আজকের খবর
সেন্ট মার্টিনে ভেসে এলো বিদেশি ভূতুড়ে জাহাজ
ঘুর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে সেন্ট মার্টিনের ছেঁড়াদিয়ায় ভেসে এসেছে এক ভূতুড়ে জাহাজ।
রহস্যময় এই জাহাজটি বিদেশি জাহাজ বলেই শনাক্ত করা হয়েছে। জাহাজটিতে রয়েছে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ।
২৪ অক্টোবর সোমবার দুপুর ১২টার দিকে একটি বড় আকৃতির জাহাজ ভেসে আসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে ছেঁড়াদিয়ার প্রাকৃতিক পাথরের ওপর আটকা পড়ে এটি।
প্রথমে ভয়ে জাহাজের কাছে ঘেঁসেনি কেউ। এরপর এলাকার কয়েকটি যুবক ছেলে ও স্থানীয় ইউপি সদস্য ঘটনাস্থলে যান।
উৎসুক স্থানীয় কয়েকজন যুবক জাহাজের দড়ি বেয়ে উপরে উঠে। তারা জানিয়েছেন, জাহাজটির ছাদ খোলা। এটি নাবিকবিহীন এবং একেবারেই জনশূন্য। এমনকি ইঞ্জিন রুমও ছিল তালাবদ্ধ।
ভূতুড়ে এই যানে বেশ কিছু কন্টেইনার ও অন্যান্য মালামাল রয়েছে। এসব কন্টেইনারের দাম কোটি কোটি টাকা হতে পারে বলে জানিয়েছেন দ্বীপের লোকজন।
এটি বেশ পুরোনো এবং এর গায়ে কোনো নাম লেখা নেই। তবে ‘এম আর 3322’ ও ‘ এস সি 4562B’ এরকম দুটি নম্বর লেখা আছে। এই দুটো নম্বরের ভিত্তিতে নিশ্চিত করা হয় এটি সিঙ্গাপুরের মালিকানাধীন।
জাহাজটি ১১০.৬ মিটার দীর্ঘ এবং ৩০ মিটার চওড়া একটি মালবাহী বার্জ।
এটি মূলত মালয়েশিয়া থেকে পাথর নিয়ে এসেছিল। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চলমান একটি প্রকল্পের জন্য ৯ হাজার ৬০০ টন পাথর নিয়ে গত ১৮ অক্টোবর কুতুবদিয়া আসে বার্জটি।
পাথর খালাস শেষে গত বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে মালয়েশিয়ার লুমুত পারাকের উদ্দেশে রওয়ানা দেয়। বার্জটিকে টেনে এনেছিল গ্লোরি-৩ নামে একটি শক্তিশালী টাগবোট।
ঝড়ের কবলে পড়ে টাগবোটের সঙ্গে বাধা রশি ছিঁড়ে যায়। পরে বার্জটি ভাসতে ভাসতে ছেঁড়াদ্বীপের চরে গিয়ে আটকে পড়ে। টাগবোট গ্লোরি-৩ আশপাশেই রয়েছে।
প্রথমে পরিচয় বিহীন এই বার্জ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছিল। বিশাল এই যানের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে নানান মন্তব্য করছেন নেটিজেনরা।
শুধুমাত্র ফেসবুকেই নয়, স্থানীয়দের অনেকেই এটিকে 'ভূতুড়ে জাহাজ' বলেছে। কন্টেইনারবাহী জাহাজটি নিয়ে পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী অবগত রয়েছেন।
কোস্টগার্ডের টেকনাফ স্টেশনের ইনচার্জ লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. আশিক আহমেদ জানান, ভেসে আসা জাহাজটি নিরাপদে রাখতে এবং নিরাপত্তা দিতে কোস্টগার্ড ব্যবস্থা নিয়েছে।
গেলো জুলাই মাসেও বঙ্গোপসাগরে ভেসে এসেছিল জনশূন্য একটি বিদেশি জাহাজ। ‘আল কুবতান’ নামে জাহাজটি ভোলার মনপুরার বিচ্ছিন্ন চরনিজামের পূর্বপাশে চরে আটকা পড়েছিল।
নাবিকবিহীন ঐ জাহাজটিরও ওপরের অংশ ছিল খোলা। পাথর বোঝা অবস্থায় পড়ে ছিল এটি। একটি ভেকু মেশিন, পাথর ভাঙার মেশিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় মালামাল ছিল এতে। সব নিয়ে কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি ছিল জাহাজটিতে।
ভেসে আসা জাহাজ থেকে গুরুত্বপূর্ণ মালামাল লুট করে নিয়েছিল স্থানীয় প্রভাবশালী মহল। অন্তত দেড় কোটি টাকার মালামাল তারা ছিনিয়ে নিয়ে ছিল।
দুর্গম এলাকা ও সমুদ্র উত্তাল থাকায় জাহাজের হেফাজত নিতে দেরি করছিল প্রশাসন। আর এতেই এমন কান্ড করে বসে স্থানীয়রা।
যদিও পরবর্তীতে এই জাহাজের পরিচয় মিলেছে। জানা যায়, বার্জটি ভারত থেকে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্টের চলমান কাজের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসছিল।
বঙ্গোপসাগরে বিদ্যমান লঘুচাপ ও দক্ষিণাঞ্চলের ওপর সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর কারণে জোয়ারের তোড়ে ভেসে আসে এটি।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)