আজকের খবর


ট্যাংকে ঝিনুক থেকে মুক্তা চাষ করে আয় মাসে তিন লক্ষ টাকা


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

ট্যাংকে ঝিনুক থেকে মুক্তা চাষ করে আয় মাসে তিন লক্ষ টাকা

ট্যাংকে ঝিনুক থেকে মুক্তা চাষ করে মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন কে.জে.মাথাচান নামের এক ব্যক্তি।

শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমন অসাধ্য সাধন করে দেখিয়েছেন কেরলের কাসারগেদ অঞ্চলের ওই বাসিন্দা।

সাধারণত, ক্ষুদ্রাকার উজ্জ্বল এই মোহনীয় বস্তুটির দেখা সমুদ্রের অয়েস্টারেই মেলে। যদিও সচরাচর দেখা যায় না এটি।

যুগ যুগ ধরে হয়ে আসা মানুষের আদিম ভাবনাকে ভুল প্রমাণ করে দিয়েছেন তিনি। মাথাচান পেশায় একজন কৃষক।

এ কাজের জন্য নিজের বাড়িতে আলাদা একটি পুকুরও খনন করেছেন তিনি। যেখানের পানি একবারে স্বচ্ছ আর পরিষ্কার।

সেই স্বচ্ছ জলেই উৎপাদন করছেন মুক্তা। শুধু তাই নয়, তাঁর উৎপাদিত মুক্তা বিদেশেও রফতানি করেন।

এর মাধ্যমে প্রত্যেক মাসে প্রায় তিন লাখেরও বেশি টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হচ্ছেন। তার আয়ের প্রধান বা একটি বড় অংশ এখান থেকেই আসে।

এর আগে কে.জে. মাথাচান সৌদি আরবে বসবাস করতেন। সেখানে কিং ফাহদ বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিকমিউনিকেশনস ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক ছিলেন।

ঝিনুক চাষ করার এমন অভিনব চিন্তা কি করে মাথায় এলো, আর কী ভাবে এই অসাধ্য সাধন করলেন এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, 

সৌদি আরবে থাকাকালীন সময়ে হঠাৎ একদিন চীনের ‘আরামকো অয়েল কোম্পানিতে’ ইংরেজি থেকে আরবি অনুবাদকের কাজ করার সুযোগ আসে তাঁর কাছে।

সে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই কিছু দিনের জন্য চীনে যান তিনি এবং সেখানের উক্সিতে ধানসুই ফিসারিজ রিসার্চ সেন্টার থেকে এ ব্যাপারে জানতে পারেন।

ফিসারিজ রিসার্চ সেন্টারে, পুকুরে কী ভাবে ঝিনুক চাষ করে মুক্ত ফলানো যায়, সে কোর্সও শিখিয়ে থাকে।

মাছ চাষ সংক্রান্ত যে কোনো বিষয়েই নিয়ে চিরকালই একটা নেশা আছে মাথাচুনের। আর সেখানে গিয়ে যখন জানতে পারলেন, শুধু মাছ নয়, ঝিনুকও চাষ করা যায়। তখন তার আগ্রহ আরো দ্বিগুণ বেড়ে যায়।

তিনি বুঝতে পারলেন এ কাজটিই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে এবং তাকে সফল হতে সাহায্য করবে।

এমন চিন্তা থেকেই সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং এর কিছুদিন পরই চীনে ওই রিসার্চ সেন্টারে ডিপ্লোমা কোর্স করতে চলে আসেন।

যদিও তার আশপাশের মানুষ এ ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না। এমনকি বহুবার এই কাজে নামতেও বাধা দিয়েছিলেন।

কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তেই অটল ছিলেন মাথাচান। টানা ছয় মাস চলে সে কোর্স, এরপরে সব প্রশিক্ষণ শেষ হতেই নিজ দেশে ফিরে আসেন তিনি।

১৯৯৯ সালে দেশে ফিরার সময় সুদূর মহারাষ্ট্র থেকে নিয়ে আসলেন পরিষ্কার জল। তারপর নিজের একটি পুকুর তৈরি করে ফেললেন।

বালতিতে করে সাজিয়ে রাখা স্বচ্ছ পানি পুকুরে ফেলে সেখানে মুক্ত চাষের পরিক্ষা শুরু করে দিলেন।

এই ভাবে ঠিক এক বছর ছয় মাস রিসার্চ করার পরই ৫০ বালতি মুক্ত ফলিয়ে ফেলেন মাথাচান।
প্রথম মুক্তো চাষেই ১.৫ লক্ষ টাকা খরচ করে সেখানে থেকে ৪.৫ লক্ষ টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হন তিনি।

সাধারণত মুক্ত উৎপাদনকারী ঝিনুককে ‘পার্ল অয়েস্টার’ বলা হয়। এছাড়াও অন্যান্য কিছু মলাস্কা গোত্রীয়র ঝিনুক থেকেও মুক্ত তৈরি হয়।

তিন ধরনের মুক্ত রয়েছে- প্রাকৃতিক, কৃত্রিম এবং কর্ষিত। এর মধ্যে কর্ষিত মুক্ত গত ২১ বছর ধরে তিনি চাষ করছেন।

উৎপাদন যাতে করে আরও বেশি হয় সে জন্য নিজের জমিতেই একটি কৃত্রিম ট্যাঙ্ক বসিয়েছেন মাথাচান।

ওই ট্যাঙ্কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মিটারের কাছাকাছি, চওড়ায় ১৫ মিটার এবং গভীরতা ৬ মিটারের একটু বেশি।

২০১৮ সালের দিকে অসুস্থ হয়ে পড়েন কে. জে মাথাচান। আর তাই স্থানীয় বেশ কিছু কৃষককে এই মুক্ত ফলানোর বিষয়টি শিখিয়ে দেন তিনি।



জনপ্রিয়