আজকের খবর


রাশিয়া সহ তিন দেশ থেকে খাদ্যশস্য আমদানির সিদ্ধান্ত


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৫ আগস্ট ২০২২, ০১:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

রাশিয়া সহ তিন দেশ থেকে খাদ্যশস্য আমদানির সিদ্ধান্ত

রাশিয়া, ভিয়েতনাম ও ভারত থেকে খাদ্যশস্য আমদানি শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

গত ২৪ আগস্ট, বুধবার রাশিয়া এবং ভিয়েতনাম সরকারের সঙ্গে আলাদা দুইটি বৈঠক করে খাদ্য মন্ত্রণালয়। বৈঠকে রাশিয়া থেকে ৫ লক্ষ টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

একইসঙ্গে, ভিয়েতনাম থেকে ২.৩ লক্ষ টন চাল আমদানির ‍সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। এর আগে খাদ্য মন্ত্রণালয় ভারতের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১ লক্ষ টন চাল আমদানির ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। 

এসব আমদানি হবে জিটুজি বা সরকার থেকে সরকার ভিত্তিতে অর্থাৎ তৃতীয় কোন পক্ষের উপস্থিতি ছাড়াই। 

এ ব্যাপারে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, “ইতোমধ্যে আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমরা এখন দ্রুত চুক্তিপত্র সই করবো।”

তাছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয় বৃহষ্পতিবার ভারতের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করবে। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আরো ১ লক্ষ টন চাল আমদানি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। 

এসব ছাড়াও আগামী ২৯ তারিখ খাদ্যশস্য ক্রয়ের ব্যাপারে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের সঙ্গে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকের কথা রয়েছে। 

ভারত থেকে যে চাল আমদানি করা হবে তার ৩০ শতাংশ রেলপথে এবং বাকিটা জাহাজে আনা হবে বলে জানা গিয়েছে। 

এছাড়া আগামী মাসের মধ্যেই রাশিয়ান গমের কমপক্ষে দুইটি চালান দেশে আনতে চায় বাংলাদেশ সরকার।

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, রূপালী এবং অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে নতুন আমদানি চালানগুলোর মূল্য পরিশোধ করা হবে। 

রাশিয়া ইউক্রেন সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তি। আবার যুদ্ধের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসল উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। 

এমন পরিস্থিতিতে অতিপ্রয়োজনীয় এসব দানাদার শস্য আমদানি সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বিষয়।

খাদ্যশস্য আমদানির নতুন চুক্তিগুলো দেশের খাদ্যের মজুতকে আরো সমৃদ্ধ করবে। এছাড়া বৈশ্বিক মন্দার এই সময়ে আমদানির উদ্যোগ খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করতে বড় ভুমিকা রাখবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত শুরুর পর থেকেই রাশিয়া থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ রয়েছে। তবে শস্য আমদানিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা না থাকায় গম আমদানির মধ্য দিয়ে অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। 

তাছাড়া রাশিয়া থেকে সরকারিভাবে আমদানি প্রক্রিয়া শুরু হলে পরবর্তীতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও দেশটির সাথে বাণিজ্য শুরু করতে পারবে।  

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্যের দাম লাগামহীন ভাবে বাড়তে শুরু করেছে। যার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়েছে। 

এসব কারণে একটা সময় ৩৮-৪০ টাকা কেজি দরের বিক্রি করা খোলা আটা এখন কিনতে হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকায়। 

আবার গম ও আটার দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে রুটি পাউরুটিসহ বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাদ্য উৎপাদনের খরচও বেড়ে গিয়েছে। 

গমের পাশাপাশি চালের দামও বেড়েছে দফায় দফায়। আন্তর্জাতিক বাজারে ঘাটতি ছাড়াও দেশে চাল উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় এমনটা হয়েছে। 

গত বোরো মৌসুমে কয়েক দফা বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ঝড়ের কারণে চালের উৎপাদন কমে গিয়েছে। এছাড়া চলতি আমন মৌসুমে খরার কারণে শস্য উৎপাদন কম হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

তাছাড়া তেল ও সারের দাম বৃদ্ধি এবং লোডশেডিংয়ের কারণে পর্যাপ্ত সেচ দিতে না পারায় আমনের উৎপাদন সংকটের মধ্যে পড়েছে। 

এসব কারণে গম ও চাল আমদানিতে সরকার বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছে। ডলারের বাড়তি দামের প্রভাব লাঘব করতে সরকার এখন চালের ওপর থাকা আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। 





জনপ্রিয়