আজকের খবর


পদ্মাসেতুর নিরাপত্তার দায়িত্বে আনসার বাহিনী।


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০২ অপরাহ্ন, শনিবার

পদ্মাসেতুর নিরাপত্তার দায়িত্বে আনসার বাহিনী।

এবার পদ্মাসেতুর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত হয়েছে বাংলাদেশ আনসার বাহিনী। গত ১ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার থেকে নিজেদের কাজ বুঝে নেয় তারা।

এর আগে দেশের সর্ববৃহৎ এ সেতুর নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে। তাদের সঙ্গে সেতু কর্তৃপক্ষের চুক্তি ছিল গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। 

চুক্তির মেয়াদ না বাড়ায় আনসার বাহিনীকে সেতুর দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে ব্যারাকে ফিরে গেছে তারা। 

তাই এখন থেকে পদ্মা সেতুর উপরে, নিচে ও আশপাশের এলাকায় টহল এবং সেনা চেকপোস্ট আর দেখা যাবে না।

সেতুর নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং টোল আদায়ের জন্য বিদেশি ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। তাদের অধীনেই আনসার বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে।

দেশের যোগাযোগব্যবস্থায় অন্যতম মাইলফলক পদ্মাসেতু প্রকল্পের শুরু থেকেই ছিলো নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা।

২০১২ সালে পদ্মা সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ কাজ শুরুর সময় থেকেই এর নিরাপত্তায় কাজ করছিল সেনাবাহিনী। 

পরে ২০১৪ সাল থেকে সেতুর ঠিকাদার কাউন্টডাউন শুরু হয়। এরপর থেকে সেনাবাহিনী পদ্মা সেতু দিয়ে নিরাপত্তার বলয় তৈরি করে। সেতু ঘিরে তৈরি করা হয় সেনাবাহিনীর ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেড।

সেতু প্রকল্পের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণশৈলীতে ইঞ্জিনিয়ার পরামর্শক নিয়োগে পদ্মা প্রকল্পের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হয় তারা।

সব মিলিয়ে তিন হাজার সেনাবাহিনী সদস্য টানা প্রায় ১০ বছর এই দায়িত্ব পালন করে। স্বপ্নজয়ের এ সেতুকে শত বছর টেকসই রাখতে এতোদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে নিরাপত্তার কাজ করে গেছে তারা।

নিজেদের কাজের নির্ধারিত মেয়াদ শেষে এখন তারা সেতুর দুই প্রান্তে শেখ রাসেল সেনানিবাসেই অবস্থান করবেন।

তবে প্রয়োজনে আবার ডাক পড়লে এই গুরুদায়িত্বে যেকোনো সময় ফিরতে প্রস্তুত পেশাদার ও দেশপ্রেমী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

তারা বলছেন, সকল প্রয়োজনে জাতির আস্থার প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সদা তৎপর ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

বৈশ্বিক পরিবহন অবকাঠামোতে প্রকৌশলগত উৎকর্ষ ও অর্জনের প্রতীক এই সেতুর স্থায়িত্ব ধরা হয়েছে ১০০ বছর। সেতুটির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

ইতিমধ্যে দেশের মেগা পরিবহন অবকাঠামো পদ্মা সেতু অক্ষত রাখার জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

যার মধ্যে রয়েছে যানবাহনের গতিসীমা নির্ধারণ, যানবাহন দাঁড় করানো ও যানবাহন থেকে নেমে ছবি তোলা ও হাঁটা নিষিদ্ধকরণ।

এছাড়া ট্রাফিক নিয়ম বা শৃঙ্খলা নিশ্চিতে সিসি ক্যামেরায় মনিটরিং-এর আওতায় আনা হয়েছে পুরো সেতুটি।

পদ্মা সেতুর নিরাপত্তায় এর দুই পাড়ে চারতলা ভবনবিশিষ্ট দুটি নতুন থানা উদ্বোধনের পাশাপাশি সেখানে দুটি ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ভৌত অবকাঠামো পদ্মাসেতু। গত ২৫ জুন যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় এটি।

এর মাধ্যমে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলে যাচ্ছে দক্ষিনাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবনযাত্রা। কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব ক্ষেত্রেই লাগছে যুগান্তকারী পরিবর্তনের হাওয়া। 

অন্যদিকে পায়রা ও মংলা বন্দরসহ দক্ষিণের সকল উৎপাদনশীল কল-কারখানা, সংস্থা, প্রতিষ্ঠানের সাথে সরাসরি সংযোগ থাকায় জাতীয় অর্থনীতি উন্নয়নে রয়েছে এর ভূমিকা।

বলা যায়, এই সেতু বাংলাদেশের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং জাতি হিসেবে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক।



জনপ্রিয়


আজকের খবর থেকে আরও পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শুক্রবারও ভাঙচুর অব্যাহত

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা শুরু হয়েছে, তার কিছু অংশ শুক্রবারও অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুর চলতে দেখা গ

আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে বিচারের আওতায় আনার দাবি নাহিদ ইসলামের

নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের আওতায় আনা উচিত। শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চলমান মামলায় রোববার তার সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হয়।

পাহাড়িদের ওপর হামলা, শাহবাগ অবরোধ বিক্ষুব্ধ জুম্ম ছাত্র-জনতার

পাহাড়িদের ওপর হামলা, শাহবাগ অবরোধ বিক্ষুব্ধ জুম্ম ছাত্র-জনতার

সচিবালয়ে প্রভাব বিস্তারকারী তানভীর সমন্বয়ক নয় : বাকের

সচিবালয়ে প্রভাব বিস্তারকারী তানভীর সমন্বয়ক নয় : বাকের