আজকের খবর
প্রায় ৪ কোটি টাকায় এবার রেকর্ড ভাঙলো পাগলা মসজিদের
রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে পাগলা মসজিদের দানবাক্সের টাকা। ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৭০ হাজার ৮৮২ টাকা পাওয়া গেছে এবার, যা এ যাবতকালের সর্বোচ্চ।
১লা অক্টোবর, শনিবার সকাল ৮ টার দিকে খোলা হয় মসজিদের ৮ টি দানবাক্স। পরে ১৫টি বস্তায় ভরা হয় সিন্দুকের সমস্ত টাকা।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বস্তাগুলো মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। erপর মেঝেতে ঢেলে শুরু হয় গণনার কাজ।
এতে অংশ নেয় রূপালি ব্যাংকের ৫০ জন কর্মচারী, ৩৪ জন মসজিদ কমিটির সদস্যসহ ১২২জন মাদ্রাসা ছাত্র। সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত চলে গণনার কাজ। সাড়ে ১০ ঘন্টা পর গণনা শেষ হলে জানা যায় সঠিক টাকার অঙ্ক।
এর আগে সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছিল গত মার্চে। সেবার পাওয়া গিয়েছিল ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। কয়েক মাস ঘুরতে না ঘুরতেই সেই রেকর্ড ভেঙে ফেললো এবার।
সর্বশেষ দানবাক্স খোলা হয়েছিল ২রা জুলাই। তখন টাকার পরিমাণ হয়েছিল ৩ কোটি ৬০ লাখ ২৮ হাজার ৪১৫ টাকা। এছাড়াও ছিল বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা ও অলংকার।
তিনমাস অন্তর অন্তর খোলা হয় এই সিন্দুকগুলো। এবার তিনমাস ১ দিন পর খোলা হয়েছে এই দানবাক্স। তালা খুলেই পাওয়া গেছে পনেরো বস্তা টাকা সাথে সোনা রূপার অলংকার ও মানতের বিভিন্ন চিঠি ।
দানের টাকা থেকে নিজস্ব খরচ মিটিয়েও জেলার বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসা, এতিমখানাসহ গরিব ছাত্রদের মধ্যে ব্যয় করা হয়। ২০০২ সালে মসজিদের অর্থায়নে এর পাশেই প্রতিষ্ঠিত হয় একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসা।
টাকা দেয়া হয় নানা সামাজিক কাজেও। প্রতি মাসে মসজিদের স্টাফ খরচ বাবদ ব্যায় হয় ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। বাকি টাকা জমা রাখা হয় রুপালী ব্যাংকে।
গত দুই বছর যাবৎ মসজিদের দানের মূল টাকা খরচ করা হচ্ছে না। রূপালি ব্যাংকে জমানো হচ্ছে এগুলো। ৬০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারে এমন একটি ইসলামি কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে এ টাকা দিয়ে।
নারীদের জন্যও এতে থাকবে পৃথক নামাজের ব্যবস্থা। প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যায় ধরা হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা।
করোনাকালে মুসল্লিদের প্রবেশাধিকারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তখনো থেমে থাকেনি মানুষের দান করা। আবার তখন হাসপাতালে করোনা ইউনিটে নিযুক্ত সেচ্ছাসেবকদেরও এই দানের টাকায় সহায়তা করা হয়েছে।
অসহায় গরিব ও জটিল রোগাক্রান্তদের সহায়তাও করা হয় এই টাকা দিয়ে। ২০২১ অর্থবছরে ১২৪ জন দূরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত দরিদ্র ও দুস্থকে চিকিৎসা এবং অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা বাবদ ১৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা অনুদান দেয়া হয় এখান থেকে।
এখানে দান করলে মনের ইচ্ছে পূরণ হয় এমন বিশ্বাস থেকেই লোকজন দান করেন। শুধু মুসলিমই নন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সহ অন্য ধর্মের মানুষও এখানে দান করে।
প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ দান করতে আসে। নগদ টাকা ছাড়াও লোকজন দান করে সোনাদানা,অলংকার, চাল,ডাল, গবাদিপশু,হাঁস-মুরগি,গরু, ছাগল সহ আরও অনেক কিছু।
শুরুতে ওয়াকফকৃত ১০ শতাংশ জমির উপর গোড়াপত্তন হয় মসজিদটির। বর্তমানে এটি ৪ একর জমির উপর দাড়িয়ে আছে। এর বিপুল আয় ব্যায় ওয়াকফ স্টেটের অডিটর কর্তৃক প্রতি বছর নিয়মিত নিরীক্ষা হয়।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)