আজকের খবর


হিফজ প্রতিযোগিতায় ১১১ দেশের মধ্যে তৃতীয় বাংলাদেশের তাকরিম


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার

হিফজ প্রতিযোগিতায় ১১১ দেশের মধ্যে তৃতীয় বাংলাদেশের তাকরিম

মাত্র ১৩ বছর বয়সেই হিফজ প্রতিযোগীতায় তৃতীয় হয়ে বিশ্ববাসীকে তাক লাগালেন বাংলাদেশের সালেহ আহমদ তাকরিম।

সম্প্রতি শেষ হলো সৌদি সরকারের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত ৪২তম বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা।

আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেয় সারা বিশ্বের অসংখ্য হাফেজ। এদের মধ্যে অনেককে টপকে তৃতীয় স্থান অর্জন করে লাল সবুজের পতাকার গৌরব বয়ে আনেন বাংলাদেশের তাকরিম।

গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে মক্কার পবিত্র হারাম শরিফে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে চূড়ান্ত বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। সেখানে ৩য় হিসেবে উঠে আসে তার নাম। এ সময় তাকে এক লাখ রিয়াল টাকা পুরস্কার ও সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়।

পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সৌদি বাদশাহ সালমানের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তার উপদেষ্টা ও মক্কা নগরীর গভর্নর খালেদ আল ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ।

এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন দেশটির ইসলাম ও দাওয়াহ বিষয়ক মন্ত্রী ড. আবদুল লতিফ বিন আবদুল আজিজ আলে শেখসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে গত ৯ সেপ্টেম্বর সৌদি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন সালেহ আহমাদ তাকরিম

তার সঙ্গে ছিলেন ফয়জুল কোরআনের প্রধান শিক্ষক হাফেজ ক্বারী মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন।

এবারই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিকবার বিভিন্ন জায়গায় কুরআন তেলওয়াত করে সবার নজড় কেড়েছিলেন এই খুদে হাফেজ।

বিশেষ করে গত ৫ মার্চ ইরানের তেহরানে অনুষ্ঠিত হয় ৩৮ তম আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে, হাফিজ  সালেহ আহমাদ তাকরীম ২৯টি দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করতে সক্ষম হন।

এর পর গত মে মাসে লিবিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ৪৫টি দেশকে পিছনে ফেলে সপ্তম স্থান অর্জন করেন তিনি।

শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি সর্বকনিষ্ঠ প্রতিযোগী হিসেবেও বিশেষ সম্মাননা অর্জন করেন তাকরিম।

২০২০ সালের পবিত্র রমজান মাসে বাংলাভিশন টেলিভিশন আয়োজিত হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয় সে।

বাংলাদেশের ১৩ বছর বয়সি এই হাফেজ, ঢাকার মারকাযু ফয়জিল কুরআন আল ইসলামি মাদরাসার একজন শিক্ষার্থী। মাত্র সাড়ে ৯ বছর বয়সে সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্ত করে ফেলেছিলেন তিনি।

তাকরীম ছাড়াও এই প্রতিষ্ঠানের একাধিক ছাত্র কুয়েত, মিশর ও আলজেরিয়া আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার জন্য বাংলাদেশের প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়।

কিন্তু করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে তাদের মধ্যে বেশিরভাগই তাতে অংশগ্রহণ করার সুযোগ সুযোগ পায়নি।

তাকরীমের এ অনন্য কৃতিত্বে মারকাযু ফয়জিল কোরআন আল ইসলামী মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল সন্তুষ্ট হয়ে সবার কাছে তার জন্য দোয়া চেয়েছেন।

এছাড়া গুলশান সোসাইটি জামে মসজিদের খতিব মুফতি মুরতাজা হাসান ফয়েজী মাসুমও তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে বলেন,

আল্লাহ যেন তাকরীমসহ ইলমে দ্বীনের সব শিক্ষার্থীকে আন্তর্জাতিক মানের আলেম ও দ্বীনের খাদেম হওয়ার তাওফীক দান করেন।

সালেহ আহমদ তাকরিম টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার ভাদ্রা গ্রামে এক মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।

তার বাবা আব্দুর রহমানও একজন হাফেজ। বর্তমানে তিনি মাদরাসার শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত আছেন এবং তাকরিমের মা একজন গৃহিণী।
ছেলের এমন একের পর এক দুর্দান্ত সাফল্যে তারা দু'জনই ভীষণ খুশি।



জনপ্রিয়