আজকের খবর


ফেলে দেয়া প্লাস্টিকে সড়ক তৈরি হলো এবার বাংলাদেশে


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার

ফেলে দেয়া প্লাস্টিকে সড়ক তৈরি হলো এবার বাংলাদেশে

ফেলে দেয়া প্লাস্টিক আর টাইলসের গুড়া ব্যবহার করে নির্মিত হচ্ছে সড়ক। যা খরচের দিক দিয়ে সাশ্রয়ী হবার পাশাপাশি দীর্ঘদিন টেকসই হবার সম্ভাবনা রয়েছে। 

সড়ক নির্মানের এমন উদ্ভাবনী পদ্ধতি এর আগে বিদেশে শোনা গেলেও বাংলাদেশে ব্যবহৃত হলো এই প্রথম। 

সম্প্রতি গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী সড়কঘাটা এলাকায় নির্মিত হয়েছে ১শ মিটার দীর্ঘ একটি গ্রামীণ  সড়ক।  

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই সড়কে বিটুমিন এবং  ইটের খোয়ার সাথে ফেলে দেয়া টাইলসের গুড়া ব্যবহার করা হয়েছে। 

স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর জানিয়েছে, নতুন উদ্ভাবিত এই পদ্ধতির মাধ্যমে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে দেখছে তারা। 

ফেলে দেয়া প্লাস্টিক এবং টাইলসের গুড়া ব্যবহার করে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে বিটুমিনের সাশ্রয় এবং সড়কের স্থায়ীত্ব। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের পর ইতোমধ্যে নতুন এ পদ্ধতির  ইতিবাচক সম্ভাবনা প্রত্যাশা করছে কর্তৃপক্ষ। 

গাজীপুরের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের  নির্বাহী প্রকৌশলী- আব্দুল বারেক গনমাধ্যমের কাছে বলেছেন, বিভিন্ন  প্রয়োজনে পলিথিন এবং প্লাস্টিক ব্যবহারের পর তা ফেলে দেয়া হয় বর্জ্য হিসেবে। 

যা নষ্ট করে পরিবেশের ভারসাম্য। সেজন্য পরীক্ষামূলক ভাবে ১শ মিটার গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।

মূলত প্লাস্টিকের আঠালো বৈশিষ্ট্যের কারণে সড়ক নির্মানে প্রয়োগ করা হচ্ছে এটি। অপরদিকে ইটের খোয়ার পরিমাণ কমানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে ফেলে দেওয়া টাইলসের গুঁড়া।।

বর্তমানে প্রচলিত বিটুমিন গরম করার পর এর সাথে প্লাস্টিক মেশানো হলে  মুহূর্তেই তৈরি হয় নতুন একটি আঠালো মিশ্রণ। যা সড়কের স্থায়ীত্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে কার্যকর হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষামূলক পদ্ধতিতে তৈরি এই সড়কটি পর্যবেক্ষণ করা হবে আগামী এক বছর পর্যন্ত। 

মূলত একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে গাজীপুরের এই সড়ক নির্মান করা হয়েছে।  এর পাশাপাশি ল্যাবরেটরির মধ্যে চালানো হবে আরও অধিকতর পরীক্ষা নিরীক্ষা।

সবশেষে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে এই পদ্ধতির সড়ক নির্মানে গুরুত্ব দেয়া হবে। 

প্রাথমিক ভাবে গাজীপুরের গ্রামীন এই সড়কে শতকরা ৯১ ভাগ বিটুমিনের সাথে ৯ ভাগ প্লাস্টিক মেশানো হয়েছে।

অপরদিকে  রাস্তাটির কিছু অংশে ইটের খোয়ার পরিবর্তে মেশানো হয়েছে ফেলে দেওয়া টাইলসের গুঁড়া। এর উপরেই করা হয়েছে ঢালাই।

ফলে সড়কটিতে বিটুমিন খরচ হয়েছে তুলনামূলক কম। আগের ১শ কেজি বিটুমিনের জায়গায় ব্যবহার করা হয়েছে ৯১ কেজি,  এর সাথে মেশানো হয়েছে ৯ কেজি প্লাস্টিক। 

সবশেষে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গরম করার পর মিশ্রনটি প্রয়োগ করে ঢালাই করা হয়েছে সড়ক। পরীক্ষামূলক এই  প্রক্রিয়া বাংলাদেশের মধ্যে  গাজীপুরেই প্রথম ব্যবহার হলো। 

তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক আগে থেকেই প্লাস্টিকের সড়ক নির্মিত হচ্ছে। 

চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে তৈরি হয় এরকম একটি সড়ক। কোকাকোলা কোম্পানির সহায়তায় নির্মিত এই সড়কে ব্যবহার করা হয়েছিলো  প্রায় ১০ হাজার কেজি ফেলে দেয়া প্লাস্টিক।  

অপরদিকে ভারতে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার কিলোমিটার রাস্তা বানানো হয়েছে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে। মূলত ভারতের সাফল্য দেখেই আগ্রহী হচ্ছে বিশ্বের অন্যান্য দেশ। 

অভিনব এই পদ্ধতিতে সড়ক নির্মান কৌশল প্রথম দেখিয়েছিলেন ভারতের মাদুরাই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যাপক রাজা গোপালান বাসুদেবন। 

এরপর বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এই পদ্ধতি। বর্তমানে ভারত-পাকিস্তান ছাড়া ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং আমেরিকাতেও সড়ক নির্মিত হয়েছে  ফেলে দেয়া প্লাস্টিক ব্যবহার করে। 




জনপ্রিয়