আজকের খবর
ঢাকার রাস্তা থেকে ট্যাক্সি যেভাবে হারিয়ে গেল!
ভারতের কোলকাতা সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অনেক শহরে এখনো ট্যাক্সি চলাচল করে।
ঢাকা শহরেও একসময় অসংখ্য ট্যাক্সি চলাচল করত।
কিন্তু বর্তমানে এই সার্ভিস ঢাকা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। ১৯৯৭ সালের পরে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্যাক্সি চলাচল শুরু হয়। সে সময় ব্যক্তি মালিকানায় হাতে গোণা কয়েকটি ট্যাক্সি চলাচল করত ঢাকার রাস্তায়।
চাহিদা এবং নির্দিষ্ট কোনো সরকারি নীতিমালা না থাকায়, ট্যাক্সি সেবাদানকারী বড় কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না। যার কারণে, যাতায়াতের জন্য যাত্রীরা ট্যাক্সির পরিবর্তে বিকল্প মাধ্যম ব্যবহার করত।
২০০১ সালে তৎকালীন সরকার ঢাকা থেকে বেবিট্যাক্সি নামের যান ব্যান করে দেয়। তারপর থেকে যাতায়াতের জন্য যাত্রীদের মধ্যে ট্যাক্সিক্যাপ ব্যবহারের চাহিদা বৃদ্ধি পেতে থাকে।
তখন, বেবিট্যাক্সি ড্রাইভারদের অনেকে ট্যাক্সি ড্রাইভার হিসেবে কাজ করতে শুরু করে। কিন্তু তাদেরকে সেসময় কোনোরকম প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি।
যার কারণে অনেকে যাত্রীদের সাথে ভালো ব্যবহার করত না এবং মানসম্মত সেবা দিতে ব্যর্থ হতো।
সে সময় যাত্রীদের চাহিদা মেটানোর জন্য ভারত থেকে ৮০০ সিসির Non-AC মারুতি এবং টাটা কোম্পানির কয়েক হাজার গাড়ি নিয়ে আসা হয়।
কিন্তু এসব গাড়ি খুব একটা মানসম্মত ছিল না।
তার উপর ঢাকার ভাঙাচোরা রাস্তায় চলাচল করায় সেগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যেত এবং নিয়মিত maintenance করাও হতো না।
পরবর্তীতে ১৫০০ সিসির ট্যাক্সি নামানো হয় রাস্তায়। ২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকার কয়েকটি ফ্লাইওভার তৈরির প্রকল্প গ্রহণ করে। ফলে ঢাকার যানজট আরও বেশি বৃদ্ধি পেতে থাকে।
যানজটের কারণে তখন ঢাকার রাস্তায় খুব বেশি রাইড দেওয়া সম্ভব ছিল না ট্যাক্সিগুলোর জন্য।
ফলে ড্রাইভারদের আশানুরূপ ইনকামও হতো না।
Maintenance সমস্যা এবং আয় না হওয়ায় ট্যাক্সির সংখ্যা আস্তে আস্তে কমে যেতে থাকে।
পরবর্তীতে ২০১৪ সালে তৎকালীন সরকার আবারও ঢাকা ও চট্টগ্রামের রাস্তায় ট্যাক্সি সার্ভিস চালু করে এবং ভাড়া বৃদ্ধি করে দেয়।
শুরুতে ট্যাক্সির ভাড়া প্রথম দুই কিলোমিটারের জন্য ৬০ টাকা এবং তার পরের প্রতি কিলোমিটারের জন্য ১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। Waiting charge প্রতি দুই মিনিটের জন্য ৩ টাকা ৭৫ পয়সা ছিল।
পরবর্তীতে এই ভাড়া বাড়িয়ে প্রথম দুই কিলোমিটারের জন্য ১০০ টাকা এবং তার পরের প্রতি কিলোমিটারের জন্য ৩৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
তখন Toma Taxi এবং Trust Transport Services নামের দুটি কোম্পানি ট্যাক্সি সার্ভিস প্রোভাইড করতে থাকে।
২০১৫ সালের শেষের দিকে পাঠাও-এর হাত ধরে বাংলাদেশে রাইড শেয়ারিং-এর যাত্রা শুরু হয়। এরপর একে একে উবার, ওভাই এবং সহজ, রাইড শেয়ারিং সার্ভিস প্রোভাইড করতে শুরু করে।
তখন থেকে সার্ভিসটি বাংলাদেশে জনপ্রিয়তা লাভ করতে শুরু করে। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে রিকুয়েস্ট পাঠানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই কার চলে আসে।
এর ফলে এটি যাত্রীদের জন্য ট্যাক্সি সার্ভিসের চেয়ে অনেক বেশি সুবিধাজনক। অন্যদিকে Professional Driver খুব সহজেই রাইড খুঁজে পান বলে, তাদের জন্য এটি লাভজনক।
এর কারণে ২০১৮ সালের পর থেকে ট্যাক্সি সার্ভিস আস্তে আস্তে হারিয়ে যেতে থাকে।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)