আজকের খবর
কর্ণফুলী পরিস্কারে চমক দেখালো বাংলাদেশে নৌবাহিনী
যেই কাজ করতে না পেরে পালিয়ে গিয়েছিলো চীন এবং মালয়েশিয়ার মতো উন্নত দেশের প্রতিষ্ঠান, সেই একই কাজ সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করে দেখিয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
দেশের অর্থনীতির 'হৃৎপিণ্ড' হিসাবে পরিচিত চট্টগ্রাম বন্দরের 'প্রাণ' কর্ণফুলী নদী। কিন্তু ভরাট এবং দূষণের কারণে প্রায় মরতে বসেছিলো নদীটি। যা নিয়ে চিন্তিত ছিলো বন্দর কর্তৃপক্ষ।।
তবে আপাতত প্রান ফিরে পেয়েছে চট্টগ্রামের এই নদী। ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে নদীটির মধ্যে। আর এই কাজ করে চমক দেখিয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী কয়েক বছর থেকে চরম আকার ধারণ করেছিলো কর্ণফুলী নদীর অবস্থা। ড্রেজিংয়ের শুরুতে ধারণা করা হয়েছিলো তলদেশের ১৩ ফুট গভীর পর্যন্ত জমে আছে পলিথিনসহ গার্বেজ মিশ্রিত মাটির স্তর।
কিন্তু খনন করতে গিয়ে দেখা যায় কোন কোন অংশে গার্বেজের এই স্তর জমে আছে ২১ ফুট পর্যন্ত।
শুরুতে কর্ণফুলী নদী পরিস্কারের দায়িত্ব পেয়েছিলো বিদেশি কোম্পানি। কিন্তু নদীর নিচে এতো বেশি পরিমান বর্জ্যের ভাগাড় দেখে কাজ ফেলে এক রকম পালিয়ে যায় চীন এবং মালয়েশিয়ান দুইটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ৩২ ইঞ্চি ব্যাসের কাটার সাকশন ড্রেজার এনেও কাজ করতে পারেনি তারা। অবস্থা বেগতিক দেখে কাজ না করেই চলে যায় বিদেশি কোম্পানি দুটি।
এরপর বাধ্য হয়ে কঠিন এই কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো দেশীয় প্রতিষ্ঠানের হাতে। যা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে নিজেদের সক্ষমতা দেখিয়েছে নৌবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ।
'পলিথিনের নদী' হিসাবে পরিচিতি পাওয়া কর্ণফুলী এখন পলিথিনমুক্ত। ড্রেজিং প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। চলতি মাসেই কাজ বুঝে নেবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
তবে তার আগে সরেজমিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান- বুয়েটের বিশেষজ্ঞরা।
প্রকল্প-সংশ্নিষ্টদের বক্তব্য থেকে জানা গেছে, ড্রেজিং এর পর বর্তমানে পানির প্রবাহ বেড়েছে কর্ণফুলী নদীতে, অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে নতুন করে প্রান ফিরে পেয়েছে নদীটি।
তবে এখনো বিভিন্ন খালের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত গার্বেজসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য আসছে কর্ণফুলীতে। এসব বন্ধ করা না গেলে সত্যিকারের সুফল স্থায়ী হবে না বেশিদিন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের বন্দরনগরী চট্টগ্রাম শহরে প্রায় ২৪৯ টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয় প্রতিদিন। যার বেশিরভাগ অংশ গিয়ে পড়ে কর্ণফুলীতে নদীতে।
তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ গনমাধ্যমের কাছে জানিয়েছে, ড্রেজিং এর পর নদীর বর্তমান অবস্থা ধরে রাখার জন্য আরো তিন বছর মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং চালিয়ে যাবা তারা।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দিকে কর্ণফুলী নদীতে ৪২ লাখ ঘনমিটার বালু-মাটি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিলো। পরে বুয়েটের পরামর্শকরা পরীক্ষা করে পান ৫১ লাখ ঘনমিটারের অস্তিত্ব।
ড্রেজিং এর মাধ্যমে এসব উত্তোলনের পর দেখা গেছে, বালু-মাটির বেশিরভাগ অংশ্যই পলিথিন এবং পলিথিন জাতীয় বর্জ্য। যার পরিমাণ ২৬ লাখ ঘনমিটারের কাছাকাছি।
নদীটির কোনো কোনো অংশে ছিলো ২১ ফুট পর্যন্ত পলিথিনের স্তর। যেই কারণে চর জেগে বাধাগ্রস্ত হচ্ছিলো স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ। অপরদিকে নদীর প্রশস্ততা কোথাও কোথাও ৮০০ মিটার থেকে কমে গিয়ে দাড়িয়েছিলো ৪০০ মিটারে।
এসব কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছিলো চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম। এই অবস্থায় ২০০৯ সালে ২৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে 'সদরঘাট থেকে বাকলিয়ার চর ড্রেজিং' নামের একটি প্রকল্প হাতে নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ।
যেটির আওতায় প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ২৫০ মিটার চওড়া নদী অঞ্চল খনন করার কথা ছিলো। কিন্তু গত কয়েক বছরে দুইটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ চেস্টা করেও কাজটি করতে পারেনি।
মূলত পলিথিনের জঞ্জাল জমে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিলো কর্ণফুলী নদীর তলদেশ। এসব জঞ্জাল তুলতে না পেরেই ব্যর্থ হয় সবগুলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
শেষ পর্যন্ত বুয়েটের পরামর্শ মেনে বন্দর কর্তৃপক্ষ চুক্তি করে 'বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী ই-ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি'র সাথে। কিছুদিন আগে কর্ণফুলী নদী পরিস্কারের কাজ সম্পন্ন করেছে তারা।
কিন্তু কাজটি আরো ভালোভাবে করা যেতো মন্তব্য করেছেন অনেকে। কিছু বিশেষজ্ঞ ড্রেজিং এর স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে বিদেশি প্রতিষ্ঠান পালিয়ে যাওয়ার পর দেশীয় প্রতিষ্ঠানের এমন সফলতা চমক হিসাবেও দেখছেন অনেকে।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)