আজকের খবর


বাতাস আর পানি থেকেই জ্বালানি।


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৮ আগস্ট ২০২২, ১২:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

বাতাস আর পানি থেকেই জ্বালানি।

এবার শুধু বাতাস আর পানি থেকেই জ্বালানি তৈরি করেছেন সুইজারল্যান্ড এক দল বিজ্ঞানী। বলা হচ্ছে, এটি দিয়েই চলবে বিমান ও জাহাজ। 

তাছাড়া, এই জ্বালানি ব্যবহারে পরিবেশের কোন দূষণ  হবে না। কারন এটি সৌরশক্তিতে উৎপাদিত এবং সম্পূর্ন কার্বন নিউট্রাল।

নতুন এই জ্বালানির নামকরণ করা হয়েছে সিনথেটিক গ্যাস বা সিনগ্যাস। বলা হচ্ছে, ২০২৩ সালের মধ্যেই এর উৎপাদন পুরোদমে শুরু হবে। 

এতে করে, বর্তমান পৃথিবীতে জ্বালানির সংকট অনেকাংশেই কমিয়ে আনা যাবে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।

পৃথিবীতে জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হল মানবসৃষ্ট জ্বালানি। এই সমস্যার প্রায় ৫ শতাংশই সৃষ্ট হয় বিমানে ব্যবহৃত জ্বালানির কারণে। 

আকাশপথে যাত্রীচাপ ও বিমান চলাচল বাড়ায় দূষিত হচ্ছে বায়ুমণ্ডলের বাতাস। 

বিমানে সাধারণত যে জেট ফুয়েল ব্যবহৃত হয়, তা থেকে বিপুল পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়, যা জলবায়ু সমস্যা ত্বরান্বিত করে। 

তাছাড়া, জাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানিও এই সমস্যার অন্যতম কারণ। কেননা জাহাজের জ্বালানিতেও পরিবেশের ব্যাপক দূষণ হয়।

বলা হচ্ছে, নতুন জ্বালানি যেহেতু পুরোপুরি সৌরশক্তি হতে উৎপাদিত, তাই এতে পরিবেশ দূষণের কোন ভয় নেই। তাছাড়া, এটি বিমান ও জাহাজে ব্যবহারের জন্যও সম্পূর্ণ উপযোগী। 

বর্তমানে জ্বালানিটির উৎপাদন শুধুমাত্র কাগজে-কলমে কিংবা ল্যাবরেটরিতে সীমাবদ্ধ নয়, ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্ল্যান্টে এর উৎপাদন হচ্ছে। অতিশীঘ্রই এটি বাজারে আসবে বলে জোর প্রস্তুতি চলছে।

ইতোমধ্যেই, স্পেনের গবেষকরা জ্বালানি তৈরির জন্য একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্লান্ট তৈরি করেছেন। 
সেখানে সৌরবিদ্যুৎ, পানি ও বাতাসকে ব্যবহার করে  তৈরি করা হবে জ্বালানি। 

এটিই পরবর্তীতে কেরোসিন ও মিথানলে রূপান্তরিত হবে, যা ব্যবহৃত হবে বিমান ও জাহাজের জ্বালানি হিসেবে।

ইতোমধ্যেই প্রায় ১৬৯টি সোলার প্যানেল মাদ্রিদে অবস্থিত সেই জ্বালানি প্লান্টে স্থাপন করা হয়েছে।
মূলত, প্লান্টটিতে একটি টাওয়ার রয়েছে যার ভিতর অবস্থিত রয়েছে একটি রিয়েক্টর। 

প্রথমত, সৌরশক্তিকে সেই রিয়েক্টরের ভিতর ঘনীভূত করা হবে, যা পরবর্তীতে পানি ও কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে জ্বালানিতে রূপান্তরিত করবে। এতে মূল উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হবে হাইড্রোজেন ও কার্বন মনোক্সাইড। 

বিজ্ঞানী অ্যালডো স্টেনফিল্ডের মতে, এই জ্বালানি তৈরিতে উচ্চ তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়, যা মূলত সৌরশক্তি থেকে সরবরাহ করা হয়। 

বর্তমানে এই সৌরশক্তির কর্মদক্ষতা মাত্র ৪ শতাংশ, বলা হচ্ছে অতিশীঘ্রই এটি ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। 

এটি বাস্তবায়ন হলে,জ্বালানি উৎপাদনের খরচ আরও কমে আসবে। কমসংখ্যক সোলার প্যানেল ব্যবহার করেই অধিক পরিমান জ্বালানি তৈরি করা সম্ভব হবে।

ইতোমধ্যেই সুইস এয়ার লাইন্স সিনগ্যাস উৎপাদনে ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছে। আগামী ২০২৩ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হবে সোলার জেট ফুয়েল তৈরির কাজ।

আশা করা হচ্ছে, ২০২৫ সালের মধ্যেই তারা প্রায় ১ কোটি লিটার জেটফুয়েল  উৎপাদনে সক্ষম হবে। 

এই মধ্যে এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে সিনহেলিয়ন নামের একটি কোম্পানি। অল্পদিনের মধ্যে বাজারে আসতে যাচ্ছে এই জ্বালানি। 

নতুন আবিষ্কার বিশ্বের প্রচলিত জীবাশ্মনির্ভর জ্বালানির গতিপথ পাল্টে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। 



জনপ্রিয়