আজকের খবর
আগামী বছরেই জাহাজে করে মক্কায় যেতে পারবেন বাংলাদেশের হাজীরা! কমবে খরচ
এবার জাহাজে করে স্বল্প ব্যায়ে মক্কায় যেতে পারবেন বাংলাদেশের হাজীরা। এতে সময় লাগবে মাত্র দশ দিন। আর খরচ কমবে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা।
হজযাত্রার জন্য, সমুদ্রপথে জাহাজ নামাতে চায় কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড। যেখানে মাত্র ছয় লক্ষ টাকা খরচ করেই, একজন হাজী মক্কায় হজ করতে যেতে পারবেন।
সমুদ্রপথে যাওয়া আসা ও হজপালন সহ, যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করতে, একজন হাজীর সময় লাগবে মাত্র ৩৭ দিন।
২০২৩ সালের প্যাকেজ অনুযায়ী, সরকারিভাবে বিমানপথে গিয়ে হজ করতে খরচ হবে প্রায় সাত লাখ টাকা। আর বেসরকারীভাবে সেই খরচ ৬ লাখ ৭২ হাজার ৬১৮ টাকা।
হিসাব করে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় হজ পালনের খরচ ২৯ শতাংশ বা প্রায় দেড় লাখ টাকা বেড়েছে।
বিমান পথে খরচ এতো বেশি হলেও, সমুদ্রপথে হজ যাত্রায় একজন হাজী, প্রায় এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা বাচাতে পারবেন।
কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাঁদের টার্গেট আগামী মৌসুম থেকেই যাত্রী আনা নেওয়া করা। খরচ কমে আসায় মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের পক্ষ থেকে, ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
এরই অংশ হিসেবে, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ব্যাপারে গত ২৯ শে জানুয়ারি সচিবালয়ে আলোচনাও হয়েছে।
সরকার এ ব্যাপারে ইতিবাচক রয়েছে। তবে সৌদি আরব সরকার অনুমতি দিবে কি না, সেটা এখনো নিশ্চিত না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দপ্তর থেকে অনুমতি পাওয়া গেলে, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সৌদি আরব সরকারের কাছে প্রস্তাবটি পাঠানো হবে। আর সৌদি আরব রাজি হলে অন্যান্য প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সবকিছু ঠিকঠাক এগুলে, কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স চার হাজার যাত্রী ধারণ ক্ষমতার একটি নতুন জাহাজ কিনবে। যা কিনতে তাঁদের খরচ পড়বে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।
শুধুমাত্র হজের যাত্রীদের জন্যই নয়, পর্যটকদের জন্যও জাহাজটি চলাচল করবে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়াসহ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে।
আশির দশকে বাংলাদেশ থেকে জাহাজে করে সৌদি আরবে যেতেন হজযাত্রীরা। তখন জাহাজে করে যেতে–আসতে সময় লাগত তিন মাস। একপর্যায়ে তা বন্ধ হয়ে যায়।
আবার নতুন করে জাহাজে হজযাত্রা অনুমোদন পাবে কি না, এ ব্যাপারে পক্ষে ও বিপক্ষে নানা মত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
অনেকেই বলছেন, বিমান খরচ অনেক বেশি। সে তুলনায় জাহাজে গেলে খরচ কমে আসায়, সবচেয়ে বেশি আগ্রহী হবেন মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষেরা।
অনেকেই আছেন যারা আল্লাহর ঘরে যেতে চান। তবে সামর্থ্য না থাকায় তাঁরা যেতে পারেন না। তাঁদের জন্য এবার জাহাজে হজ পালন করা সহজ হবে।
এছাড়াও সমুদ্রপথের যাত্রা স্বস্তিদায়ক হওয়ায়, অনেকেই জাহাজে ভ্রমণে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তবে জাহাজ যাত্রার বিপক্ষেও বলছেন কেউ কেউ।
জাহাজের ক্ষেত্রে বিমান যাত্রার চেয়ে সময় বেশি লাগবে দশ গুন। যেখানে ২৪ ঘন্টায়ই বিমানে সৌদি আরব পৌঁছানো যায়, সেখানে জাহাজে যেতে লাগবে দশ দিন।
সমুদ্রপথে এতো দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি হাজীরা নিতে পারবে কি না, সেটাও একটা বিষয়। কেউ অসুস্থ হয়ে গেলে এর দায়ভার কে নিবে, এ নিয়ে দেখা দিবে বিরাট প্রশ্ন।
তাছাড়া, নৌপথে ইমিগ্রেশন কোথায় হবে, সেটাও আলোচনার বিষয়। সবচেয়ে বড় কথা, সৌদি আরবে জাহাজ পরিচালনা করতে হলে, সবার আগে চুক্তি করতে হবে সৌদি সরকারের সাথে।
এখন জাহাজে করে সমুদ্রপথে হজ যাত্রার পুরো ব্যাপারটি ঝুলে আছে, দুই দেশের সরকারের স্বদিচ্ছার উপর।
.jpg)
.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)