আজকের খবর
বিমানে করে চিতা আসছে ভারতে
আফ্রিকার দেশ নামিবিয়া থেকে ৮ টি চিতাবাঘকে কার্গো বিমানে করে উড়িয়ে আনা হচ্ছে ভারতে। বাঘগুলোকে ছেড়ে দেয়া হবে মধ্যপ্রদেশের কুনো পালপুর জাতীয় উদ্যানে।
১৯৫২ সালের পর ভারতের জঙ্গল থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল চিতা বাঘ। অতিমাত্রায় চিতা শিকার এবং তাদের বাসস্থান নষ্ট করাই মূলত এর জন্য দায়ী।
চিতার অভাবে জীব বৈচিত্র্য সংকটে ভুগছিল ভারতের জঙ্গলগুলো। দীর্ঘ ৭০ বছর পর দেশটিতে আবারও তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত বংশবৃদ্ধির জন্য বিদেশ থেকে আনা হচ্ছে কিছু চিতা।
৮ টি চিতার মধ্যে ৫ টি নারী এবং ৩ টি পুরুষ। নামিবিয়ার সাভানা উপত্যকার জঙ্গলে একসাথেই দলবেঁধে শিকার করত তারা।
ভারতের এই অভিনব চিতা প্রকল্পের জন্য একটি বি-৭৪৭ জাম্বো জেট কার্গো বিমানকে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। দূরপাল্লার যাত্রার উদ্দেশ্যেই একসময় তৈরি করা হয়েছিল বি-৭৪৭ বিমানটিকে।
এটি মূলত কাস্টোমাইজড কারগো বিমান যা পশুদের বহন করতে পারে। এর উল্লেখ্যযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল, আকাশে এক টানা ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত উড়তে পারে। এতোটা সময়ের মধ্যে জ্বালানীর প্রয়োজনেও থামতে হবে না বি-৭৪৭ বিমানকে।
নামিবিয়া থেকে ভারতের চিতাবাহী এই বিমানের যাত্রা পথে দেয়া হবে না কোন ট্রানজিট বা যাত্রা বিরতি। আর এই কারণেই পশুদের বহনে এ ধরনের বিমান বেছে নেয়া হয়েছে।
বিমানের বাইরের দিকে সামনের অংশে আঁকা হয়েছে একটি বাঘের মুখ। ভেতরের অনেকটা জায়গা ফাঁকা করে বসানো হয়েছে বাঘের খাঁচা।
চিতাগুলিকে সুস্থ ভাবে ভারতে নিয়ে আসার জন্য নানা ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে দেশটির বনবিভাগ। যাত্রাপথে চিতা বাঘগুলোকে দেয়া হবে না কোন প্রকার খাবার।
একেবারের গন্তব্যে পৌঁছেই খেতে দেয়া হবে তাদের। কারণ বিমানে থাকাকালীন খাবারের প্রভাবে পশুদের শারীরিক সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিমানের ভেতরে যাতে চিতাগুলো অস্বস্তিবোধ না করে, তাই তাদের দেয়া হচ্ছে হালকা ঘুমের ওষুধ।
বিমানে তাদের দেখাশোনা এবং চিকিৎসার জন্য থাকছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিতা বিশেষজ্ঞ ডঃ ল্যরি মার্কার। পাশাপাশি থাকছেন আরও একজন পশু চিকিৎসক এবং বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষীও।
নামিবিয়া থেকে বি-৭৪৭ ফ্লাইটে প্রথমে চিতাদের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে আনা হবে। সেখান থেকে ভারতীয় বায়ুসেনার চিনুক হেলিকপ্টারে করে তাদের নিয়ে যাওয়া হবে শেওপুর এলাকার কুনো পালপুরে।
অন্য দেশ থেকে আসছে বলে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। কুনোতে পৌঁছানোর পরে, চিতাগুলোকে ১ মাসের জন্য আলাদা করে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে।
এসময় তারা বনবিভাগের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকবে। করা হবে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা। ৩০ দিন পর সব কিছু ঠিক থাকলে সুস্থ চিতাদের ছেড়ে দেয়া হবে কুনো পালপুর উদ্যানে।
স্থায়ীভাবে সেখানেই থাকবে তারা। তবে নিজের এলাকা ছেড়ে নতুন পরিবেশে অভ্যস্ত হতে কিছুটা সময় লাগবে তাদের।
তাই মানসিকভাবে চিতাগুলোকে নতুন পরিবেশের সাথে খাপখাইয়ে নেয়ার জন্য প্রথমেই সরাসরি উদ্যানে ছাড়া হবে না।
বরং কিছুদিন ছেড়ে রাখা হবে তারের বেড়া দিয়ে ঘেরা একটি খোলা জায়গায়। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেয়ার পর স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ছেড়ে দেয়া হবে কুনো পালপুর জাতীয় উদ্যানে।
এই বিশেষ স্থানেই চিতাদের অবমুক্ত করা হচ্ছে কারণ এই অরণ্যতেই চিতাগুলো শিকারের জন্য পর্যাপ্ত প্রাণী খুঁজে পাবে।
প্রাণীদের শিকারের আদর্শ স্থানগুলোকে বলা হয় গুড প্রে বেস। পালপুর উদ্যানের গুড প্রে বেসে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিচরণ করে চিংকারা, স্পটেড ডিয়ার ও ব্ল্যাকবাক, যারা চিতাবাঘের প্রিয় খাবার।
একটি দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য বনভূমি অঞ্চলে কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ টি চিতা বাঘ থাকা প্রয়োজন।
তাই ভারতকে এখন পরিবেশ রক্ষার খাতিরেই চিতাবাঘের অভাব দূর কর করতে হচ্ছে। ভবিষ্যতে দক্ষিণ আফ্রিকা অথবা নামিবিয়া থেকে আরও ৫০ টি অল্প বয়স্ক চিতা নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির।
নামিবিয়া থেকে ভারতে আগত এই চিতারা আফ্রিকার প্রজাতির। ভারত থেকে একসময় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এশিয়ান প্রজাতির চিতাদের এখন কেবল মাত্র ইরানেই পাওয়া যায়।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)