আজকের খবর
সিলেটে মিলবে প্রতিদিন ৫-৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস
সিলেটের বিয়ানীবাজার গ্যাসক্ষেত্রের পরিত্যক্ত ১ নম্বর কূপ খননের কাজ আবার শুরু হয়েছে। এ কূপ থেকে প্রতিদিন ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ১০ই সেপ্টেম্বর থেকে পরিত্যক্ত গ্যাস কূপ পুনঃখনন করে নতুন করে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়েছে।
পুনঃখনন কাজ উদ্বোধন করেন বাপেক্স এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী ও সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মিজানুর রহমান।
বিয়ানীবাজার গ্যাস ফিল্ডের ১ নম্বর কূপ থেকে ১৯৯১ সাল থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়েছিলো।
এরপর টানা প্রায় ২৩ বছর গ্যাস উত্তোলন প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে চলমান থাকলেও ২০১৪ সালে এসে তা বন্ধ হয়ে যায়।
দুই বছর বিরতি দিয়ে পূনরায় ২০১৬ সালে গ্যাস উত্তোলন শুরু হলে ওই বছরের শেষদিকে আবারও তা বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৭ সালের শুরু থেকেই এই কূপটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে বাপেক্স ওই কূপে অনুসন্ধান কাজ চালায়। তাতে দেখা যায়, সেখানে এখনও গ্যাস মজুদ রয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে নতুন করে খনন কাজ শুরু হয়েছে।
সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, "পুনঃখনন কাজ শুরু হয়ে গেছে। কিছুদিনের মধ্যে এই কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি আমরা। এরপরই উৎপাদনে যাওয়া যাবে।"
তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন ৫-৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের আশা করছি আমরা। তবে খননকাজ শেষ না হওয়ার আগ অবধি নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
বর্তমানে এসজিএফএলের আওতায় মোট পাঁচটি গ্যাস ফিল্ডস রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- হরিপুর গ্যাস ফিল্ড, রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড, ছাতক গ্যাস ফিল্ড, কৈলাসটিলা গ্যাস ফিল্ড ও বিয়ানীবাজার গ্যাস ফিল্ড।
যার মধ্যে দুর্ঘটনাজনিত কারণে ছাতক গ্যাস ফিল্ড থেকে উত্তোলন বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে সে ফিল্ডটি সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
বাকি ১২টি কূপ থেকে বর্তমানে প্রতিদিন ৯১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে।
বর্তমানে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের অধীনে গোলাপগঞ্জের কৈলাশটিলা-৮, বিয়ানীবাজার-১ ও গোয়াইনঘাট-১০ নম্বর কূপ খনন এবং রশিদপুরে ১টি পাইপলাইন স্থাপন প্রকল্পের কাজ চলছে।
এসব প্রকল্পের কাজ শেষে এসজিএফএলের গ্যাস উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া দুটি প্রকল্পের আওতায় বিয়ানীবাজার ফিল্ড এবং ব্লক-১৩ ও ১৪-এর আওতায় ডুপিটিলা, বাতচিয়া, হারারগঞ্জ, জকিগঞ্জ ও সিলেট সাউথে জরিপ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পথে।
বিয়ানীবাজার গ্যাসক্ষেত্রের ১ নম্বর কূপ দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকলেও ২ নম্বর কূপ থেকে প্রতিদিন সাত থেকে সাড়ে সাত মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলিত হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়।
গ্যাসের জন্য বরাবরই খ্যাতি রয়েছে সিলেটের। ১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে প্রথম গ্যাসের সন্ধান মেলে। এরপর আবিষ্কৃত হয় আরও বেশ কিছু গ্যাসক্ষেত্র।
দেশে বর্তমানে ২৮টি আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে। এসব গ্যাসক্ষেত্রে প্রমাণিত মজুতের পরিমাণ ২১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন বর্গফুট। এছাড়া আরও ৬ টিসিএফ রয়েছে সম্ভাব্য মজুতের আওতায়।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)