আজকের খবর
কীভাবে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের দায়িত্ব পেলো বাংলাদেশ!
শুরু হয়েছে তিন দিন ব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। এতে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে, ইতিমধ্যে ঢাকার তুরাগ পাড়ে জড়ো হয়েছেন লাখ লাখ মুসল্লি।
এর মধ্যে আছেন বিদেশীরও। প্রতি বছরই একটি নির্দিষ্ট সময়ে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের তাবলীগ জামাতের অনুসারীদের নিয়ে, ঢাকায় অনুষ্টিত হয় এই আয়োজন।
হজের পর এটিই ইসলাম ধর্মবলম্বীদের সবচেয়ে বড় গন জমায়েত। কিন্তু বরাবরই প্রশ্ন থেকে যায়, এত মুসলিম দেশ থাকতে কেন বাংলাদেশেই হয় এই আয়োজন।
সাধারন মানুষের বড় অংশই মনে করেন, স্বাধীনতার পর কোন একসময়ে লটারির মাধ্যমে, বাংলাদেশ প্রতি বছর ইজতেমা আয়োজন করার দায়িত্ব পেয়েছে।
তবে তাবলীগ জামাতের মুরব্বীদের মাধ্যমে জানা যায়, আসলে এই দাবীর কোন ভিত্তি নেই। মুলত বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই প্রতি বছর আয়োজিত হয় ইজতেমা।
তবে ধারাবাহিকতা, খরচ, সহজ যাতায়াত এবং সরকারের আন্তরিকতার কারনে, বিশ্বব্যাপী বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে, বাংলাদেশে আয়োজিত হওয়া নিয়মিত ইজতেমা।
এসব কারনে বিদেশীরা সবচেয়ে বেশী আসেন বাংলাদেশের ইজতেমাতেই। এর আগে ১৯২৭ সালে, দিল্লীর মাওলানা ইলিয়াস সাহেব প্রথম শুরু করেন তাবলীগের কাজ।
ধর্মীয় শুদ্ধিকরনের এই কাজকে আরো বেগবান করার জন্যে, তিনি নির্দিষ্ট সময় পর পর বিভিন্ন এলাকায় তাবলীগ করে, মানুষদের নিয়ে আলোচনায় বসতেন।
আর সকলে বসে আলোচনা এবং দোয়ার এই কাজ তখন থেকেই ইজতেমা নামে পরিচিত। এরপর ১৯৪৪ সালে মাওলানা আজিজ সাহেবের হাত ধরে বাংলাদেশে শুরু হয় তাবলীগের কাজ।
তখন থেকে বাংলাদেশেও শুরু হয় ইজতেমার সংষ্কৃতি। সেই সময় বিভাগ কিংবা জেলা ভিত্তিক ইজতেমা হলেও, পুরো দেশের সকল সাথীকে একত্র করা ছিল কষ্টকর।
১৯৪৫ সালে কাকরাইল মসজিদে বিভিন্ন এলাকার মুসল্লীদের নিয়ে প্রথম জাতীয় ইজতেমা হয়। তবে দেশভাগের পর তাবলীগের রুপ পরিবর্তন হয়।
সেসময় তাবলীগের হেড কোয়ার্টার থেকে দুই পাকিস্থান এবং ভারতে সম্মিলিত ইজতেমা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ফলে ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রাম হাজী ক্যাম্পে এবং ১৯৫৮ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আয়োজিত হয় তাবলিগ জামাতের ইজতেমা।
এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে লোকসংখ্যা। ঢাকা শহরে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায়, ১৯৬৬ সালে টঙ্গীতে অনুষ্টিত হয় ইজতেমা। সেখানে কয়েকটি বিদেশী জামাতও এসেছিল।
তখন থেকেই দেশের সবচেয়ে বড় এই ইজতেমা, পরিচিতি পায় বিশ্ব ইজতেমা হিসেবে। ১৯৬৭ সাল থেকে তুরাগ নদীর পাড়ে নিয়মিত অনুষ্টিত হতে থাকে বিশ্ব ইজতেমা।
স্বাধীনতার পরে বিশ্ব ইজতেমা প্রাতিষ্টানিক রুপ পেতে শুরু করে। সরকারের পক্ষ থেকে তুরাগ পাড়ে তাবলীগ জামাতকে প্রায় ১৬০ একর জমি দেওয়া হয়।
মুলত বাংলাদেশ সরকারের এই সহযোগিতা, এবং বাংলাদেশে থাকার খরচ কম হওয়ায়, বিদেশীরা এই ইজতেমায় বেশি বেশি অংশ নিতে শুরু করেন।
এছাড়া সহজে ভিসা প্রাপ্তি , ধর্মীয় সহিষ্ণুতা এবং স্থানীয় মুসলিমদের আন্তরিকতা, এই দেশে আসার ব্যপারে বিদেশীদের উদবুদ্ধ করেছে।
পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, বিশ্বের অন্য যেকোন ইজতেমার চেয়ে বাংলাদেশে বিদেশী মেহমানরা বেশী আসছেন। আর এভাবেই কাল ক্রমে বিশ্ব ইজতেমা নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ।
একসময় ইজতেমা শুধু একবার অনুষ্টিত হতো। তবে লোকসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায়, বর্তমানে সরকারের নির্দেশনায় একাধিক পর্বে অনুষ্টিত হয় বিশাল এই আয়োজন।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাবলীগের দুই গ্রুপের বিরোধের ফলে, ইজতেমায় বিদেশীদের অংশগ্রহন উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)