আজকের খবর


চা বিক্রি করে কোটিপতি এমবিএ চাওয়ালা


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৫ জানুয়ারি ২০২৩, ০৩:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার

চা বিক্রি করে কোটিপতি এমবিএ চাওয়ালা

চা বিক্রি করে কোটিপতি ২৭ বছর বয়সী ভারতীয় যুবক প্রফুল বিল্লোর। চায়ের দোকান থেকেই বছরে তিনি আয় করেন চার কোটি রুপিরও বেশি।

ভারতের মধ্যপ্রদেশের কৃষক পরিবারে জম্ম নেয়া প্রফুল, এক সময় স্বপ্ন দেখতে নামীদামী কোনো বিজনেস স্কুল থেকে এমবিএ করার।

যাতে, পাস করার পর ভালো বেতনের চাকরি করে নিজের এবং পরিবারের অবস্থার উন্নতি করতে পারেন।

সেই লক্ষ্যে, ভালো বিজনেস স্কুলে সুযোগ পাওয়ার আশায় ভর্তি পরিক্ষা দিতে শুধু করেন। কিন্তু, দিনে দশ ঘন্টা করে পড়াশোনা করেও টানা তিনবার ভর্তি পরিক্ষা দিয়ে পাস করতে ব্যর্থ হন।

টানা ব্যর্থতায় ভেঙ্গে পড়েন প্রফুল। কোনো কিছুতেই মনঃসংযোগ করতে পারছিলেন না। নিজের স্বপ্ন শেষ হয়ে যাওয়ায় কি করবেন সেটাই বুঝতে পারছিলেন না।

কিছুদিন ঘুরাঘুরি করার পর একটি প্রতিষ্ঠানে এমবিএ করার সুযোগ পেয়ে ভর্তি হন সেখানে।

কয়েকদিন ক্লাস করার পর তার মনে হলো, পড়াশুনো শেষ হলেও ভালো বেতনের চাকরি পাওয়ার তো কোনো নিশ্চয়তা নেই।

তাই এমবিএ করা বাদ দিয়ে নিজেই ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু নিজের কাছে কোনো টাকা না থাকায় বুঝে উঠতে পারছিলেন না কি ব্যবসা করবেন।

কিছুদিন পর ম্যাকডোনাল্ডের আউটলেটে চাকরি করা শুরু করেন তিনি। এবং সেখানে কাজ করার সময় সিদ্ধান্ত নেন চায়ের দোকান দিবেন।

যেই ভাবা সেই কাজ, বাবার কাছ থেকে পড়াশুনার খরচের কথা বলে ৮০০০ রুপি নিলেন। সেই টাকায় কিনলেন চায়ের কেটলি, কাপ, ট্রে এবং চা তৈরির কাঁচামাল।

এরপর রাস্তায় বসে চা বিক্রি করা শুরু করে দেন প্রফুল। প্রথমদিনই সেখান থেকে আয় করলেন তিনশো রুপি। ভালো সাড়া পেয়ে চিন্তা করতে থাকলেন কিভাবে ব্যবসা আরো বড় করা যায়।

বিভিন্ন ভাবে কাস্টমারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করতেন তিনি। প্লাস্টিকের কাপের বদলে মাটির কাপে চা দেয়া।

বাচ্চাদের জন্য বিভিন্ন গেম খেলার ব্যবস্থা, লুড়ু সহ বিভিন্ন রকমের বিনোদনের ব্যবস্থা করেন কাস্টমারদের জন্য।

এমনকি, দোকানে ব্ল্যকবোর্ড রেখে যাদের কোনো কর্মচারী দরকার হতো, তাদের বোর্ডে লিখে রাখতে বলতেন। সেটা দেখে যাদের চাকরীর দরকার তারা আবেদন করতো।

আবার মাঝে মাঝেই বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে ফ্রি টি ইভেন্টের আয়োজন করতেন। সেই সাথে ইংরেজিতে কথা বলায় ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকেন প্রফুল।

কিন্তু এক সময় আশেপাশের চা দোকানদাররা তাকে সেখান থেকে তুলে দেন। কিছুদিন ব্যবসা বন্ধ থাকলেও কাস্টমার নিজে থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুঁজে বেন করেন তাকে।

এরপর আবার নতুন করে দোকান দেন তিনি। দোকানের নাম দেন মি. বিল্লোর আহমেদাবাদ। কিন্তু কাস্টমারদের দোকানের নাম উচ্চারন করতে সমস্যা হওয়ায় পরবর্তীতে সংক্ষেপ করে নাম রাখেন এমবিএ চাওয়ালা।

ধীরে ধীরে নিজের ব্যবসার পরিধি বাড়াতে থাকেন প্রফুল। আহমেদাবাদের একটি দোকান থেকে মাত্র দুই বছরে নিজের ব্র্যান্ড গড়ে তুলেন তিনি।

আজ তার চায়ের দোকানের ৫০ টিরও বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি রয়েছে পুরো ভারত জুড়ে। প্রতিদিন যেখান থেকে তার আয় হয় প্রায় দেড় লাখ রুপি।

চায়ের দোকান থেকেই বছরে মুনাফা আসে ৪ কোটি রুপিরও বেশি। বর্তমানে প্রায় ত্রিশ মিলিয়ন ডলারের মালিক প্রফুল।

অথচ, শুরুতে তাকে পার করতে হয়েছে অনেক চড়াই উতরাই। এমনকি, পরিবারের লোকজন থেকে শুরু করে আত্মীয় স্বজন সবার কটাক্ষও শুনতে হয়েছে।

কিন্তু কঠোর পরিশ্রম, দৃঢ়তা এবং ইচ্ছাশক্তির কল্যানে ঠিকই সফলতা লাভ করেছেন প্রফুল।

এক সময় যেই সব বিজনেস স্কুলে পড়ার স্বপ্ন দেখতেন, এখন সেই প্রতিষ্ঠান গুলোতে নিজের সফলতার গল্প শুনানোর জন্য ডাক পড়ে তার।

জনপ্রিয়