আজকের খবর


সুইডেনে প্রকাশ্যে পোড়ানো হলো কোরআন শরীফ, উত্তাল মুসলিম বিশ্ব


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৫ জানুয়ারি ২০২৩, ০২:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার

সুইডেনে প্রকাশ্যে পোড়ানো হলো কোরআন শরীফ, উত্তাল মুসলিম বিশ্ব

সম্প্রতি সুইডেনে ঘটেছে পবিত্র কোরআন শরীফ পোড়ানোর মতো জঘন্য ঘটনা। এমন ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে তুরস্ক সহ মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশ। 

রাসমুস পালুদান নামের এক ব্যক্তি ছিলো এমন ঘৃণ্য অপরাধের পেছনে। সুইডেনের স্টকহোমে, তুর্কি দূতাবাসের সামনে মুসলিমদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থে আগুন দেয় সে। 

শুধু কোরআনে আগুন দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি। মুসলিম বিশ্বকে কটাক্ষ করে, প্রবল ইসলামবিদ্বেষী এক বক্তব্যও দেয়। সুইডেনের অভিবাসন নীতিকে ইঙ্গিত করে, দিয়েছে অশ্রাব্য গালি।

রাসমুস মূলত ডেনমার্কের কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দল "হার্ড লাইনের" নেতা। ইসলাম ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ সৃষ্টি করে, বারে বারেই আলোচনায় এসেছেন উগ্র এই ব্যক্তি।

এর আগেও পবিত্র রমজান মাসে কোরআন শরীফ পোড়ানোর সফরে নামে পালুদান। এমন ঘোষণা দিয়ে তখন চরম বিতর্কের মুখে পড়েন তিনি। কর্মসূচিকে ঘিরে সুইডেনে ভীষণ দাঙ্গাও হয় তখন।

পুনরায় একই কাজ করার সময়, তার পাশে ছিলো শতাধিক সমর্থক। এমনকি অনেক পুলিশও ঘিরে ছিলো তাকে। পুলিশি বেষ্টনীর মাঝে দাঁড়িয়ে এমন জঘন্য কাজের ঘটনা বিস্মিত করেছে সবাইকে।

ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার প্রতিবাদে তাই সরব হয়েছে মুসলিম বিশ্ব। তুরস্ক, সৌদি আরব, জর্ডান এবং কুয়েতের সাথে নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।

নিন্দনীয় এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায়, তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়। 

এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে, সারাবিশ্বের মুসলিমদের পবিত্র মূল্যবোধের অবমাননার ঘটনায়, বাংলাদেশ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন

তবে এ ব্যাপারে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে ভুলেনি সুইডেন। দেশটির 'Free speech law' অনুযায়ী, সকলেরই রয়েছে যেকোনো মত প্রকাশের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা। 

রাসমুস পালুদানের ঘটনাটি নিন্দনীয় ও অসমর্থনযোগ্য হলেও, কাজটি যে দেশটির আইনবিরোধী নয়, বক্তব্যে এমন ইঙ্গিতই দেয় সুইডিশ সরকার। 

প্রত্যুত্তরে তুরস্ক জানায়, একটি ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ পোড়ানোর ঘটনা কখনোই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নয়। এটি মূলত একটি ধর্মবিদ্বেষী কাজ।

তুরস্কের পর, সৌদি আরবও এক বিবৃতিতে এ ঘটনার প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করে। চরমপন্থা ও ঘৃণাকে প্রত্যাখ্যান করে, সকলকে পরমতসহিষ্ণু হবার আহ্বান জানায় দেশটি।

এদিকে এ ঘটনার জেরে, বেশ বিপাকে পড়েছে সুইডেন। কারন, ন্যাটোর সদস্যপদ পেতে চেষ্টা করছে দেশটি। তবে পুরোনো সব সদস্যের সমর্থন ব্যতীত, কোনো নতুন দেশই ন্যাটোর সদস্য হতে পারে না।

তাই এই সামরিক জোটের সদস্য হতে চাইলে, অবশ্যই তুরস্কের সমর্থন প্রয়োজন সুইডেনের। খুব শীঘ্রই এই ব্যাপারে দু'দেশের বৈঠকে বসার কথা।

কিন্তু, কোরআন পোড়ানোর প্রতিবাদে ইতোমধ্যেই সুইডিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর, একটি আসন্ন সফর বাতিল করেছে তুরস্ক। 

যে ব্যক্তির কারণে এত সব ঘটনার সূত্রপাত, সেই রাসমুস পালুদান পেশায় একজন আইনজীবী। এর আগে ২০২০ সালে কোরআন পোড়ানোর অপরাধে দু'বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলো সে। 

পরবর্তীতে বাবার সূত্র ধরে আবারও সুইডেনের নাগরিকত্ব পায়। এবারে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করে তোপের মুখে পড়েছেন। সুইডেনের এ ঘটনার আঁচ পড়েছে তুরস্কেও। 

তুরস্কে অবস্থিত সুইডিশ দূতাবাসের সামনে সম্প্রতি বিক্ষোভ করেছে সাধারণ জনতা। পোড়ানো হয় রাসমুস পালুদানের ছবি। 

ডানপন্থী নেতার এমন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে, সুইডেনের দূতাবাসে একটি স্মারকলিপিও জমা দিয়েছে তারা।




জনপ্রিয়