আজকের খবর
ফের আকাশে উড়ল ক্ষুদে বিজ্ঞানী আশিশের যাত্রীবাহী বিমান
আবারো নতুন চমক নিয়ে এসেছে চট্টগ্রামের ক্ষুদে বিজ্ঞানী আশিশ। প্রায় এক বছর পর আকাশে উড়ল তার নতুন উদ্ভাবিত আরেকটি বিমান।
তার নিজ হাতে তৈরি বিমানটি ফ্লাইং বোট নামে পরিচিত। যাত্রীবাহী এই বিমান তৈরির মাধ্যমে নতুন ইতিহাসের জন্ম দিলেন তিনি।
৭ ফুট লম্বা এবং ১৫ কেজির বিশালাকার বিমানটি তৈরিতে একমাসেরও বেশি সময় লেগেছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর এটি পরিক্ষা মূলকভাবে বাঁশখালীর আকাশে উরানো হয়।
এতে 10 হর্স পাওয়ারের দুটি ইলেকট্রনিক মটর ব্যবহার করা হয়েছে, যা ৬০ কেজি ওজন নিয়ে টেকঅফ করতে পারে। ফ্লাইং বোটটিকে বাস্তবে রুপ দিতে লাখ টাকা খরচ হয়েছে ।
উন্নত প্রযুক্তির লিথিয়াম ব্যাটারি স্থাপনের মাধ্যমে প্রোপেলারের শক্তিশালী মোটর ঘোরাতে সক্ষম হয়েছেন খুদে বিজ্ঞানী আশিশ। গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিমান তৈরির কাজ শেষ করেন তিনি।
বিমানটি জল ও স্থল, উভয় স্থান থেকে উড্ডয়ন করা সম্ভব। ২২ সেপ্টেম্বর তিন ভাবে এর পরিক্ষা মূলক উড্ডয়ন করা হয়।
প্রথমে ফাঁকা বিমান কিছু সময় আকাশে উড়ানো হয়। দ্বিতীয়বার ২০ কেজি ওজনের পাথর দিয়ে একে উড়ানো হয়। ২০ কেজি পাথর নিয়ে বিমানটি ৮০ মিনিট উড়তে সক্ষম।
২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ তিন বছরের গবেষণার মাধ্যমে আশিষ তার প্রথম বিমান বানতে সক্ষম হন। ৩০ বারের ব্যর্থতার পর তিনি সেটি প্রথম সফলভাবে আকাশে উড়াতে সক্ষম হন।
তার আবিষ্কৃত ছোট্ট বিমানটি এক ঘন্টা রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে আকাশে উড়ান তিনি। প্রথম উদ্ভাবিত এই বিমানটির ওজন ছিলো ৮০০ গ্রাম।
প্রথম বিমান FTRC AEROPLANE তৈরি পর এ পর্যন্ত বিভিন্ন যানের প্রায় ২০০ টির মতো মডেল তৈরি করেন আশিষ।
বিমান, যুদ্ধ বিমান, ড্রোন, হেলিকপ্টার ও স্পিডবোট প্রভৃতি যানগুলোর বিভিন্ন মডেল তিনি তৈরি করে ফেলেছেন ।
বিজ্ঞানে না পড়েও শুধুমাত্র মনের জোরে বানিয়ে ফেলেন এতোকিছু। তার তৈরি এই আকাশযান যেমন উড়তে পারে তেমনি পানিতে ভাসতে পারে নৌযানগুলোও।
২০২১ সালের অক্টোবরে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তার বিমান, ড্রোন ও হেলিকপ্টারের আকাশে উড়ার খবর।
একই সময় হাতে তৈরি স্পিডবোটের পানিতে ভাসার গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়া ও ইউটিউবে তখন ঝড় তুলে তার এই সফলতার গল্প, যা বিস্ময়ের মাত্রা ছাড়িয়ে যায়।
তার সৃষ্ট এই ছোট ছোট ড্রোন গুলো অকার্যকর নয়। বরং তা দিয়েও অনায়াসে জরুরি সেবা প্রদান করা যাবে বলে জানিয়েছেন আশিশ।
তার ছোট্ট একটা গবেষণাগার রয়েছে। সেখানেই তিনি বিভিন্ন মডেলের বিমান,স্পিডবোট, বোয়িং হেলিকপ্টার তৈরি করেন। পরে নিজের কন্ট্রোলেই তা আকাশে উড়ান। সরকারি সহযোগিতায় তার এই গবেষণাগারকে বড় করার স্বপ্ন দেখেন তিনি।
পরিত্যক্ত খেলনা সামগ্রীর যন্ত্রাংশ সংগ্রহের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ তৈরির মাধ্যমে শুরু আশিষের সফলতার গল্প।
বাংলাদেশ সরকারের সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে বড় বড় যাত্রীবাহী বিমান তৈরির ইচ্ছে লালন করছেন তিনি। পরিস্থিতি অনুকুলে থাকলে হয়তো একসময় এদেশ তার কাছ থেকে বড় কোনো আবিষ্কার লাভ করবে।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)