আজকের খবর


শ্রমিকের বেতন বৃদ্ধির পর কেজিতে ৬০ টাকা দাম বেড়েছে চা পাতার!


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

শ্রমিকের বেতন বৃদ্ধির পর কেজিতে ৬০ টাকা  দাম বেড়েছে চা পাতার!

শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর পর এবার বৃদ্ধি পেলো খোলা এবং প্যাকেটজাত চা পাতার দাম। খোলা পাতা কেজিতে বেড়েছে ৬০ টাকা। অপরদিকে ১১ টাকা দাম বেড়েছে প্যাকেটজাত ৪০০ গ্রামের চা পাতায়।

উৎপাদক প্রতিষ্টান গুলো বলছে জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে প্রভাব পড়ছে চায়ের দামে। তবে সংশ্লিষ্ট অনেকে বলছেন জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধি নয়, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি দাম বাড়ার মুল কারন।  

চা বাগান মালিকদের সমিতি বাংলাদেশ টি এসোসিয়েশন বলছে, শ্রমিকদের লাগাতার আন্দোলনে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এই শিল্প। হাতবদলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম বাড়ছে বলে ও জানান তারা।

বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির ৪০০ গ্রামের প্যাকেটজাত চা পাতা বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়। যা দুই সপ্তাহ আগে ও বিক্রি হচ্ছিল ১৯৯ টাকায়।

এছাড়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১ কেজি ওজনের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ৫২০ টাকায়। খুচরা দোকানিরা বলছেন শিঘ্রই আরো  দাম বাড়বে প্রয়োজনীয় এই দ্রব্যটির। 

তারা বলছেন কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যেই ঘোষানা দিয়েছেন দুয়েকদিনের মধ্যে দাম বাড়ানো হবে আরো ১০ টাকা। 

এছাড়া এক সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা বাজারে ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি খোলা চা পাতার দাম দাড়িয়েছে ৪০০ টাকা। 

দাম বৃদ্ধির এই প্রভাব পড়েছে রাস্তার পাশে চায়ের দোকানেও। এলাকা ভেদে  প্রতি কাপ চা বিক্রি হচ্ছে এখন ৮ থেকে দশ টাকায়। এছাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে দুধের দামও।

চা বাগান হতে নিলামে বিক্রি হয় চা। গেল ১৫ ও ১৬ তম নিলামে কেজি প্রতি ১৩ টাকা বেড়ে বাগান থেকে চা পাতা বিক্রি হয়েছিল ২২০ টাকা দরে। 

যদিও ১০ থেকে ১৪ তম নিলাম পর্যন্ত এর গড় দাম ছিল ২০৭ থেকে ২১২ টাকা। চা উৎপাদক প্রতিষ্টান গুলো বলছে জ্বালানি খরচ বাড়ায় বেড়েছে পরিবহন খরচ।

এর আগে নিজেদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে ধর্মঘটে নামেন চা শ্রমিকেরা। আন্দোলনের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে শ্রমিকদের বেতন ৫০ টাকা বাড়ানো হলে শেষ হয় ধর্মঘট।

ধর্মঘট চলাকালীন সময়ে উৎপাদিত হয়নি চা। টানা ১৯ দিনের ধর্মঘটে দেশের বাগান গুলোতে চায়ের উৎপাদন কমে গিয়েছিল এক তৃতীয়াংশ।  

ফলে বাজারে সরবরাহ কম এবং চাহিদা ছিল সর্বোচ্চ। আর এই ফাকে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছে চায়ের দাম। 

টি এসোসিয়েশন বলছে ধর্মঘটে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও উপায় রয়েছে ঘুরে দাড়ানোর। এখন বাড়তি চাহিদার যোগান দিতে বাগানে বাড়াতে হবে উৎপাদন। 

সংগঠনটির দাবি, চায়ের বাজারে হাত বদলের ফলে সৃষ্টি হচ্ছে অসামাঞ্জস্যতা। উঠছে দাম নির্ধারন করে দেওয়ার দাবিও। 

খুচরা পর্যায়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন চা পাতার দাম বৃদ্ধিতে কমেছে বিক্রি। ভোক্তারাও জনপ্রিয় এই পানীয় গ্রহনের পরিমান কমিয়ে দিয়েছেন।

দেশে প্রতি বছর উৎপাদিত হয় ৯৬ মিলিয়ন কেজি চা। দেশীয় এই পণ্যের বৃহৎ বাগান রয়েছে ১৬৭ টি। এছাড়া ক্ষুদ্র বাগান রয়েছে  ৮ হাজারেরও বেশি। 

২০০১ সাল থেকেই দেশে ধারাবাহিকভাবে চা উৎপাদন বেড়েছে। ওই বছর উৎপাদন হয়েছিল ৫ কোটি ৩ লাখ কেজির মতো। 

এরপর ২০১৬ সালে উৎপাদন সাড়ে আট কোটি কেজিতে উন্নীত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালে দেশে চা উৎপাদন ৯ কোটি ৬০ লাখ ৭০ হাজার কেজি হয়, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড। 

করোনাকালে ২০২০ সালে উৎপাদন কিছুটা কমে ৮ কোটি ৬৩ লাখ ৯০ হাজারে নামলেও সর্বশেষ ২০২১ সালে চা উৎপাদন উন্নীত হয়েছে ৯ কোটি ৬৫ লাখ কেজিতে।



জনপ্রিয়