আজকের খবর


চলতি বছরের এপ্রিলে চীনকে ছাড়িয়ে সবচেয়ে জনবসতিপূর্ণ দেশ হতে যাচ্ছে ভারত।


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২১ জানুয়ারি ২০২৩, ০৬:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার

চলতি বছরের এপ্রিলে চীনকে ছাড়িয়ে সবচেয়ে জনবসতিপূর্ণ দেশ হতে যাচ্ছে ভারত।

বিশ্বের জনবহুল দেশ গুলোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চীন এবং ভারত।

তবে, পরিসংখ্যান অনু্যায়ি চলতি বছরের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে, চীনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশের তকমা অর্জন করতে পারে ভারত!

উনিশ শতকের মাঝামাঝিতেও দেশটির জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার ছিল অনেক বেশি। 

১৯৫২ সালে ভারত সরকার পরিবার পরিকল্পনার দিকে বেশি মনযোগ দেয়।

১৯৭৫ সালে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠির উপর এক অবিচার করে বসে দেশটির প্রশাসন।

জোর পূর্বক তাদের সন্তান জন্মদানের সক্ষমতা কমিয়ে দেয় ভারত সরকার। ফলে তৎকালীন সরকারকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল।

অতঃপর ১৯৭৬ সালে অতিরিক্ত ঘনবসতি এড়াতে জাতীয় জনসংখ্যা নীতি কর্যকর করে সরকার।  এবং সেই আইন প্রত্যেক ভারতীয়র জন্য সমান ভাবে জারি করা হয়।

কিন্তু বর্তমানেও দেশটির জনসংখ্যা বেড়েই চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধি এক দিক থেকে যেমন ভারতের জন্য আশির্বাদ, অন্যদিকে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে।

এক পরিসংখ্যান মোতাবেক, পৃথিবীর প্রায় পাঁচ জন পঁচিশ বছর বয়সী যুবকের মধ্যে একজন ভারতীয়।

কারণ, ভারতের মোট জনসংখ্যার বড় একটি অংশ পঁচিশ বছরের কম বয়সী নাগরিক।

ভারতীয় অর্থনীতিবিদদের মতে, এত বিশাল জনসংখ্যার তরুণ সমাজ ভারতের জন্য আশির্বাদ স্বরূপ। 
 
তাদের মতে, পঁচিশ বছর বা এর কম বয়সীরা দেশটির সবথেকে বড় ভোক্তা শ্রেনী। সেই সাথে সবচেয়ে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠিও ।

তাদের আশা, আগামি সময় গুলোতে ভারতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক ভুমিকা রাখতে পারবে আজকের তরুণ সমাজ।

সেই সাথে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হওয়ার দাবি আরো সুগম হতে পারে ভারতের।

তবে, আন্তর্জাতিক গবেষক এবং বিশ্লেষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। 

কারণ, এতো সংখ্যক তরুণের জন্য ভবিষ্যতে দেশটির সরকারকে বড় পরিসরের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। যা দিল্লী প্রশাসনের জন্য সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। 

কর্মসংস্থানের অভাবে প্রতি বছরই মোট জনসংখ্যার বড় একটি অংশ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাড়ি জমায়।

যাদের বেশির ভাগই জীবিকার সন্ধানে গ্রাম হতে শহরের উদ্দেশ্যে গিয়ে থাকে। কারণ, গ্রামের তুলনায় শহরে চাকুরির পরিমান অনেক বেশি। 

গ্রামাঞ্চলের নিন্ম মজুরির কাজ করে তিন বেলা খেয়ে পরে জীবিকা নির্বাহ করা যায় না।

এর কারণ, চীনের মতো ভারতীয় অর্থনীতি অতটা সমৃদ্ধ এবং বৃহত্তর নয়। যেখানে উভয় দেশের জনসংখ্যাই প্রায় কাছাকাছি।

ভারতীয় অর্থনীতি এবং সমাজবিদরা বলছেন, ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে মাত্র ১০ শতাংশ নারী কর্মসংস্থানের সু্যোগ পেয়েছিলেন।

যেদিকে একই সময়ে চীনের প্রায় ৬৯ শতাংশ নারী বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। যা ভারতের প্রায় সাত গুণের কাছাকাছি।

তাই, নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ ভারত সরকারকে এখন থেকেই বৃদ্ধি করা উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমানে পূর্বের তুলনায় ভারতে মৃত্যুর হার অনেকটাই কমেছে। পাশাপাশি বৃদ্ধি পেয়েছে গড় বয়স এবং আয়ু। 

ভারত বিভক্তির আগে দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় পাঁচ শতাংশ মানুষ ছিল ষাট বছর বয়সি।

বর্তমানে দেশটিতে ষাট বছর বয়সি মানুষের পরিমান মোট জনসংখ্যার প্রায় দশ শতাংশ। যা পুর্বের তুলনায় পাঁচ শতাংশ বেশি। ভবিষ্যতে এই হার আরো বাড়বে।

কেননা দেশটির বেশির ভাগ নাগরিকই এখন তরুণ বয়সী। সময় বৃদ্ধির সাথে সাথে তরুণ সমাজ সবথেকে  বড় এবং বৃদ্ধ জনগোষ্ঠিতে পরিণত হবে।

ফলে, দেশটিতে এক সময় বেকার মানুষের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে,। তখন অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 
 









 



জনপ্রিয়