আজকের খবর


বিশ্বসেরা বিচসাইড রিসোর্ট কক্সবাজারের রয়েল টিউলিপ


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:৩০ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার

বিশ্বসেরা বিচসাইড রিসোর্ট কক্সবাজারের রয়েল টিউলিপ

পৃথিবীর সেরা বিচ সাইড রিসোর্টের স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশের একটি রিসোর্ট। সম্প্রতি  কক্সবাজারের ইনানি সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন ৫ তারকা হোটেল- রয়েল টিউলিপ এই মর্যাদা অর্জন করেছে।       


পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের দেশ হিসেবে বরাবরই বাংলাদেশের উজ্জ্বল স্বীকৃতি ছিল, এবার সেই শ্রেষ্ঠত্বের ভাণ্ডারে আরেকটি তকমা পেল দেশের সমুদ্র সৈকত। 


মোট ৩ টি বিষয়ের বিবেচনায় গ্লোবাল অর্গানাইজেশন দ্য ওয়ার্ল্ড লাক্সারি হোটেল অ্যাওয়ার্ডস কর্তৃক এই খেতাবে ভূষিত হয়েছে লাক্সারি রিসোর্ট রয়েল টিউলিপ।


সেরা বিচ সাইড রিসোর্টের পাশাপাশি সেরা লাক্সারি স্পা অ্যাওয়ার্ডও লাভ করেছে তারা। শুধু হোটেলের মান ও সৌন্দর্যই নয়, এই খেতাবের ভাগীদার হয়েছেন রিসোর্ট পরিচালনায় নিয়োজিতরাও।


রয়েল টিউলিপের গ্রুপ জেনারেল ম্যানেজার আজিম শাহ পেয়েছেন সেরা জেনারেল ম্যানেজারের খেতাব।


সম্প্রতি তুরস্কের আনাতোলিয়ার একটি বিলাসবহুল হোটেলে আয়োজিত হয় জমকালো এক অনুষ্ঠান। সেখানেই  ২০২২ সালের দ্য ওয়ার্ল্ড লাক্সারি হোটেল অ্যাওয়ার্ডসে রয়েল টিউলিপের নাম ঘোষণা করা হয়। 


বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অভিজাত হোটেল ও রিসোর্টগুলোর মধ্যে সেবার মানদণ্ড বিচারে স্বীকৃতি দিয়ে থাকে দি ওয়ার্ল্ড লাক্সারি হোটেল অ্যাওয়ার্ডস।


এবার সেই তালিকায় স্বীকৃতি পেল বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের শহর কক্সবাজার। দেশের পর্যটন খাতের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি বিরল সম্মানসূচক অর্জন।


২০১৫ সালে ইনানি বিচের ১৫ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হয় রয়েল টিউলিপ রিসোর্ট। ৫ তারকা এই হোটেলের ভেতর বাহির সবদিকেই রয়েছে আভিজাত্য এবং স্বকীয়তার ছোঁয়া।


রিসোর্টে মোট ৪৯৩ টি রুম রয়েছে। সেবার মান, সুযোগ-সুবিধা ও সৌন্দর্যের মাত্রা অনুযায়ী কক্ষগুলো বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত।     


এখানকার সুপেরিয়র স্যুইটগুলোতে হিল ভিউ এবং সি ভিউ দুটোই পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ঘরগুলো থেকে দূরের পাহাড় যেমন হাতছানি দেয়, তেমনি সাগরের গর্জনও শোনা যায়।     


প্রিমিয়াম সি ভিউ স্যুইটে রয়েছে রান্নাঘর, ডাইনিং এবং লিভিং রুম। এর থেকেও বেশী সুবিধাসম্পন্ন হল প্যানারমিক সি ভিউ স্টুডিও স্যুইট।  


যেখানে মিলবে রান্নাঘর, ডাইনিং, লিভিং রুম এবং বারান্দা। এছাড়াও রয়েছে এক্সিকিউটিভ স্যুইট ও ফ্যামিলি স্যুইট।


এসব কক্ষে রয়েছে সৈকতমুখী বারান্দা, লিভিং স্পেস, তিনটি করে ওয়াশরুম, একটি মাস্টার বেড এবং একটি শিশুদের কক্ষ।            


বিশেষ সম্মানিত অতিথিদের জন্য রয়েছে সুবিশাল ও বিলাসবহুল প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুইট।  


অভ্যন্তরীণ সজ্জাকে রাজকীয় করে তোলা হয়েছে আসবাবপত্র দিয়ে। আর সাথে রয়েছে একটি ঝুল বারান্দা।  


সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যাপার হল, এইসব কক্ষ ছাড়াও, নবদম্পতিদের জন্য প্রস্তুত রাখা রয়েছে লাক্সারি হানিমুন স্যুইট,  সেখানে মিলবে একটি সংসারের যাবতীয় সবকিছুই।  


হোটেলের সামনে রয়েছে জ্যাকুজি, সুইমিংপুল, প্লে গার্ডেন, ওয়াটার পার্ক, টেনিস গ্রাউন্ড, ব্যাডমিন্টন কোর্ট, থ্রিডি মুভি হল, জিম,  স্পা এবং উন্মুক্ত সবুজ লন।   


রয়েছে বিয়ে, গালা নাইট, ফ্যামিলি প্রোগ্রাম, ফ্যাশন শো'সহ বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠান আয়োজনের সুবিধা।           


আলোচনাসভার জন্য রাখা আছে সেমিনার কক্ষ ও বিশাল বলরুম। দেশি বিদেশী সব শ্রেণির পর্যটকদের জন্য নিশ্চিত করা হয় আন্তর্জাতিক মানের সেবা।   


সবমিলিয়ে কারুকাজখচিত বিলাসী ব্যবস্থাপনার এক রাজকীয় অনুভূতি এনে দিয়েছে এই হোটেল।  


তাছাড়া রিসোর্টের একেবারে সামনেই রয়েছে নীল সমুদ্র। তাই বারান্দা থেকেই সমুদ্রের সৌরভে মন ভোলানো সম্ভব।


মূলত রিসোর্ট চত্বরে সৈকতের উপস্থিতিই একে স্বাতন্ত্র্য দান করেছে। কারণ পর্যটকদের হোটেল থেকে বেরিয়ে সৈকতের সন্ধানে অন্য কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন হয় না।      


সংরক্ষিত অঞ্চল হওয়ায় আমজনতার আগমন নেই, তাই সৈকতের পানিও অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছ এবং নির্মল। পরিবেশও তুলনামূলক নির্জন।  


একদিকে নির্জন সৈকতে ঢেউয়ের গর্জন অন্যদিকে রাজকীয় প্রসাদসম রিসোর্ট- যা স্থানটিকে অনন্যতা দান করেছে।


রিসোর্ট সংলগ্ন বিচে প্যারাসেইলিং, ডিপ সি ফিশিং এবং স্পিডবোট রাইডে চড়ার সুব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।  


রিসোর্ট থেকে নাম মাত্র দূরত্বে রয়েছে হিমছড়ি ঝরনা, দরিয়া নগর ও বার্মিজ মার্কেটের মত পর্যটন আকর্ষণ। 


সমুদ্র দর্শনের সাথে সাথে তাই ঘোরাঘুরি আর কেনাকাটার সুযোগও সহজেই মিলে যায়।   


বিশ্বের অসংখ্য বিলাসবহুল রিসোর্টকে পেছনে ফেলে রয়েল টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা এই সম্মান অর্জন করেছে।   




জনপ্রিয়