আজকের খবর
তিস্তার পানি নিয়ে ভারতের বাহাদুরির দিন শেষ!
খসড়া চূড়ান্তের পরও ভারতের কারনে ২০১২ সাল থেকে তিস্তা চুক্তি আটকে রয়েছে। এতে কাঙ্খিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রংপুরের ৮ জেলার মানুষ।
চীনের সহায়তায় ও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তিস্তা নিয়ে সরকার মহাপরিকল্পনা করলেও সেখানে আপত্তি জানিয়েছিল ভারত। তাই থেমে গিয়েছিল কাজের অগ্রগতি।
তবে এবার সকল আপত্তিকে উপেক্ষা করে উত্তরাঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন বাস্তাবায়িত হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই তিস্তা রিভার কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে।
এখন প্রকল্পের প্রস্তাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডে থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সকল প্রকার যাচাই বাছাই শেষে শুরু হবে মাঠ পর্যায়ের কাজ।
উত্তরাঞ্চলকে বদলে দিতে যাওয়া সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পে অর্থায়ন করবে চীন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে তিন ধাপে। আগামী বছরের প্রথম দিকে শুরু হতে পারে ডিমলা থেকে শুরু হয়ে চিলমারী পর্যন্ত অংশের কাজ।
তিস্তা রিভার কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন প্রকল্পের আওতায় ১০৮ কিলোমিটার নদী খনন করা হবে, যার মাধ্যমে গভীরতা বাড়বে ১০ মিটার।
নদীর দুই তীরে গড়ে তুলা হবে ১৭৩ কিলোমিটার বাধ। এতে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পাবে হাজার হাজার ঘরবাড়ি। এছাড়াও চর খনন, নদীর দুই ধারে স্যটেলাইট শহর নির্মাণ, বালু সরিয়ে কৃষিজমি উদ্ধার করা হবে।
এর মাধ্যমে বছরে ২০ হাজার কোটি টাকার ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে এখান থেকে। সেই সাথে রক্ষা পাবে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার সম্পদ।
সারা বছর নৌ-চলাচলের মতো পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে নদীতে। নৌবন্দর স্থাপনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দুইপাড়ে থানা, কোস্ট গার্ড এবং সেনাবাহিনীর জন্য ক্যাস্পের ব্যবস্থা করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের পর উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যটন এলাকা হিসেবেও পরিচিত হবে তিস্তার তীরবর্তী অঞ্চল। তিস্তা নদী রক্ষার পাশাপাশি এক্ষেত্রে নজর দেয়া হয়েছে সৌন্দর্যের দিকেও।
নদীরক্ষা বাধের দুই পাশে গড়ে তোলা হবে সমুদ্র সৈকতের মতো মেরিন ড্রাইভ। ২২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই রাস্তা ব্যবহার করে পর্যটকরা লং ড্রাইভে যেতে পারবেন।
কাজ শেষে তিস্তা পাড় হয়ে উঠবে পূর্ব চীনের জিয়াংসু প্রদেশের সুকিয়ান সিটির মতো সুন্দর শহর। এখানে থাকবে হোটেল মোটেল রেস্টুরেন্ট ও পর্যটন নগরী। আবাসনের জন্য গড়ে তোলা হবে আধুনিক শহর।
নদী বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মেগা এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আমাদের তিস্তার পানির জন্য আর ভারতের উপর নির্ভর করতে হবে না। বরং এর মাধ্যমে ১০ থেকে ১২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এর মাধ্যমে পালটে যাবে লালমনিরহাট রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার মানুষের জীবন যাত্রার ধরন। এ অঞ্চলের মানুষের বহুদিনের দুঃখ কষ্ট স্থায়ী আর্থিক সমৃদ্ধিতে রূপ নেবে।
২০১২ সালে তিস্তা চুক্তি নিয়ে কথা বলতে বাংলাদেশে এসেছিলেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংহ। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বাধার কারনে সেটি আর আলোর মুখ দেখেনি।
প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরেও তিস্তা চুক্তি নিয়ে কোন আলোচনা হয়নি। তাই পরবনির্ভরতা কাটিয়ে তিস্তা রিভার কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন প্রকল্পের উপর জোড় দিয়েছে সরকার।
অবশ্য সম্প্রতি ভারত জানিয়েছে, এই পরিকল্পনা নিয়ে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোন বাধা নেই। তবে তারা তিস্তা চুক্তির সমাধানকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)