আজকের খবর
৪ তলার নিচে হতে হবে ঢাকার অধিকাংশ বাড়ি
ঢাকাতে এখন থেকে আর ব্যক্তি ইচ্ছায় গড়ে তোলা যাবে না উচু ভবন। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নতুন অঞ্চল পরিকল্পনায় এই প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে এটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা। নতুন ড্যাপের মেয়াদ হবে ২০ বছর।
রাজধানীতে এখন ভবন নির্মাণ করা হয় ২০১০ সালের ড্যাপ ও ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসারে। এই বিধিমালার কারণে বেশি উচ্চতার আবাসিক ভবন নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়।
রাজউক আর ড্যাপ এর নতুন বিধিমালায় এলাকা অনুযায়ী ঠিক করে দেয়া হয়েছে বিল্ডিং এর উচ্চতা।
এই হিসাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মিরপুর এলাকায় ৪-৭ তলা; খিলক্ষেত, কুড়িল, নিকুঞ্জ এলাকায় ৬ তলা; উত্তরায় ৭-৮ তলা; গুলশান, বনানী, বারিধারা এলাকা ৬-৮ তলা; মোহাম্মদপুর- লালমাটিয়া এলাকায় ৫-৮ তলা উচ্চতার আবাসিক ভবন নির্মাণ করা যাবে।
আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন পুরান ঢাকায় ৪-৬ তলা উচ্চতার আবাসিক ভবন নির্মাণ করা যাবে। গাজীপুরের দু-একটি এলাকা ছাড়া বেশির ভাগ এলাকারই আবাসিক ভবনের সর্বোচ্চ উচ্চতা হবে ৪-৬ তলা।
তবে যেসব ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়ে গেছে বা ভবন নির্মাণের অনুমোদন ইতিমধ্যে নেওয়া হয়ে গেছে, সে ক্ষেত্রে ড্যাপ আর রাজউকের ভবনের উচ্চতা বিষয়ক এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না।
তবে নিরাপত্তা জনিত ঝুকি আছে যে সব ভবনে সেগুলোর ব্যাপারে ড্যাপ আলাদা পরিকল্পনা করবে বলে জানা গেছে।
রাজউকের অন্তর্ভুক্ত শহরের মোট আয়তন ১ হাজার ৫২৮ বর্গকিলোমিটার। আর এলাকা ভেদে সেগুলোকে মোট ৪৬৮টি ভাগ করা হয়েছে।
এই জরিপ প্রতিটি ব্লকের জনসংখ্যার ধারণক্ষমতা, সড়ক অবকাঠামো, নাগরিক সুবিধা এবং উন্নয়নের ধরনের ওপর ভিত্তি করে আবাসিক ভবন নির্মান ও উচ্চতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মুলত এলাকা অনুযায়ী নাগরিক সুবিধা ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক ভালো, উন্মুক্ত স্থান বেশি, সেই ব্লকের ভবনের উচ্চতা বেশি ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে এইসব সুবিধাগুলো কম এমন এরিয়াতে ভবনের উচ্চতা বিষয়ে করা হচ্ছে আলাদা পরিকল্পনা।
গত ২ সেপ্টেম্বর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন ড্যাপের খসড়া আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
সেখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব অনুযায়ী ভবনের এমন উচ্চতা নির্ধারণের পাশাপাশি জরিমানা দিয়ে অনুমোদনহীন ভবন বৈধ করা, ভূমির পুনরুন্নয়ন, ভূমি পুনর্বিন্যাস সহ বেশ কিছু নতুন কর্মকৌশল যুক্ত করা হয়েছে। যেগুলো আগের কোনো পরিকল্পনায় ছিল না।
ঢাকা শহরের স্বার্থেই এই প্রস্তাব যুক্ত করা হয়েছে বলে রাজউকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ঢাকা শহরের ওপর চাপ কমবে ও নাগরিক সেবার মান বাড়বে।
কিন্তু আবাসন ব্যবসায়ীরা রাজউকের এই প্রস্তাবের সাথে মতের মিল রাখতে পারছেন না।
তাঁদের দাবি, নতুন এ নীতিমালার ফলে ঢাকা শহরে ফ্ল্যাটের দাম ৩০-৪০ শতাংশ বেড়ে যাবে, আবাসন ব্যবসায় ধস নামবে।
আর সেই বিবেচনায় আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত নতুন ড্যাপের এই পরিকল্পনা আর বিভিন্ন দিক নিয়ে সরাসরি এবং অনলাইনে অংশীজনদের মতামত নেবে রাজউক।
তবে রাজউক এর জরিপের বিষয়টিকে বিষয়টিকে ইতিবাচক বলেই মনে করেন নগর গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, এখন পেশাজীবী, বিশেষজ্ঞ ও নাগরিকদের দায়িত্ব হচ্ছে এটি পর্যালোচনা করে মতামত দেওয়া। আর সেটা করলেই বোঝা যাবে এই পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়ন উপযোগী।
তাঁর মতে, শুধু ভালো পরিকল্পনা হলেই হবে না, বাস্তবায়নের সদিচ্ছাও থাকতে হবে। না হলে কোনো পরিকল্পনাতেই লাভ হবে না।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)