছেন। কারও সামনে কখনো কাঁদেননি। শুধু মনে হয়েছে, সব ঠিকঠাক চালিয়ে নিতে হবে, নিয়েছেনও। ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুরুষোত্তম লালের প্রকাশনা সংস্থা ও রাইটারস ওয়ার্কশপের ওপর ‘রাইটারস ওয়ার্কশপ: এজেন্ট অব চেঞ্জ’ বিষয়ে পিএইচডি করেছেন রুবানা হক। ‘কেউ যখন আমাকে ডক্টর রুবানা হক বলেন, নামের পাশে লেখেন, কী যে ভালো লাগে—সেটা বোঝানো যাবে না। জীবনে শেষবারের মতো সমাবর্তনে হ্যাট-গাউন পরব, সেটা নিয়ে খুবই রোমাঞ্চিত আমি। 




 এ বিভাগের অন্যান্য


উনি আমাদের সবাইকে বিশাল এক লজ্জায় ফেলে দিলেন


বাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন দুই বারের উপজেলা চেয়ারম্যান


বৃটেনে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নাজমুলের কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগের খবর


নাসায় নিয়োগ পেলেন সিলেটের মাহজাবিন


সাংবাদিকতার পেলে কিংবা পিসি সরকার


মানুষ কেন মিথ্যা না বলে থাকতে পারে না?


ডাবল স্ট্যান্ড করা রুবানা পড়ালেখার খরচ চালাতেন টিউশনি করে


ড্যানিয়েল যেভাবে আবদুল্লাহ হলেন


গাভীর দুধ নিয়ে বাজারে যেতাম বিক্রি করতে


মোটা বেতনের চাকরি ছেড়ে ১২০০ শিশুকে খাইয়ে চলেছেন মইনুদ্দিন


কে এই রুবাবা দৌলা?


ডেঙ্গু নিরাময়ে পেঁপে পাতার রস কি আসলেই কার্যকর?


ট্রাম্পকে বাংলাদেশ চেনানো হবে, তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে ৬৪ জেলায়


উচ্চ রক্তচাপ?


অধ্যাপক আ ব ম ফারুক, আপনাকে সালাম জানাই





All rights reserved www.durbinnews.com