আজকের খবর
ব্রিকসে যোগ দিচ্ছে সৌদি আরব, ক্ষুব্ধ ওয়াশিংটন
সৌদি আরব-আমেরিকা সুসম্পর্ক এখন তলানিতে। অথচ, কিছুদিন আগেও দেশ দুটির মাঝে গলায় গলায় ভাব ছিলো।
বর্তমানে উভয় দেশের মাঝে এক প্রকার শীতল যুদ্ধ বিরাজ করছে। রুশ ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর উভয় দেশের মাঝে সম্পর্কের এমন টানাপোড়ন দেখা যায়।
গেল বছর সৌদি আরব তাদের তেল উৎপাদন দুই শতাংশ কমিয়ে আনার কথা জানালে ক্ষুব্ধ হয় ওয়াশিংটন।
তখন নো পেক বিলের মাধ্যমে ওপেক প্লাস ভুক্ত তেল কোম্পানিগুলোর উপর থেকে নিরাপত্তা ব্যাবস্থা প্রত্যাহার করার কঠিন হুশিয়ারি দেন জো বাইডেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
ফল স্বরূপ তিনি ব্রিকসে যোগদান করার সিদ্ধান্ত নেন, এবং জোটটিতে সদস্য পদ লাভের অনুরোধ জানান।
এতে আবারো ক্ষুব্ধ হয় বাইডেন। কারণ, জোটটিতে রাশিয়া এবং চীন রয়েছে। যারা কিনা উভয়েই আমেরিকার চরম প্রতিদ্বন্দ্বী।
ব্রিকস মূলত ব্রাজিল, চীন, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ভারতকে নিয়ে গঠিত একটি অর্থনৈতিক জোট।
বর্তমানে এর নতুন সদস্য পদ লাভ করতে যাচ্ছে সৌদি আরব এবং আর্জেনটিনা।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদির ব্রিকসে যোগদান করার পেছনে রয়েছে বেশ কিছু কারন। যেগুলো আমেরিকাকে ভীষণ ভাবে বিপদে ফেলতে পারে।
অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকসের সদস্য দেশ গুলোর মধ্যে রাশিয়াই একমাত্র দেশ, যারা জ্বালানী তেলের দিক দিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ।
কিয়েভ অভিযান শুরুর পর পশ্চিমারা নানান নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল মস্কোর উপর। ফলে রুশ জ্বালানি তেল আমদানি- রপ্তানিতে ব্যাপক ভাটা পড়ে।
তাতে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম লাগামহীন ভাবে বেড়ে যায়। যার বিরূপ প্রভাব প্রায় প্রতিটি দেশেই পড়ে।
ফলে, বিশ্ববাসীর কাছে রাশিয়ার মূল্য কতটুকু তা আরো স্পষ্ট হয়।
এখন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্রিকসে যোগ দেয়ার মাধ্যমে সৌদি এবং রাশিয়া মিলে একত্রে বিশ্বের তেল বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। ফলে বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাজারে পশ্চিমাদের প্রভাব পুরোপুরি হ্রাস পাবে।
সৌদির ক্রাউন প্রিন্স সালমান কতটা প্রখর বুদ্ধির অধিকারী, সেটি তাঁর ব্রিকসে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকেই বুঝা যায়।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ হচ্ছে চীন, ব্রাজিল এবং ভারত।
সৌদির ব্রিকসে যোগ দানের মাধ্যমে দেশ তিনটিতে তাদের তেল রপ্তানি আরো বৃদ্ধি পাবে। এতে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
কারণ, এর ফলে মার্কিন ব্যাংক গুলোতে সুদের হার অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে।
কারণ, দীর্ঘ দিন ধরে সৌদি তেল বাণিজ্যে মার্কিন ডলার ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু, ব্রিকসে যোগ দিলে সৌদিকে ডলারের পরিবর্তে দ্বিপাক্ষিক মুদ্রার মাধ্যমে তেল বাণিজ্য করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে বিশ্ব জুড়ে নতুন একটি মুদ্রা ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে। যেটি কিনা ডলারের বিপরীতে সরাসরি কাজ করবে।
এক্ষেত্রে পেট্রলিয়াম সমৃদ্ধ দেশ গুলো বেশি প্রাধান্য পাবে। কারণ, বর্তমান বিশ্বে পেট্রলিয়ামের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
সৌদি - রাশিয়ার মতো দেশ গুলোই পারে নতুন একটি মুদ্রাকে বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করতে।
এমন একটি পরিকল্পনার কথা ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন পুতিন। মার্কিন ডলারের একচেটিয়া রাজ্যত্ব কমিয়ে আনতেই পুতিনের এমন পরিকল্পনা।
নতুন মুদ্রা চালু হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে পশ্চিমাদের প্রভাব একেবারেই দুর্বল হয়ে পড়বে। কারণ, বিশ্বের বৃহৎ অর্থ্নীতির চারটি দেশই ব্রিকসের সদস্য।
ফলে নিজেদের মধ্যে ডলার ব্যতিত অন্য মুদ্রা দিয়ে লেনদেন করলে বিশ্ব বাজারে অনেকটাই ডলারের আধিপত্য হ্রাস পাবে।
অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, জোটটির নতুন মুদ্রা ডলারের থেকে অধিকতর স্থিতিশীল হবে।
ফলে, ডলার নির্ভর দেশ গুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাত থেকে অনেকটাই রক্ষা পাবে।
সেই সাথে সৌদি আরব ব্রিকসে যোগ দিলে- ভূ রাজনীতির ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটবে বলেও মনে করছেন অনেকে।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)