আজকের খবর
লঞ্চ কেটে লোহার দামে বিক্রি করা হচ্ছে
স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর, ঢাকা থেকে দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের লঞ্চ পরিসেবার দ্রুত অবনতি ঘটেছে। বিদায় ঘন্টা বাজতে শুরু করেছে ২০০ বছরের পুরাতন এই পরিসেবাটির।
এ অবস্থায় রোটেশন করেও খুব একটা লাভ হচ্ছে না। ফলে লঞ্চ কেটে লোহার দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে লঞ্চ মালিকরা। শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছে লঞ্চ কাটার কাজে।
জন সাধারনের জন্য পদ্মা সেতু খুলে দেয়ার পর অস্বাভাবিক হারে যাত্রী কমে যাওয়া এবং জ্বালানী তেলের দাম বাড়ার কারনে ঐতিহ্যবাহী এই সার্ভিসটি আজ বিলুপ্তির পথে।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ টি জেলার সাথে সংযোগ স্থাপনকারী পদ্মা সেতু খুলে দেয়া পর আশা করা হয়েছিল, বিদ্যমান লঞ্চ সেবা চালু রাখার বিকল্প কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এই রুটে যাত্রী সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। পাশাপাশি দেশে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আরো বিপদে পড়েছে লঞ্চ মালিকেরা।
এরই মাঝে বেশ কিছু কোম্পানী তাদের লঞ্চ অন্য কোম্পানীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। তারা এখন ব্যবসা গুটিয়ে অন্যত্র রোজগারের চিন্তা করছেন। কিছু কিছু কোম্পানী ক্রেতা না পাওয়ায় লঞ্চ কেটে টুকরো করতে বাধ্য হয়েছে।
কীর্তনখোলা-১ নামক একসময়কার জনপ্রিয় লঞ্চটি ক্ষতির সম্মুখিন হওয়ায় মালিক এটি বিক্রি করে দেয় ২০০৮ সালে।
পরবর্তীতে লঞ্চটির নামকরন করা হয় এম ভি কামাল-১ নামে। কিন্তু চলতি বছর ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে লঞ্চটি। ফলাফল, নৌযানটি এখন অচল। এটি কেটে ছোট ছোট অংশে ভাগ করা করছেন শ্রমিকেরা।
রাজধানীর সদরঘাটের শ্মশানঘাট অঞ্চলে দেখা গেল এমনই এক দুঃখজনক চিত্র। আরো কিছু লঞ্চ তৈরী করা হচ্ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সেগুলোর নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
শুধু এম ভি কামাল নয়, আরেক বিলাসবহুল জাহাজ 'মানামী' কেও বরন করতে হয়েছে একই পরিস্থিতি। লঞ্চ কেটে যে লোহার অংশগুলো পাওয়া যাবে, তা ব্যবহার করা হবে বাসা-বাড়ির বারান্দা এবং জানালার গ্রিল তৈরীর কাজে। এছাড়া আশপাশের নির্মানাধীন ভবনেও এগুলোর চাহিদা রয়েছে।
স্থানীয়রা বলছে, জন সাধারনের জন্য সেতু খুলে দেয়ার পর তুলনামূলক কম সময়ে যাত্রীরা তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে। বিশেষ করে বরিশালগামী যাত্রীরা ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পারছেন মাত্র তিন ঘন্টায়।
যেখানে লঞ্চে করে যেতে আরো বেশি সময় লাগতো। তাই স্বাভাবিকভাবেই, লঞ্চের চাহিদা কমে গেছে। দেখা গেছে একটি লঞ্চের প্রায় ৭০টি ডাবল কেবিনের মধ্যে বুক হয়েছে মাত্র একটি।
অন্য দিকে ৯৯ টি সিঙ্গেল কেবিনগুলোর মধ্যে বুক হয়েছে মাত্র ৬-৭ টি। অথচ অতীতে আগে থেকে বুক করে না রাখলে এসব কেবিন পাওয়াই যেত না। বিদ্যমান আটটি লঞ্চের মধ্যে রোটেশনের মাধ্যমে চলছে মাত্র তিনটি।
প্রতি ট্রিপে প্রায় ১.৫ থেকে ২ লাখ টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে মালিকদের। লঞ্চ পরিসেবার তালিকাভুক্ত লঞ্চগুলোর ৭০০টির মধ্যে ৬০০ টির অবস্থাই শোচনীয়।
বর্তমানে লঞ্চ মালিকদের আর্থিক অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে গেছে। দেনার দায়ে জর্জরিত হয়ে ধ্বংসের মুখে পড়েছেন তারা। এমতাবস্থায় সরকারের সহযোগিতা ছাড়া সমস্যা সমাধানের আর কোন পথ দেখছেন না মালিকরা।
.jpg)
.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)