আজকের খবর


অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনে ঝুঁকিতে পদ্মা সেতু


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার

অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনে ঝুঁকিতে পদ্মা সেতু

পদ্মানদীতে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন পয়েন্টে নদী এখন প্রতিদিনের দৃশ্য। 

প্রভাবশালীরা সরকারি নিয়ম নীতির কোনো তোয়াক্কা না করেই শত শত অবৈধ ড্রেজার দিয়ে এসব বালু উত্তোলন করছেন।

সেতুর কাছ থেকে দিনরাত চলছে বালু উত্তোলন। এভাবে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় এই স্থাপনা।

সেই সাথে দিনদিন আরো উত্তাল ও ভয়ংকর রুপ ধারণ করছে সর্বনাশা পদ্মা। নদীর গভীরতাও আগের তুলনায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

প্রতিদিন শতাধিক ড্রেজার দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে কেটে নেওয়া হচ্ছে কোটি কোটি ঘনফুট বালু।

উত্তোলিত এসব বালু একের পর এক বাল্কহেড বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বিক্রি করা হচ্ছে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়।

বালু বিক্রি করে ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় মানুষরা। হুমকিতে পড়েছে নদী তীরবর্তী শত শত একর ফসলি জমি ও বসতবাড়ি।

এমন অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলায় পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে নদীর গতিপথ। আর এর ফলে দেখা দিচ্ছে ভাঙন। 

বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে চারটি গ্রাম, শত শত একর ফসলি জমি, স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ প্রায় এক হাজার পরিবার।

এছাড়া সারাদিন বিভিন্ন যানবাহনে বালু পরিবহন করার কারণে সেখানকার সড়কগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ নিয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে দেখানো হয় ভয়ভীতি সহ নানান মামলার হুমকি। এ সিন্ডিকেটটির বিরুদ্ধে কেউ পেরে উঠেনা।

তাই নদী পাড়ের এসব গ্রামকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে অবিলম্বে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার দাবি জানান এলাকাবাসী।

ইতোমধ্যে অবৈধ ড্রেজার বন্ধ ও নদী শাসনের দাবিতে মানববন্ধনও করেছে তারা। নদীর যে অংশে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, তার দক্ষিণে রয়েছে পাইনপাড়া।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও খনন করায় ভেঙেছে পাইনপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা। হাজারও মানুষ কোন রকম ঠাই পেতে নদীর কিনারায় বসবাস করছেন।

অনেকে রাতের আঁধারে নদীর কিনারা থেকে বালু তোলে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভাঙন ও ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে উল্লেখ করেন ভুক্তভোগীরা। 

অবশ্য কর্মরত শ্রমিকরা জানান, ম্যানেজ করেই চলছে এই ড্রেজারগুলো। পদ্মা সেতু প্রকল্পে সম্পৃক্ত চীনের প্রকৌশলীদের অনুমতি নিয়ে সেতুর প্রয়োজনেই বালু কাটা হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।

তবে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, পদ্মা সেতুর পিলারের সুরক্ষায় কিছু ড্রেজারের অনুমতি আছে ঠিকই। 

তবে অনেক অবৈধ ড্রেজার দিয়েও মাটি কাটা হচ্ছে। বারবার অভিযান পরিচালনা করেও বালু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য থামানো যাচ্ছে না।

কয়েক দিন আগেই জাজিরা ও নাওডোবা পাইনপাড়া এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে অভিযান চালায় প্রশাসন। এতে বেশ কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়।

এরপরও জাজিরা সীমান্তে অবৈধ ড্রেজার চললে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কতৃপক্ষ। প্রয়োজনে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ড্রেজার ও পাইপ লাইন ধ্বংস করা হবে।

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের এই পদ্মা সেতুটি যাতে নিরাপদ থাকে, তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।



জনপ্রিয়