আজকের খবর
ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল কেনা যাবেনা।
ক্রেতার ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া এখন থেকে আর কোনো মোটরসাইকেল কেনা যাবেনা। দেশে মোটরসাইকেল কেনাবেচার ক্ষেত্রে নতুন এ নিয়ম চালু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ।
এ নিয়ে একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সেখানে বলা হয়েছে, "ব্যক্তির পাশাপাশি যেকোনো প্রতিষ্ঠানের মোটরসাইকেল কেনার ক্ষেত্রেও যার জন্য কেনা হচ্ছে তার ড্রাইভিং লাইসেন্স অবশ্যই থাকত হবে। "
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিআরটিএ।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মোটরসাইকেল কিনতে হলে ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। এমনকি প্রতিবেশি দেশ ভারতেও এই নিয়ম চালু রয়েছে।
তবে বাংলাদেশে এমন কিছু প্রচলিত ছিল না।
ইদানীং দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় টনক নড়েছে সড়ক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যাক্তিদের।
এতদিন পর্যন্ত কেবল শিক্ষানবিস লাইসেন্স নিয়েই যে কেউ মোটরসাইকেল ক্রয় এবং নিবন্ধন করতে পারতেন।
এরপর ক্রেতার সুযোগ অনুযায়ী যেকোনো সময় ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরি করে নেওয়াতে কোনো বিধি নিষেধ ছিলোনা।
কিন্তু ভবিষ্যতে চূড়ান্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যতিত কেউই মোটরসাইকেল ক্রয় এবং রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন না।
আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদানের সময় সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকার বিষয়টি রেজিস্টারিং অথরিটি কর্তৃক নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগেও ২০১৯ সালের ১৬ জুন বিআরটিএ কর্তৃক আরও একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিলো।
যেখানে মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উল্লেখ করে জানানো হয়, মোটরসাইকেল বিক্রির সময় শিক্ষানবিস লাইসেন্স আছে কি না, তা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।
তবে অনেকে শিক্ষানবিস লাইসেন্স আছে কি না, তা যাচাই না করেই কেবল আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিক্রির কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।
তা সত্ত্বেও মোটরসাইকেল বিক্রি করা কোম্পানি গুলোর বিরুদ্ধে কোনো আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনা বিপুল পরিমাণে বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে দুই চাকার এই যানকে দায়ী করা হচ্ছে।
সড়ক দূর্ঘটনার জরিপ করে দেখা গেছে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অদক্ষ, কিশোর ও তরুণেরা কোনোপ্রকার প্রশিক্ষণ ব্যতীতই স্বজনদের বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়ে।
হেলমেট ব্যতীত, শহরের কোলাহলপূর্ণ রাস্তাগুলোতে তারা বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালায়।
বুয়েটের এক গবেষণায় জানা গেছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের ৮৮ শতাংশই দুর্ঘটনার সময় হেলমেট পরা ছিলেন না।
তাই ভবিষ্যতে সকল চালকরা ড্রাইভিং লাইসেন্সের আওতায় আসলে এই সকল সমস্যার সমাধান হবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।
এর পাশাপাশি আরও কিছু উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে সাত দিন দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলো সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।
এদিকে সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা জোরদার করা ও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে গঠিত টাস্কফোর্স গত মাসে আন্তজেলা ও মহাসড়কে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধের সুপারিশ করেছে।
তবে প্রতিনিয়ত সরকারের এই সকল সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন মোটরসাইকেল আরোহীরা। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গুলো এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)