আজকের খবর


বিশাল এয়ারবাস বিমান কেন ইচ্ছা করে সাগরে ডুবিয়েছে তুরস্ক?


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৬ জানুয়ারি ২০২৩, ০৩:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

বিশাল এয়ারবাস বিমান কেন ইচ্ছা করে সাগরে ডুবিয়েছে তুরস্ক?

সমুদ্রের নিচে পড়ে আছে ১৭৭ ফুট দৈর্ঘের সম্পুর্ণ আস্ত একটি বিমান। 

বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, বিশাল আকারের এই এয়ারবাস বিমানটি কোন দুর্ঘটনার কারণে সমুদ্রে পড়েনি। বরং এটিকে পরিকল্পিত ভাবে ইচ্ছা করেই সাগরের নিচে ডুবিয়ে দিয়েছে তুরস্কের সরকার। 

তুরস্কের আয়দিন প্রদেশে রয়েছে 'কুসাদাসি' নামের একটি রিসোর্ট টাউন। এখানেই সমুদ্রের অতল গভীরে ডুবে আছে এয়ারবাস জাম্বু জেট মডেলের বিমান, যেটির দৈর্ঘ ১৭৭ ফুট এবং ডানার চওড়া ১৪০ ফুটের বেশি। 

বিশালাকার এই বিমান আকাশে উড়ে বেড়ায় শত শত যাত্রী নিয়ে, মাটি থেকে ৩০ হাজার ফুট উচ্চতায় ছুটে চলে পাখির মতো। 

কিন্তু তুরস্কের সরকার এয়ারবাস জাম্বু জেটটিকে ডুবিয়ে দিয়েছে সাগরের অতল গভীরে। আকাশে উড়ার বদলে কয়েক বছর ধরেই এটি স্থির হয়ে আছে শত শত ফুট পানির নিচে।  

সমুদ্রের নিচের পরিত্যাক্ত এই বিমানের কথা শুনে বিস্মিত হন অনেকে। তাদের মনে প্রশ্ন জাগে, ঠিক কী কারনে এরকম একটি বিমান ইচ্ছা করে ডুবিয়ে দিলো তুরস্কের সরকার।  কেউ কেউ ধারণা করে বসেন পাগলামি হিসেবেও।  

তবে আসলে এটা কোন পাগলামি কিংবা খাম খেয়ালী নয়, সাগরের নিচে এরকম একটি বিমান ঢুবিয়ে দেওয়ার পিছনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। 

পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর দেশ তুরস্ক, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক দিয়ে দেশটির কোন তুলনা পাওয়া কঠিন। প্রতিবছর  লাখ লাখ পর্যটক ভ্রমণ করেন দেশটিতে, এর মধ্যে সিংহভাগই হয়ে থাকেন ইউরোপীয় পর্যটক। 

গত দশকের মাঝামাঝি সময়ে বিভিন্ন কারণে তুরস্কের পর্যটন খাতে কিছুটা ভাটা পড়ে গিয়েছিলো।  তাই দেশটির কর্তৃপক্ষ ভাবছিলো কিভাবে এই খাত থেকে আরো বেশি আয় করা যায়। 

এই উদ্দেশ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ হাতে নিয়েছিলো তারা। এসব উদ্যোগেরই ছোট্ট এক অংশ ডুবিয়ে দেয়া এই বিমানটি। 

তুরস্কের আয়দিন প্রদেশে অবস্থিত অনিন্দ সুন্দর এক শহর কুসাদাসি। এখানে পর্যটকদের আরো বেশি আকৃষ্ট করতে এয়ারবাস জাম্বু জেট টিকে ডুবিয়ে দেয়া হয় পানির নিচে। 

এখন পর্যন্ত তুরস্কের এই ডুবন্ত পরিত্যক্ত বিমানকে বিবেচনা করা হয় পানির নিচে পড়ে থাকা বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমান। 

বিভিন্ন দুর্ঘটনার কারনে সাগরের নিচে আরো অনেক বিমান পড়ে আছে। তবে তুরস্কের ইচ্ছা করে ডুবিয়ে দেয়া এই বিমান সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে নেটিজেনদের।  

১৭৭ ফুট লম্বা এই বিমানের ওজন প্রায় ৪৭ টনের কাছাকাছি। সাগরের পানিতে ডুবিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে এটি ক্রয় করে তুরস্কের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। 

 এতে তাদের খরচ হয় প্রায় তিরানব্বই হাজার মার্কিন ডলার। বর্তমান বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ কোটি টাকার কাছাকাছি।

২০১৬ সালে এই এয়ারবাস বিমানটি ডুবানো হয়েছিলো পানির নিচে। এজন্য কাজে লাগানো হয়েছিলো বিশাল বিশাল কয়েকটি ক্রেন। 

এছাড়া ডাইভারদের সহায়তায় বিশাল বিমানটির স্থান হয় সাগরের অতল গভীরে। ১৭৭ ফুট বিমামটি সম্পূর্ণ ডুবতে সময় লেগেছিলো আড়াই ঘন্টা থেকেও বেশি। 

বর্তমানে কুসাদাসি উপকূলের প্রায় ৭৫ ফুট পানির নিচে পড়ে আছে বিশালাকার এই বিমান। পর্যটকরা স্কুভা ডাইভিং এর মাধ্যমে চড়তে পারেন সাগরের নিচে থাকা পরিত্যক্ত এই বিমানটিতে। 

এছাড়া বিমানের কারণে আকৃষ্ট গভীর সমুদ্রের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। 

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য নানা ধরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সাগরের নিচে গড়ে তোলা হয়েছে নানা রকম স্থাপনা। তবে এতো বিশাল বিমান ডুবিয়ে দেয়ার সাহস তুরস্কই দেখিয়েছে একমাত্র। 

প্রিয় দর্শক,  বাংলাদেশেও রয়েছে দীর্ঘ সমুদ্র উপকূল, তুরস্কের মতো বাংলাদেশেও এমন পানির নিচে বিমান দেখার সুযোগ থাকলে কেমন হতো? জানাতে পারেন কমেন্ট বক্সে








জনপ্রিয়