আজকের খবর
১১০ ফুট লম্বা চুলের ভার ১৯ কেজি!
দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে মাথার চুল লম্বা করছেন আমেরিকায় বসবাসরত আশা ম্যান্ডেলা নামের এক নারী।
তার মাথা জুড়ে ঘন কালো দড়ির মতো লম্বা চুল। লম্বা জট পাকানো চুল নিয়ে তিনি গড়েছেন এক অনন্য রেকর্ড।
গিনেজ বুকে বিশ্বের সব চেয়ে লম্বা জট পাকানোর চুলের অধিকারী হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। প্রতিবেশীদের কাছে এই নারী বেনীর রানি নামেই পরিচিত।
আশা জানান, কোন স্বীকৃতি বা পুরস্কারের জন্য তিনি এমনটি করেননি বরং এর পেছনে রয়েছে ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্য। তিনি বিশ্বাস করেন এভাবে একদিন তার জীবন বদলে যাবে।
আশা আরো জানান, তার চুলকে জট পাকানো বলতে তিনি নারাজ। এই চুল তার মাথার রাজকীয় মুকুট। তিনি তার চুলকে কোবরা সাপের সাথেও তুলনা করে থাকেন।
প্রায় চল্লিশ বছর আগে, তার মাতৃভূমি ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাকো থেকে আমেরিকার নিউইয়র্কে বসবাস শুরু করার পর থেকেই চুল বড় করে চলেছেন তিনি।
তখন থেকেই আর চুলে কাঁচি ছোঁয়াননি। ধীরে ধীরে জট বড় হতে শুরু করে। সেই সঙ্গে লম্বা হতে থাকে তার চুল।
২০০৯ সালে আশা ম্যান্ডেলার চুল ছিল লম্বায় ৫.৯৬ মিটার। বর্তমানে তার চুল প্রায় ৩৩.৫ মিটার বা ১১০ ফুট। ওজন প্রায় ১৯ কেজি।
ছোটবেলায় তিনি অদ্ভুত কিছু স্বপ্ন দেখতেন। তখনও ড্রেডলকস বা দড়ির মতো পাকানো চুল সম্পর্কে তার কোন ধারনাই ছিল না।
স্বপ্নে প্রচুর কোবরা সাপ দেখতে পেতেন। তারা তার সাথে কথা বলতো। সাপগুলি তাকে জানিয়েছিল কোন এক মহৎ উদ্দেশ্যে তারা তাকে মনোনীত করেছে।
নিজের লম্বা চুলের যত্ন ভালোভাবেই নেন ম্যান্ডেলা। চুলগুলো যেন মাটিতে পড়ে ময়লা না হয়, সে জন্য কাপড়ের মধ্যে রাখেন।
এমনকি ঘুমাতে গেলে ব্যাগে চুলগুলো ভরে কোলবালিশের মতো জড়িয়ে ধরে থাকেন তিনি।
চুলের যত্নের জন্য প্রচুর অর্থ খরচ করেন ম্যান্ডেলা। চুল ধুতে তার প্রয়োজন হয় প্রায় ছয় বোতল শ্যাম্পু। এরপর শুকাতে সময় লাগে দুইদিন।
ঘুমানোর সময় চুলগুলো বেঁধে পুটলির মতো করে রাখা হয়। আশা দাবি করেন চুলগুলি সেই সময় তার সাথে কথা বলে।
৬০ বছর বয়সী আশা তার চুলকে গাছের সাথে তুলনা করেন। তিনি বিশ্বাস করেন গাছে প্রয়োজনীয় সার না দিলে এবং যত্ন না করলে যেমন করে তা এক সময় মারা যায়, তার চুলগুলোও তেমন। তাই তাদের পরিচর্যা করতে হয়।
আশা ম্যান্ডেলার চুল পরিচর্যার দায়িত্বে আছেন তার স্বামী ইমানুয়েল চ্যাগে। তিনি পেশায় একজন দক্ষ ড্রেডলক হেয়ার স্টাইলিশ। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার স্ত্রীর দীর্ঘ চুল ভালোভাবে ধুয়ে দেন এই স্বামী।
তার আদি নিবাস কেনিয়ার নাইরোবিতে। তাকে আশা সম্বোধন করেন ব্যক্তিগত "কোবরা ট্রেইনার" হিসেবে।
প্রথম দিকে আশার দুই বোনের এভাবে চুল রাখার ব্যাপারে ঘোর আপত্তি ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে বিষয়টি বোঝানোর পর এখন তারাও আশার চুল লম্বা রাখার সিদ্ধান্তকে আনন্দের সাথে মেনে নিয়েছে।
নিজের এমন জট পাকানো ও লম্বা চুলের জন্য গর্বিত ম্যান্ডেলা। ভবিষ্যতেও লম্বা চুল রাখতে চান তিনি।
.jpg)
.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)