আজকের খবর
গাড়িকে হেলিকপ্টারের রূপ দিয়েছেন এক কাঠমিস্ত্রী
অদ্ভুত কান্ড ঘটিয়েছে ভারতের উত্তর প্রদেশের এক কাঠ মিস্ত্রি। টাটা কোম্পানির ন্যানো মডেলের একটি গাড়িকে রুপান্তরিত করেছেন ঠিক হেলিকপ্টারের মতো করে। যদিও এই হেলিকপ্টার আকাশে উড়ে না, রাস্তায় চলে এটি।
কাঠ মিস্ত্রি সালমান উত্তর প্রদেশের আজমগড়ের বাসিন্দা। এই অদ্ভুত যানটি তৈরী করতে তার সময় লেগেছে মাত্র চার মাস। খরচ হয়েছে পুরো তিন লাখ রুপি।
আরোহীদের আকাশের উড়ার সাধ দোয়ার জন্য গাড়িটির আদল পালটে ফেলেন এই কাঠ মিস্ত্রি। যারা কখনো হেলিকপ্টারে চড়েননি তারা এতে চড়ে ভিন্ন স্বাদ নিতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি।
এছাড়া এমন হেলিকপ্টার সদৃশ গাড়ি বানানোর আরেকটি উদ্দেশ্য হলো নিজ গ্রামকে সারা বিশ্বের কাছে রিপ্রেজেন্ট করা।
এখন সালমানের শখের গাড়ি দেখতে প্রতি দিন ভিড় করে হাজারো মানুষ। ইতিমধ্যে এই গাড়িতে চড়ার জন্য উৎসুক লোকের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
সালমান তার গাড়ি নিয়ে ভীষণ আশাবাদী। সরকার কিংবা কোনো সংস্থা সাহায্যের হাত বাড়ালে তিনি এমন গাড়ি তৈরী করতে চান, যা আকাশে উড়ার পাশাপাশি পানিতেও ছুটে বেড়াবে।
গাড়িতে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন রঙের লাইট। যা রাতের বেলা একে আরো বেশি দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষনীয় করে তোলে।
ইতোমধ্যে সালমানের গাড়ি এবং হেলিকপ্টারের চমৎকার যুগল বন্দী ভাইরাল হয়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
বিশেষ করে টুইটারে সাড়া ফেলেছে তার আবিষ্কার। টুইটার ব্যবহারকারীরা তার সীমাহীন কল্পনা শক্তির ভূয়সী প্রশংসা করছেন। বিশেষ কর নতুন কিছু করার আত্মবিশ্বাস মুগ্ধ করেছে তাদের।
তবে এবারই প্রথম নয়, বছরের শুরুর দিকে বিহারের বাঘার বাসিন্দা গুড্ডু শর্মা একই মডেলের গাড়িকে হেলিকপ্টারে রূপান্তরিত করেছিলেন। এতে তার খরচ হয়েছিল প্রায় ২ লক্ষ টাকা।
ব্যাতিক্রমী যানটিতে যুক্ত করেছিলেন বেশ কিছু সেন্সর এবং ফিচার্স। হেলিকপ্টারের মতোই গাড়ির পেছনে লাগানো ছোট মাপের প্রপেলারটি ঘুরার ব্যবস্থাও ছিল।
বিয়ের মৌসুমে এই গাড়ি ভাড়া দেন গুড্ডু শর্মা।
বিয়ের দিন কপ্টারটিকে এলইডি লাইট দিয়ে সাজানো হয়। আর তার ভিতরে বসে বর-কনের মনে হয় যেন তাঁরা হেলিকপ্টারেই ভ্রমণ করছেন।
বিহারের পাত্রপক্ষরা অনেকেই চান বরকে হেলিকপ্টারে চাপিয়ে বিয়েবাড়িতে গ্র্যান্ড এন্ট্রি করাতে। অথবা নতুন বউ আনার সময়ও হেলিকপ্টার ভাড়া করতে চান।
কিন্তু অত্যধিক ব্যয়বহুল হওয়ায় অধিকাংশের সাধ্যে কুলোয় না সেটি। গাড়িটির ভাড়া কম হওয়ায় আকাশ্চুম্বী ছিল চাহিদা।
কেউ ভাড়া নিতে চাইলে ব্যয় করতে হতো ১৫ হাজার টাকা। ফলে ২ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে বেশ লাভবান হয়েছিলেন গুড্ডু।
সর্বপ্রথম ভারতে একটি ন্যানো গাড়িকে হেলিকপ্টারে রূপান্তরিত করেছিলেন বিহারের ছাপড়া জেলার মিথিলেশ প্রসাদ নামের এক ব্যক্তি। ছোট বেলা থেকে তার স্বপ্ন ছিল হেলিকপ্টার তৈরি করবেন।
আর সেই স্বপ্ন সফল করতেই তিনি বেছে নিয়েছিলেন একটি টাটা ন্যানো গাড়ি। সাত মাসের মধ্যে মিথিলেশ তাঁর ড্রিম প্রজেক্টের বাস্তব রূপ দিয়েছিলেন।
এই ধরনের মডিফায়েড গাড়ি উড়তে পারে না। তবে হেলিকপ্টারের মতো কিছু ফিচার্স থাকে এতে, যার মধ্যে আছে রোটর, টেল বুম এবং টেল রুটার।
প্রসাদ তাঁর ন্যানো হেলিকপ্টারটির রোটর এবং সাইড প্যানেলে রংবেরঙের এলইডি লাইট লাগিয়েছিলেন। এই প্রজেক্টের জন্য তাঁর খরচ হয়েছিল ৭ লাখ টাকা।
তবে গাড়ির পড়ে থাকা যন্ত্রাংশ দিয়ে সর্বপ্রথম হেলিকপ্টার তৈরি করেছিলেন ব্রাজ়িলের এক ব্যক্তি। তাকে দেখার পর একই পথে হেটেছেন বেশ কয়েকজন ভারতীয়।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)