আজকের খবর
বাংলাদেশের সঙ্গে সড়কপথে যুক্ত হবে থাইল্যান্ড
প্রতিবেশি দেশ ভারত এবং মায়ানমার এর মধ্য দিয়ে থাইল্যান্ড পর্যন্ত তৈরি হচ্ছে ত্রিপাক্ষিক মহাসড়ক। যা ভবিষ্যতে সম্প্রসারিত হতে পারে কম্বোডিয়া এবং লাওস পর্যন্ত।
আন্তর্জাতিক এই মহাসড়কে যুক্ত হবার মাধ্যমে সম্ভবনার নতুন এক দিগন্ত উন্মুক্ত হবে বাংলাদেশের সামনে।
থাইল্যান্ড পর্যন্ত সরাসরি সড়ক যোগাযোগের ফলে সহজ হবে আন্তর্জাতিক বানিজ্য, পর্যটন শিল্প সহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাত। যার মাধ্যমে লাভবান হবে দেশ।
ভারত-মায়ানমার এবং থাইল্যান্ড এর মধ্যকার এই ত্রিপক্ষীয় মহাসড়কে যুক্ত হবার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে মহাসড়কের বাংলাদেশ অংশের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে তিনটি বিকল্প রুট।
যার একটি হচ্ছে সিলেটের শ্যাওলা সুতারকান্দি সড়ক। চলতি বছর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে চলমান রয়েছে এই করিডোরের উন্নয়ন কাজ।
বাংলাদেশের চিহ্নিত করা তিনটি বিকল্প রুটের দ্বিতীয়টির অবস্থানও সিলেটে। যেটির দৈর্ঘ্য বাংলাদেশের তামাবিল থেকে ভারতের ডাউকি পর্যন্ত।
বাংলাদেশ অংশে এই করিডোরের উন্নয়ন করা হচ্ছে ঢাকা-সিলেট এবং সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে।
এর মধ্যে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের উন্নয়নে অর্থায়ন করেছে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক।
এছাড়া তিনটি বিকল্প রুটের সর্বশেষ টি হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া থেকে ভারতের আগরতলা পর্যন্ত। বর্তমানে এই করিডোরের উন্নয়নকাজও চলমান চলমান রয়েছে।
আশুগঞ্জ নদীবন্দর থেকে সরাইল-আখাউড়া মহাসড়কটির উন্নয়ন করা হচ্ছে ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিটের অর্থায়নে।
চলতি বছর ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড ত্রিপক্ষীয় মহাসড়কের সাথে যুক্ত হবার জন্য এই তিনটি রুট চিহ্নিত করেছে সওজ। এর মধ্য থেকে যেকোন একটিকে চূড়ান্ত ভাবে নির্বাচিত করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কয়েক বছর থেকেই ভারতের ‘লুক ইস্ট’ নীতির অধীনে ভারত-মিয়ানমার এবং থাইল্যান্ডের মধ্যে নির্মিত হচ্ছে একটি ত্রিপাক্ষিক মহাসড়ক। যেটির দৈর্ঘ প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটারের বেশি।
ত্রিপাক্ষিক এই মহাসড়ক ভারতের মনিপুর রাজ্য থেকে পার্শবর্তী মায়ানমারের বাগান অঞ্চল হয়ে থাইল্যান্ড পৌছাবে।
আন্তর্জাতিক এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত করতে ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন একটি সড়ক এবং ৬৯ টি ব্রিজ নির্মান করছে ভারত। যার কাজ শুরু হয়েছে ২০১৭ সাল থেকে।
তবে ২০২১ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হবার কথা থাকলেও এখনো কিছু কাজ বাকি আছে বলে জানা গেছে।
এরই মধ্যে চলতি বছর ত্রিপাক্ষিক এই মহা সড়কটি কম্বোডিয়া পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এই মহাসড়কে যুক্ত হবার জন্ ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রস্তাব করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর গত ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে পররাষ্ট্র মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে ভারত।
এদিকে চলতি বছর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এক টেলিফোন আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে।
এ সময় ত্রিপাক্ষিক মহাসড়কে যুক্ত হতে চেয়ে দেশটির সমর্থনের প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।
এর আগে ২০০৯ সালের নভেম্বর মাসে এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত হয় বাংলাদেশ। তিনটি রুটের অধিনে বাংলাদেশে এশিয়ান হাইওয়ের দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৭৭১ কিলোমিটার।
আন্তর্জাতিক এই নেটওয়ার্কে দুটি মিসিং পয়েন্ট ছিলো বাংলাদেশে, যা ইতিমধ্যে পদ্মা সেতু এবং মধুমতি সেতুর মাধ্যমে পূরন করা হয়েছে।
.jpg)
.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)