আজকের খবর
নকল কাবা শরীফ বানাচ্ছে সৌদি, থাকবে বিনোদনের ব্যবস্থা
এবার কাবা শরীফের অনুকরণে নতুন এক শহর তৈরির ঘোষণা দিলেন যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান। প্রস্তাবনার পরপরই যা নিয়ে শুরু হয়েছে বড় রকমের বিতর্ক আর আলোচনা।
নতুন এই প্রকল্পের পুরোটাই হবে দেশটির রাজধানী রিয়াদে। প্রায় ১৯ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে নেয়া হয়েছে পুরো পরিকল্পনা। ঢেলে সাজানো হবে সবকিছুই।
আর এর কেন্দ্রে থাকবে “দ্য মুকাব”। যার গঠন অবিকল কাবা ঘরের মত ঘনক আকারের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নিয়ে আলোচনাও হচ্ছে বিস্তর।
বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শহর হিসেবে রিয়াদকে উপস্থাপন করা, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। আর এর সবটাই হবে মুকাব নামের সেই বিশেষ স্থাপনা ঘিরে। গঠন বিবেচনায় এটিও হবে কাবা ঘরের মতোই ঘনক আকারের।
দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতায় ৪০০ মিটারের এই স্থাপনায় থাকবে সর্বাধুনিক সব প্রযুক্তির ছোঁয়া। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, মুকা’ব হবে আধুনিক বিশ্বের উচ্চতম ভবনের একটি।
মূলত সৌদি আরবকে, আধুনিকায়ন এবং জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর অর্থনীতি থেকে বের করে এনে, নতুন এক অর্থনৈতিক পরাশক্তি করে তোলার কাজ করে চলেছেন, ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। যার এক নতুন পদক্ষেপ হতে চলেছে এই মুকাব।
পুরো প্রকল্পের যাবতীয় খরচ করবে ‘নিউ মুরাবা ডেভলাপমেন্ট কোম্পানি’। আর এর চেয়ারম্যান থাকবেন স্বয়ং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। দায়িত্ব নিয়েই যুবরাজ বলেন, এই প্রকল্পের মূল কাজই হবে, ‘রিয়াদকে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক শহর” হিসেবে গড়ে তোলা।
পায়ে হাঁটা দূরত্বে পর্যটকদের জন্য, সবরকম সুবিধা দিতে সক্ষম হবে নতুন শহর। প্রকল্পের অধীনে একটি জাদুঘর, একটি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি থিয়েটার সহ, ৮০টির বেশি বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
নেট দুনিয়ায় মুকাব নিয়ে হইচই এর বড় কারণ এর নাম এবং গড়ন। আরবি ‘মুকাব’ শব্দের ইংরেজি সমার্থক শব্দ ‘কিউব’। বাংলায় যা ‘ঘনক’।
মুসলমানদের পবিত্র স্থাপনা ‘কাবা’ শব্দের অর্থও একই। সৌদির বুকে একই অর্থ আর একই গড়নের এমন আরেকটি ভবনের ঘোষণায়, তাই ক্ষিপ্ত অনেক মুসলমান।
তবে সৌদি সরকারের পরিকল্পনায় এমন বিতর্কের কোনো স্থান দেয়া হয়নি। বরং প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধুমাত্র জায়গার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই, ঘনক আকারের স্থাপনা নির্মাণে আগ্রহী তারা।
২০ টি এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং ধারণে সক্ষম এই মুকাবকে, ‘অন্যজগতের প্রবেশদ্বার” বলে আখ্যা দিয়েছে সৌদি আরব। এক স্থানেই লক্ষাধিক পর্যটকের আবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছে তারা।
পুরো প্রকল্পের আয়তন ঠিক কত বড় হবে, তারও একটি খসড়া পরিকল্পনা জানিয়ে রেখেছে সৌদি সরকার। নিউ মুরাবার এই প্রকল্পে ২৫ মিলিয়ন বর্গ মিটার মেঝে তৈরি করা হবে।
এরমাঝে ৯ হাজার হোটেল রুমে ১০ লাখের বেশি মানুষের থাকার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে প্রকল্পটি। এর বাইরে ৯ লাখ ৮০ হাজার বর্গ মিটার জুড়ে শপিং মল রাখা হবে। প্রায় ১.৪ মিলিয়ন বর্গমিটার জুড়ে থাকবে দাপ্তরিক স্থাপনা।
নিউ মুরাবা এবং মুকাব সংলগ্ন পুরো জায়গা ঘুরে দেখার জন্য, ১৫ মিনিটের পায়ে হাঁটা রাস্তা তৈরি করা হবে। এছাড়াও থাকবে এর নিজস্ব পরিবহণ ব্যবস্থা।
পুরো অঞ্চলকে বায়ুদূষণ থেকে মুক্ত রাখতেও সচেষ্ট সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া রিয়াদের এয়ারপোর্ট থেকে, মাত্র ২০ মিনিটে পর্যটকদের মুকাবে পৌঁছে দেয়ার জন্য থাকবে আলাদা ব্যবস্থা।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে, সৌদি আরবের অর্থনীতিতে ১৮০ বিলিয়ন রিয়াল যুক্ত হবে। এছাড়াও এর ফলে, ৩ লাখ ৩৪ হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)