আজকের খবর


অস্ট্রেলিয়ার দ্বীপে একসাথে ভেসে উঠেছে ২০০ তিমি


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার

অস্ট্রেলিয়ার দ্বীপে একসাথে ভেসে উঠেছে ২০০ তিমি

অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া অঙ্গরাজ্যের পশ্চিম উপকূলে এক সাথে ভেসে উঠে প্রায় দুইশো ত্রিশটি পাইলট তিমি। 

শুরুতে ভেসে উঠা তিমি গুলো জীবিত ছিলো। কিন্তু স্বল্প সময়ের ব্যবধানে সমুদ্রতীরে আটকে পড়া প্রায় ২০০ তিমির মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে উদ্ধারকর্মীরা। 

সমুদ্র তীরে হঠাৎ এত গুলো তিমি একসাথে ভেসে উঠায়, আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সাধারণ মানুষ। পরে সেগুলোকে উদ্ধারের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে খবর দেয় বাসিন্দারা। 

তাসমানিয়ার ডিপার্টমেন্ট অফ ন্যাচারাল রিসোর্স এণ্ড এনভায়রনমেন্ট ডেভেলপমেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সমুদ্র পাড়ে আটকে পড়া তিমি গুলোকে সুস্থ এবং জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেছে।   

এদের নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করে গেছে কর্তৃপক্ষ। নিরাপদে গভীর সমুদ্রে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য সব ধরনের উদ্দ্যেগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রানী গুলোকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।    

এ ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগেই অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়ায়, কিং দ্বীপে একসাথে ১৪ টি তিমি ভেসে উঠার ঘটনা ঘটে। তবে সেগুলো ছিলো মৃত। 

মারা যাওয়া সেই ১৪টি তিমির সবগুলোই স্পার্ম প্রজাতির ছিলো বলে জানা যায়। দাঁতওয়ালা তিমি প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো স্পার্ম।  

এই তিমি গুলো ১৮ মিটার লম্বা ও পঁয়তাল্লিশ টন পর্যন্ত ওজনের হতে পারে। মারা যাওয়া গুলোর বেশিরভাগই ছিলো অল্প বয়সী এবং পুরুষ তিমি। 

এরা সাধারণত গভীর সমুদ্রে থাকতেই পছন্দ করে এবং প্রচুর পরিমাণে ডাইভিং করতে ভালবাসে। 
কিন্তু ঠিক কি কারনে এরা এভাবে সমুদ্র তীরে ভেসে উঠেছে তা জানতে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। 

তাসমানিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ বিভাগ জানিয়েছে, তীরে ভেসে যাওয়ার সময় তিমিগুলো মারা গেছে। তাদের ধারনা জোয়ারের সময়, সাঁতরে উপরে উঠে আসলেও, জোয়ারের পানি নেমে গেলে সেগুলো আর নামতে পারেনি। 

আর এভাবেই মৃত্যু হয় সমুদ্রের বৃহৎ এই প্রাণী গুলোর। তবে এভাবে সৈকতে আটকে পড়াকে গভীর চিন্তার বিষয় বলে উদ্ভেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির স্থানীয় প্রশাসন। 

অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়ার অঙ্গরাজ্যে তিমিদের এভাবে ভেসে উঠার ঘটনা নতুন কিছু নয়। এর আগেও বেশ কবার এমন ঘটনার সাক্ষী হয় সেখানকার বাসিন্দারা। 

বেশ কিছু দিন আগেও পশ্চিম উপকূলে ৩৬০টি পাইলট তিমি আটকা পড়েছিল। যার মধ্যে ১১১টিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিলো। 
পাইলট তিমি প্রায় ৭ মিটার পর্যন্ত লম্বা এবং ওজনে তিন টন পর্যন্ত হতে পারে। 

দুই বছর আগে ম্যাককুয়েরি হারবারের কাছেই দেশটির সর্বকালের সবচেয়ে বেশি তিমি আটকে পড়ে।  ওই সময় প্রায় ৫০০ তিমি আটকে পড়েছিল। 

তাসমানিয়ার হিমশীতল পানিতে তাদের অবমুক্ত করতে স্বেচ্ছাসেবকের কয়েক দিনের পরিশ্রম সত্ত্বেও ৩০০তিমি মারা যায়।

এছাড়া ২০২০ সালে তাসমানিয়ার পশ্চিম উপকূলে ২৭০টি তিমির আটকা পড়ার ঘটনা ঘটে। আটকে পড়া তিমির মধ্যে অন্তত ৯০টির মৃত্যু হয়েছিলো।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বছরে এ ধরনের তিন শতাধিক প্রাণী সৈকতে উঠে আসে। ২০ থেকে ৫০টি দলবদ্ধ তিমির সৈকতে উঠে আসা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে বড় দল হলে সেটা কয়েক শ তিমিতে গিয়ে ঠেকতে পারে।

এ সংখ্যা দিন দিন আসঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা একে সমুদ্র দূষণের কারণ হিসেবেও মনে করছে।

গভীর সমুদ্র থেকে পথ ভুলে প্রায়ই এভাবে তীরে উঠে আসে এসব সমুদ্র দানবেরা। এছাড়া কখনো কোনো পথহারা সঙ্গী বা দলনেতাকে অনুসরণ করেও দলে দলে সমুদ্র পাড়ে উঠে আসে এরা। 

তিমিরা মানুষের মতই সামাজিক জীব। এরা সবসময় দলবদ্ধ হয়ে চলতেই ভালবাসে। তাই কখনো দলের একজনের জন্য বিপদে পড়তে হয় সবাইকে। তবে বিপদ সংকেত বুঝতে পারলেও এরা কখনোই সঙ্গীকে ছেড়ে যায়না।



জনপ্রিয়