আজকের খবর
দুই মাসে পদ্মা সেতুর টোল আদায় কত?
উদ্বোধন পর থেকে গত দুই মাসে পদ্মা সেতুতে কত টোল আদায় হয়েছে তা জানিয়েছেন সেতু বিভাগ।
প্রথম দুই মাসে টোল আদায় হয়েছে ১৩৮ কোটি ৮৪ লাখ ৩ হাজার ৮৫০ টাকা। এ সময়ে সেতু অতিক্রম করেছে ১০ লাখ ৪৯ হাজার ৩৩৫টি যান।
এই দুই মাসে প্রতিদিন গড়ে যান পারাপার হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার ২১৩টি। আর গড় টোল আদায় প্রায় ২ কোটি ২৮ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫১ টাকা।
গত ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের দিন যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। পরদিন ২৬ জুলাই সকাল ৬টা থেকে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
স্বপ্নের সেতু খুলে দেয়ার পর এক নজর দেখার জন্য বহু মানুষের সমাগম হচ্ছে। ধারণার চেয়েও পদ্মা সেতুতে বেশি যানবাহন চলাচল করছে।
সেতু চালুর ৬ দিন পর মাত্র একদিনে ৩ কোটি ১৬ লাখ টাকারও বেশি টোল আদায় হয়েছে। এরপর পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সেতুতে যানবাহনের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়।
মাত্র এক মাসের মাথায় টোল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮০ কোটি টাকারও বেশি। পদ্মা সেতু নির্মাণের আগে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, সেতু দিয়ে দিনে প্রায় ২৪ হাজার যানবাহন চলাচল করবে।
মাত্র ৪১ দিনেই ১০০ কোটি টাকার টোল আদায় করে মাইলফলক স্পর্শ করে স্বপ্নের এ স্থাপনা।
বর্তমানে পদ্মাসেতুতে যে পরিমাণ টোল আদায় করা হয়, পরবর্তীতে তা আরও বেড়ে যাবে। প্রতি ১৫ বছর পরপর টোল হার ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে।
সে হিসাবে ২০৫৩ সাল নাগাদ একটি প্রাইভেট কারের টোল দুই হাজার টাকার বেশি হবে। ২০৫০ সালে এই সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে ৬৬ হাজার ৮২৯টি।
এ সেতুর মাধ্যমে দক্ষিণের ২১ জেলার মানুষের যোগাযোগে বিরাট পরিবর্তন হাওয়া লেগেছে। এখন জাজিরা প্রান্ত থেকে দেশের ২১টি জেলায় যাওয়া যায়।
সেতু চালু হওয়ার পূর্বে জাজিরা মাঝিরঘাট থেকে ফেরি ও জোয়ার-ভাটা ভেদে মাওয়া প্রান্তে যেতে কখনও একঘণ্টা, আবার কখনও দেড় ঘণ্টা লেগেছে।
এখন সরাসরি বরিশাল থেকে ঢাকা যেতে সময় লাগে মাত্র ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা। ৬ কিলোমিটারের পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্ত থেকে মাত্র ১০ থেকে ১২ মিনিটেই পৌঁছানো যায় মাওয়া প্রান্তে।
খুলনা, যশোর থেকে চার, সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানীতে পৌঁছানো যায়।
ফলে পদ্মা সেতুকে ঘিরে পুরো দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি আরো বেশি গতিশীল হচ্ছে। সেতুর কাছাকাছি জেলার অনেকে বাড়ি থেকেই সরাসরি ঢাকায় অফিস করতে পারছেন।
শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নয়, উৎপাদন, কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচনের মধ্য দিয়ে জাতীয় ও আঞ্চলিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে পদ্মা সেতু।
এছাড়াও গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ আন্তর্জাতিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করেছে এ সেতু।
ভারতের সেভেন সিস্টার্সের জন্যও পদ্মা সেতু মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে। আশা করা হচ্ছে, সেতুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের অর্থনীতির দৃশ্যপট বদলে যাবে।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)