আজকের খবর
সব রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ
দেশের বাজারে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ। গত রবিবার থেকে প্রতি ভরি হলমার্ক করা ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাড়িয়েছে ৮৪ হাজার ৫৬৪ টাকায়।
গত বছরের ডিসেম্বর মাসেও এই মূল্য ছিলো প্রায় এগারো হাজার টাকা কম। এরকম অবস্থায় স্বর্ণের দাম আর কতো বাড়বে এমন প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে জনসাধারনের মনে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারের গতিবিধি অনুযায়ী ভবিষ্যতে আরো দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত জুলাই মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি স্বর্ণের মজুত বেড়েছে ৩৭ মেট্রিক টন। এর মধ্যে কাতার একাই কিনেছে ১৫ টন।
ফলে দেশটির বর্তমান স্বর্ণের মজুত দাড়িয়েছে প্রায় বাহাত্তর টনে। ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক অবরোধ এবং অনিশ্চয়তা থেকে বাঁচার জন্যে এমন উদ্যোগ নিয়েছে কাতার।
এছাড়া একই সময়ে প্রতিবেশি দেশ ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিনেছে ১৩ টন স্বর্ণ। আর তুরস্ক এবং উজবেকিস্তান কিনেছে ১২ এবং ৯ টন করে।
এসব দেশের এতো বেশি স্বর্ণ কেনার কারণ অনিশ্চয়তা। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বিশ্ব অর্থনীতির উপর অনেকটাই নির্ভরশীল।
মহামারি পরিস্থিতির পর ইউরোপে যুদ্ধের কারণে বড় ধরণের অস্থিরতায় পড়েছে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি। এর ফলে মূল্যস্ফীতি সহ নানা ধরণের সমস্যা দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন দেশে।
এরকম সময়ে সবচেয়ে বেশি চাঙ্গা থাকে স্বর্ণ বাজার। বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে স্বর্ণের চাহিদা। অপরদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে সোনার দামও বৃদ্ধি পায় সবচেয়ে বেশি।
যার প্রমান দেখে গেছে গত কয়েক মাসে। বর্তমানে স্বর্ণের দাম পৌছেছে ইতিহাসের রেকর্ড উচ্চতায়। বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী এই দাম আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাজারের অন্যান্য পন্যের মতো স্বর্ণের দামও নির্ধারিত হয় চাহিদা ও যোগানের মাধ্যমে। যোগান সাধারণত প্রায় একই রকম থাকে প্রতি বছর।
অপরদিকে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধিতে অবদান রাখে বিভিন্ন বিষয়। এই চাহিদা বৃদ্ধির সাথেই স্বর্নের দামও পরিবর্তন হয় সমান্তরাল ভাবে।
সাধারণত দুই কারণে স্বর্ণ কিনে থাকে মানুষ। যার একটি গয়না এবং অপরটি বিনিয়োগ হিসাবে।
গয়না হিসাবে সবচেয়ে বেশি সোনা ব্যবহার করে চীন এবং ভারত। অন্যান্য দেশেও ভালো পরিমানে বিক্রি হয় স্বর্ণের গয়না।
আন্তর্জাতিক গোল্ড কাউন্সিলের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের ৪৭ ভাগ সোনা ব্যবহার করা হয় গয়না হিসাবে, যার পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ২৩০ টন।
অপরদিকে বিনিয়োগ হিসাবে সোনার ব্যবহার বহুল ভাবে প্রচলিত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সোনায় বিনিয়োগ করার জন্য বন্ডসহ নানা ধরনের আর্থিক সম্পদ রয়েছে।
হিসাব অনুযায়ী, সোনার বার ও সোনার মুদ্রায় বিনিয়োগের পরিমাণ বর্তমানে ১ হাজার টনের বেশি।
আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার সময় এই খাতে বিনিয়োগ বেড়ে যায় কয়েক গুন। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও ভবিষ্যতের জন্য বাড়িয়ে দেয় সোনার মজুত।
বর্তমানে অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে সোনার চাহিদা বাড়ছে। কয়েকটি দেশ শুধুমাত্র সরকারি ভাবে কিনেছে ৩৭ মেট্রিক সোনা।
অপরদিকে ভারতে এখনো শুরু হয়নি সোনা বিক্রির মৌসুম। সাধারণত এই মৌসুম শুরু হয় নভেম্বর মাস থেকে। এর ফলে বেড়ে যাবে সোনার চাহিদা।
সব মিলিয়ে চাহিদা বৃদ্ধির কারনে স্বর্ণের মূল্য আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পৃথিবীর অন্যতম মূল্যবান এই পদার্থ বিনিয়োগের নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসাবে পরিচিত।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময়ে এক ভরি সোনার দাম ছিল ১৫৪ টাকা। তখন মাথাপিছু আয় ছিলো ৫০৯ টাকা থেকে সামান্য বেশি। এই পরিমান টাকা দিয়ে সে সময় ৩ দশমিক ৩১ ভরি সোনা কেনা যেতো।
বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় মাথাপিছু আয় প্রায় ২ লাখ ৬৮ হাজার টাকার মতো। অপরদিকে স্বর্ণের ভরি এখন বিক্রি হচ্ছে ৮৪ হাজার ৫৬৪ টাকায়।
এই হিসাবে এখনো মাথাপিছু আয় দিয়ে ৩ দশমিক ১৭ ভরি সোনা কেনা সম্ভব।
যা পঞ্চাশ বছর আগের তুলনায় প্রায় সমান। এ কারণে স্বর্ণ বিবেচিত হয় সবচেয়ে স্থিতিশীল এবং নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসাবে।
.jpg)
.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)