আজকের খবর


সরকারী চাকরিজীবি বিড়াল ল্যারি দ্যা ক্যাট!


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার

সরকারী চাকরিজীবি বিড়াল ল্যারি দ্যা ক্যাট!

ল্যারি দ্যা ক্যাট নামের একটি বিড়ালকে নিয়ে টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচনা হচ্ছে গত কয়েকদিন ধরে। 

এমনকি ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ল্যারিকে দেখতে চাওয়ার দাবিও তুলছেন অনেকে।

যুক্তরাজ্যে যখন ক্ষমতার রদ বদলের হাওয়া বইছে তখন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন কিংবা নব নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের চাইতেও বেশি আলোচনা হচ্ছে ল্যারিকে নিয়ে!

আলোচিত ল্যারি কোনো সাধারণ বিড়াল নয়। ব্রিটিশ মন্ত্রিসভা কার্যালয়ের ‘চিফ মাউসার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে সে।

ব্রিটিশ সরকারের ওয়েব সাইট থেকে পাওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, ইঁদুর ধরার বিশেষ ক্ষমতার জন্য ল্যারিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ২০১১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে সে ব্রিটিশ মন্ত্রিসভা কার্যলয়ে নিয়োজিত আছে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ইঁদুরের উৎপাত থেকে রক্ষা পেতে পোষা হয় একাধিক বিড়াল। যাদের নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয় ল্যারিকে। মজার ব্যাপার হচ্ছে আনুষ্ঠানিকভাবেই পদটির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাকে।

যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে বিডাল নিয়োগ দেয়ার ঘঠনা এবারই প্রথম নয়। ল্যারির আগেও এ কাজে নিযুক্ত ছিল হামফ্রি নামের একটি বিড়াল। এটি ১৯৯৭ সালে অবসরে যায়।


যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দপ্তরেও ২০১৬ সালে চিফ মাউসার পদে পালমারসন নামের একটি বিড়ালকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ২০২০ সালের বছরের আগস্টে পালমারসন অবসরে গেছে।

সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ক্ষমতায় থাকা কালীন, কেবিনেট অফিসের কাছে সরাসরি সম্প্রচারের সময় বড় এক কালো ইঁদুর দেখার পর থেকে ল্যারিকে জন্য নিয়োগ করা হয়।

প্রায় এগারো বছর আগে লন্ডনের ব্যাটারসি ডগস অ্যান্ড ক্যাটস হোম থেকে সাদা-ধূসর রঙের মেয়ে বিড়াল ল্যারিকে ইঁদুর দমনের জন্য নিয়ে আসা হয় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দশ নং ডাউনিং স্ট্রিটে।

গত এগারো বছরে ডেভিড ক্যামেরন, থেরেসা মে, বরিস জনসন ও লিজ ট্রাস মোট চার চারজন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাজ করছে সে।

অনেকে তাই মজা করে বলেন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী আসে আর যায় থেকে যায় শুধু ল্যারি।
বরিস জনসনের পদত্যাগের পর ল্যারির বেশকিছু ভিডিও সম্প্রতি ইন্টারনেট দুনিয়ায় বেশ ভাইরাল হতে দেখা যায়।

এর মধ্যে একটি ভিডিওতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাইরে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় ল্যারিকে। 

সাংবাদিকদের সামনে গম্ভীর ও মনোযোগী ভঙ্গীমায় দেখা গেছে তাকে। দেখে মনে  হচ্ছে ডাউনিং স্ট্রিটের পরবর্তী বাসিন্দা কে কবে সেটা নিয়েও যেন তার চিন্তা কম নয়।

এদিকে ল্যারির ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর একজন টুইটারে দাবি করে বসেছেন, তিনি মনে করেন ল্যারিকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী করতে ভোট দেয়া উচিত।

কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন, কনজারভেটিভ পার্টির যেকোনো নেতার চেয়ে ল্যারি তার কাজটা ভালো ভাবে করেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে ও পদচারণ রয়েছে এই বিড়ালের। তবে ল্যারির নামে যে টুইটার অ্যাকাউন্ট রয়েছে সেটি আসলে একটি প্যারোডি অ্যাকাউন্ট।

সেই অ্যাকাউন্ট থেকে করা এক টুইট পোস্টে লেখা হয়েছে, ল্যারি অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনে ইচ্ছুক।’ বরিসের চেয়ে তাকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী করা ভালো হবে বলেও টুইটে উল্লেখ করা হয়েছে।

সদ্য সাবেক বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের গুঞ্জন শুরুর পর থেকে বেশ কিছু মজার টুইট করা হয়েছে ল্যারির অ্যাকাউন্ট থেকে।

বরিসের পদত্যাগের দিন একটি টুইটে লেখা হয়েছে, ‘বরিস জনসন যদি সকাল ১০টার মধ্যে পদত্যাগ না করেন তবে আমি তার জুতোয় পটি করে দেব।’

বরিস পদত্যাগের পর সেই টুইট বার্তাটা আবার শেয়ার করে লেখা হয়েছে, ‘বরিসকে পদত্যাগ করাতে সক্ষম হয়েছি।’



জনপ্রিয়