আজকের খবর


বিশাল উন্নয়ন পরিকল্পনায় বদলে যাবে কর্ণফুলী তীর


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

বিশাল উন্নয়ন পরিকল্পনায় বদলে যাবে কর্ণফুলী তীর

বিশাল পরিকল্পনায় বদলে যাবে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী তীর। কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত নদীর তীর ঘেষে গড়ে উঠবে আবাসন,বানিজ্য এবং পর্যটন শিল্প। এ জন্য একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। 

দেশের বন্দর নগরী চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক এবং শিল্প এলাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করা, যাতায়াত সুবিধা বাড়ানো এবং শহরের ভিতরে যানজট সমস্যা কমানোর উদ্দেশ্যে এমন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 

গনমাধ্যম সুত্রে জানা গেছে , চট্টগ্রাম শহর এবং উপকূলীয় বাঁধের মধ্যবর্তী এলাকাগুলোতে উন্নয়নের মাধ্যমে আবাসন, বাণিজ্য এবং পর্যটন শিল্পকে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা করেছে কর্তৃপক্ষ।।

এজন্য ইতিমধ্যে  ‘কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ' শিরোনামের একটি প্রকল্প  গ্রহণ করেছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। যেটির অর্থায়ন করা হবে সম্পূর্ণ নিজস্ব খাত থেকে। 

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের কালুরঘাট ব্রিজ থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত এলাকায়  নির্মাণ করা হবে নতুন একটি সড়ক। এতে করে বিভিন্ন ধরণের উন্নয়ন সম্ভব হবে শহর এবং উপকূলীয় বাঁধের মধ্যবর্তী এলাকায়। 

ফলে উৎসাহিত হবে ওই অঞ্চলের আবাসন, বাণিজ্য এবং পর্যটন শিল্প। এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কারী হিসাবে থাকবে  চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

পরিকল্পনা কমিশন থেকে জানা গেছে  কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয় ২০১৭ সালে। তখন এই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিলো মোট ২ হাজার ২৭৫ কোটি ৫২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। 

এরপর বিভিন্ন জটিলতার কারণে এ পর্যন্ত তিনবার সংশোধন করা হয়েছে প্রকল্পটি। ফলে ২০২০ সালের মধ্যে শতভাগ বাস্তবায়নের কথা থাকলেও তা করা সম্ভব হয়নি। 

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এই প্রকল্প শতভাগ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর।

ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় বরাদ্দও দেয়া হয়েছে এই উদ্দেশ্য। পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে  ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিল এটি। যার জন্য বরাদ্দ ছিলো ৩৬০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। 

গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, কর্ণফুলী তীর ঘেষা এই  প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বন্যা এবং জলোচ্ছ্বাসের কবল থেকে রক্ষা পাবে চট্টগ্রাম শহরের চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ, ও কালুরঘাট সহ বিভিন্ন এলাকার অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
 
এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে এই প্রকল্প। এর ফলে যাতায়াত সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি চট্টগ্রাম শহরের যানজট নিরসনেও ভুমিকা রাখবে এটি। এতে করে শহর এবং উপকূলীয় বাঁধের মধ্যবর্তী এলাকার উন্নয়নে উৎসাহিত হবেন উদ্যোক্তারা।

প্রকল্পের আওতায় অধিগ্রহণ করা হবে প্রায় ৪৭ দশমিক ৫৮ হেক্টর ভূমি। কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেষে তৈরি করা হবে মোট ১ লাখ ৯৩ হাজার বর্গমিটার রোড পেভমেন্ট এবং ১ হাজার ৪৭০ বর্গমিটার আয়তনের রিজিড পেভমেন্ট। 
 
নতুন এই সড়কে বাস থামার জন্য নির্মান করা হবে ছয়টি আলাদা স্থান। এছাড়া পদচারীদের জন্য বিভিন্ন জায়গায় থাকবে ৩ টি ফুট ওভারব্রিজ। 

প্রকল্পের অন্যান্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ৯ হাজার ১৬৫ মিটার আয়তনের নিউজার্সি ব্যারিয়ার, ৩৫৩ মিটার সংযোগ সড়ক এবং ২৫০ বর্গমিটার আয়তনের সেতু।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান গনমাধ্যমের কাছে জানিয়েছেন, চট্টগ্রামকে ঘিরে ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে বর্তমান সরকারের। আগামী  অক্টোবর এবং ডিসেম্বর মাসে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধু ট্যানেলের দুইটি টিউব খুলে দেয়া হবে।
 
এর ফলে বদলে যাবে পুরো চট্টগ্রাম। পাশাপাশি চাপও পড়বে বন্দরনগরীর উপর। যা সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই প্রকল্প। 

এছাড়া কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠবে আবাসন, বাণিজ্য এবং পর্যটন শিল্প। এতে করে  কর্মসংস্থান বাড়ারপাশাপাশি সমৃদ্ধ হবে দেশের অর্থনীতি।




জনপ্রিয়