আজকের খবর
চালু হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম কার্গো ড্রোন এয়ারলাইন
এবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ড্রোন প্রযুক্তিকে মালামাল পরিবহনে কাজে লাগানোর। ইতিমধ্যেই এই লক্ষ্যে কাজ করছে একাধিক ইউরোপিয়ান প্রতিষ্টান।
এদের মধ্যে সম্প্রতি আলোচনায় এসেছেন বুলগেরিয়ান উদ্দোক্তা "স্ফিলেন রেইঞ্জেলোভ"।
তার প্রতিষ্টান ড্রোনামিক্স শীঘ্রই উদ্বোধন করতে যাচ্ছে প্রথম বানিজ্যিক কার্গো ড্রোনের।
এর আগে ২০১৩ সালে টেক জায়ান্ট আমাজন, সর্বপ্রথম হোম ডেলিভারির কাজে ড্রোনের ব্যবহার শুরু করে। তখনই রেইঞ্জলোভ বুঝতে পারেন কার্গোর ভবিষ্যত ড্রোন।
তবে তার মতে আমাজনের মত প্রতিষ্টান গুলো যে পদ্ধতি অনুসরন করে আসছে তা ভুল।
ড্রোন দিয়ে ডেলিভারি ম্যানের কাজ সারানো যাবেনা।
তাই তিনি ড্রোন দিয়ে দীর্ঘ দুরত্বে মালামাল পরিবহনের পরিকল্পনা করেন।
সে উদ্দেশ্যে খুলে বসেন, চালক বিহীন কার্গো বিমানের বিশেষ এয়ারলাইনস প্রতিষ্টান।
এই যাত্রায় সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন তার ভাই, এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্যান্টিন।
দুই ভাই মিলে খোলা স্টার্টাপের নাম দেন ড্রোনামিক্স।
আট বছর আগে চালু হওয়া, ড্রোনামিক্সের দুই মালিক সে সময় শপথ নিয়েছিলেন, নিজেদের এয়ারলাইনের প্রথম ফ্লাইট চালু না হওয়া পর্যন্ত দাড়ি কাটবেননা।
তবে এবারে এসেছে সে সুযোগ। সব ঠিক থাকলে আগামী বছরের শুরুতেই আকাশে উড়বে তাদের তৈরি কার্গো ড্রোনের প্রথম বানিজ্যিক ফ্লাইট।
তাদের এই কার্গো ড্রোনের নাম দেওয়া হয়েছে, "ব্ল্যাক সোয়ান"।
এটি ১৫০০ মাইল অর্থাৎ প্রতিবারে দিল্লী টু দুবাই এর সমান দূরত্ব অতিক্রম করতে পারবে।
বিখ্যাত অস্ট্রেলিয়ান ইঞ্জিন প্রস্ততকারক, রোটেক্স এর তৈরি একটি সিঙ্গেল প্রপাইলার ইঞ্জিন দিয়েই মুলত চলবে ব্ল্যাক সোয়ানের সব কার্যক্রম ।
এই ধরনের ইঞ্জিনে ফুয়েল খরচ অনেক কম।
একই সাথে ড্রোনটি হালকা ফাইভারে তৈরি হওয়ায়, এটি চলমান কার্গো সিস্টেমের তুলনায়, কমপক্ষে ৫০ শতাংশ সাশ্রয়ী হবে।
জানা গেছে, এটি ২০ হাজার ফিট উচ্চতায় চলাচল করবে। ফলে ফ্লায়িং স্পেস নিয়ে ড্রোনামিক্সকে অন্য কমার্শিয়াল ফ্লাইটের সাথে, প্রতিযোগিতা করতে হবে না।
এদিকে তাদের তৈরি প্রথম ড্রোন "ব্ল্যাক সোয়ান" মাত্র সাড়ে তিনশ কেজি মালামাল পরিবহন করতে সক্ষম। তাই তারা নিজেদের পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন এনেছে।
তাদের লক্ষ্য আপাতত ভারী পন্যের পরিবর্তে কম ওজনের -দামি ইলেক্ট্রনিক্স, ফ্যাশন ওয়ার কিংবা স্মার্ট ফোনের মত পন্য পরিবহনে কাজ করবে।
আলোচনার জন্ম দেওয়া ব্ল্যাক সোয়ানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, এটি ছোট রানওয়ে কিংবা এয়ার স্ট্রিপের মত কম জায়াগায়, অবতরন কিংবা উড্ডয়ন করতে সক্ষম।
ফলে ড্রোনামিক্স মালিকেরা আশা করছে, ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় থাকা ছোট বড় ৩ হাজার এয়ারস্ট্রিপ কাজে লাগিয়ে, তারা পুরো মহাদেশটিতে, একদিনে পন্য পরিবহন করতে পারবে।
মুলত, মেইন ওয়্যারহাউজ থেকে রিজিওনাল ওয়ারহাউজে, পন্য পরিবহনের কাজে, ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে, বিশ্বের প্রথম কার্গো ড্রোন এয়ারলাইনস।
রিজিওনাল স্টোর থেকে প্রথাগত পদ্ধতিতে, ক্রেতার হাতে পৌছে যাবে পন্য।
এদিকে ড্রোনটিতে নতুন সিন্থেটিক জ্বালানী ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে, যা ৬০ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ কমাবে।
ইতিমধ্যেই, রেইঞ্জলোভ ব্রাদারের এই উদ্যোগ সাড়া ফেলেছে প্রযুক্তি দুনিয়ায়। বিশ্বের বড় বড় কুরিয়ার সার্ভিস গুলো তাদের সাথে যোগাযোগ শুরু করছে।
চালু হওয়ার আগেই, কুরিয়ার সার্ভিস জায়ান্ট হেলমেন এবং ডিএইচএল এর মত প্রতিষ্টান, তাদের সাথে পন্য পরিবহনের চুক্তি সাক্ষর করেছে।
বিশ্লেষকদের ধারনা, কার্গো ড্রোন এয়ারলাইনের নতুন এই কনসেপ্ট, লজিস্টিকস এবং সাপ্লাই চেইন খাতে এক আমুল পরিবর্তন নিয়ে আসবে।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)