আজকের খবর


সোনার খনি পাওয়া গেল মদিনায়


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:০০ অপরাহ্ন, সোমবার

সোনার খনি পাওয়া গেল মদিনায়

সৌদি আরবের মদীনায় পাওয়া গেছে নতুন সোনার খনি। পাশাপাশি পাওয়া গেছে তামার খনিও।  

সৌদি কতৃপক্ষ বলছে, সোনার খনির অবস্থান মদিনার আবা আল রাহার সীমার মধ্যে। এটি উম্মুল বারাক হেজাজের ঢাল। 

নতুন এ খনি, ৪০ বর্গ কিলোমিটারের বেশি জায়গা জুড়ে বিস্তৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে। অঞ্চলটিতে  তামা,দস্তা, সোনা এবং রুপা মজুত আছে। 

অপরদিকে মদিনার আল মাদিক এলাকার চারটি স্থানে পাওয়া গেছে তামার খনি। এলাকাটি ওয়াদি আল ফারাহ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

এই অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে চ্যালকোসাইট। এটি এক ধরনের খনিজ পদার্থ যা থেকে বিশেষ ধরনের তামা উৎপাদন সম্ভব।

তাই এখানকার  মাইনিং অঞ্চলের লাইসেন্স পেতে সৌদি আরব, চীন, অস্ট্রেলিয়া,ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ১৩ টি কোম্পানীর মধ্যে তুমুল প্রতিযোগিতা চলছে।

পুরো সৌদি আরবে মূল্যবান খনিজ পদার্থ ও ধাতু থাকতে পারে এমন জায়গা আছে ৫,৩০০ টি। 
এসব জায়গাগুলোতে রয়েছে ভবন নির্মাণে উপযোগী প্রয়োজনীয় ধাতু ও পাথর, ডেকোরেটিভ রকস এবং জেমস্টোন।

এসব খনিজ সম্পদ উন্নত প্রযুক্তি তৈরীতে ব্যাপক হারে কাজে লাগানো যায়। তামা, ফসফেট, লোহাসহ নানারকমের মূল্যবান খনিজ সম্পদ ধারন করে আছে  সৌদি আরব।

দেশটির বার্ষিক তামা এবং দস্তা কেন্দ্রীভূত উৎপাদনের পরিমাণ ৬৮ হাজার। পাশাপাশি দুই কোটি ৪৬ লাখ টন ফসফেট আকরিক উত্তোলন করা হয়।

যা দিয়ে ৫২ লাখ ৬০ হাজার টন ফসফেট সার উৎপন্ন হয়। ফসফেট সার উৎপাদনে সৌদি আরব বিশ্বে শীর্ষ পাঁচে অবস্থান করছে।

এদিকে নতুন আবিস্কৃত তামার খনি দেশটির জন্য বিভিন্ন কারনে লাভজনক বলে মনে করেছেন গবেষকরা। কারন আগামী কয়েক বছরে তামার চাহিদা হবে আকাশচুম্বী। 

বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণ শিল্পে ব্যবহার ছাড়াও  প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে তামার প্রয়োজনীয় জোগান থাকা আবশ্যক। 

সদ্য আবিষ্কৃত সোনা এবং তামাসহ বিদ্যমান খনিজ সম্পদকে  যথাযথ রুপে কাজে লাগাতে পারলে একদিন সৌদি আরব কার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে। 

নতুন আবিষ্কৃত খনিগুলোর জন্য আনুমানিক ৫৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। পাশাপাশি ৪ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।

এটি সৌদি আরবের স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। যা দেশটির  জাতীয় অর্থনীতির জন্য অধিক লাভজনক। 

সৌদী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কর্তৃক নির্দিষ্ট  "২০৩০ এর লক্ষ্যমাত্রা" র অংশবিশেষ হিসেবে উল্লেখযোগ্য ছিল  দেশের খনিজ সম্পদ নিয়ে অধিক হারে কাজ করা।

গত জুনে, সৌদি যুবরাজ দেশটির গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে জাতীয় প্রাধান্যের" তালিকা ঘোষণা করেন।  এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকায় দেশের দ্রুত বেড়ে উঠা খনিজ শিল্প মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।

গত মে মাসে, সৌদি সরকারের শিল্প এবং খনিজ মন্ত্রনালয় দেশি-বিদেশি  বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট  করে খনিজ শিল্পে ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করানোর জন্য কার্যকরী কিছু পরিকল্পনা পেশ করে। 

ইতিমধ্যে নয়টি মাইনিং প্রজেক্টের জন্য বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। এসব মাইনিং প্রজেক্টের মূল উদ্দেশ্য হলো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও ধাতু উত্তোলন। 



জনপ্রিয়