আজকের খবর
যানযট কমাতে স্কুলবাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ডিএনসিসি
যানযট কমাতে স্কুলবাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। প্রাথমিকভাবে শহরের চারটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে এই সেবা চালু করা হবে।
উদ্যোগ সফল হলে পর্যায়ক্রমে অন্য স্কুলগুলোর জন্যও চালু হবে এই সেবা। ডিএনসিসির সংশ্লিষ্টরা জানান, শিগগির পরীক্ষামূলক ভাবে স্কুলবাস কার্যক্রম শুরু হবে।
যদি দেখা যায়, এ প্রক্রিয়ায় যানযট কিছুটা হলেও শিথিল হয়েছে তাহলে পূর্ণাঙ্গ ভাবে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে।
অনেক স্কুলে একজন শিক্ষার্থীর জন্য একটি গাড়ি ব্যবহার করা হয়। এতে অসংখ্য গাড়ি রাস্তায় চলাচল করে। স্কুলবাস চালু হলে প্রাইভেট গাড়ির ব্যবহার অনেক কমে যাবে।
যা নগরের যানজট কমানোয় সহায়ক হবে। এমনকি জ্বালানি তেলও সাশ্রয় হবে। ডিএনসিসির এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ঢাকা উত্তরের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।
তাদের মতে, সাধারণত ধনী পরিবারের শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিগত গাড়িতে স্কুলে যাতায়াত করে। যা মধ্যবিত্ত ও নিন্মআয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সব স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলবাস চালু করা গেলে বাচ্চাদের মধ্যকার উঁচুনিচু মানসিকতা দূর হবে। ছেলেমেয়েরা স্কুলবাসে একসঙ্গে যাওয়া-আসা করলে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব সৃষ্টি হবে, সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হবে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা উত্তরের নগর ভবনে স্কুলবাস সেবা চালুর ব্যাপারে প্রাথমিক কর্মকৌশল নির্ধারণ’ নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত সভায় গুলশানের চিটাগাং গ্রামার স্কুল, স্কলাস্টিকা স্কুল, স্যার জন উইলসন স্কুল এবং বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টিউটোরিয়ালের প্রধান ও অভিভাবক প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আলোচনায় প্রত্যেকেই নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্কুলবাস চালু করার বিষয়ে সম্মতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।
স্কুলবাস চালুর পাশাপাশি নিরাপত্তার ব্যাপারটি জোর দিয়ে ডিএনসিসির জানায়, প্রতিটি বাসেই সিসি ক্যামেরাসহ আধুনিক সব প্রযুক্তির ব্যবহার থাকবে। অ্যাপের মাধ্যমে বাসগুলোকে সহজেই ট্র্যাকিং করা যাবে।
কখন, কোন শিক্ষার্থী বাসে উঠলো, কখন বাস থেকে কখন নামলো, স্কুলে কখন প্রবেশ করলো, সবই অ্যাপের মাধ্যমে ঘরে বসেই অভিভাবকেরা পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হবেন।
এছাড়া বাসগুলোতে নিয়োগ দেওয়ার আগে বাসচালক ও কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
জরুরি প্রয়োজনের জন্য একটি হটলাইন নম্বর বরাদ্ধ থাকবে, যেখানে শিক্ষার্থী বা অভিভাবকেরা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন। শিক্ষার্থীদের ঠিকানা অনুযায়ী বাসের রুট নম্বর নির্ধারণ করা হবে।
কোনো শিক্ষার্থী যেসময় স্কুলবাসে উঠবে, ঠিক ওই সময় থেকেই শিক্ষার্থীর উপস্থিতি গণ্য করা হবে। বাস দেরি করে স্কুলে পৌঁছালেও, শিক্ষার্থীর স্কুলে প্রবেশে সমস্যা হবে না।
সভায় স্কুল কর্তৃপক্ষ কিংবা অভিভাবকদের বাস সার্ভিস চালুর বিষয়ে দ্বিমত ছিলোনা। তবে সকলেই নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ব্যাপারে জোর দিয়েছেন।
সঠিকভাবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হলে শিক্ষার্থীরা ক্ষতির সসম্মুখীন হতে পারে বলে জানান তারা। অভিভাবকদের আস্থা অর্জন করতে পারলে ঢাকার রাস্তায় শীঘ্রই এ সেবা চালু করবে ডিএনসিসি।
সেবাটি চালু হলে সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ির পরিমাণ কমে গিয়ে যানজট ব্যাপক হারে কমে যাবে। যার ফলে দূষণ ও কার্বন নিঃসরণও উল্লেখযোগ্য ভাবে কমবে।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)